বিদ্যূত লাইন ও আমনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
পেকুয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের
পেকুয়া উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে জনবসতি, দোকানপাট ও বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পেকুয়ায় এখনো পর্যন্ত বিদ্যূত সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গাছ উপড়ে পড়ে খুটি ভেঙে গেছে, তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২৯ এপ্রিল উপজেলা সদরে সাময়িক বিদ্যূত সরবরাহ দেয়া হলেও ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যূত সরবরাহ এখনো সম্ভব হয়নি কখন সম্ভব হবে তার নিশ্চিত করতে পারছেনা পেকুয়া পল্লী বিদ্যুত সাব স্টেশন।
আমন ধান কাটা শুরু হলেও বেশিরভাগ মাঠেই রয়েগেছে। ঝড়ো বাতাসে ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক কাটাধান ঘরে আনতে পারেনি। রাবারড্যাম ফুলানো থাকায় ধানক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঝড়ো হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মগনামা ইউনিয়নের মহুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছাদেক। তার বসতঘর গোয়াল ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে।
এদিকে ঝড়ে পেকুয়া উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কবির আহমদ চৌধুরী বাজার, চৌমুহনী স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে দোকানপাটের চালা উড়ে গেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
মগনামা ইউনিয়নে চল্লিশ বসতঘর, উজানটিয়ায় তিনটি ও রাজাখালীর উপকূলীয় এলাকাতেও ঝড়ে বহু গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বেশ কিছু বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী জানান, ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন মহুরীপাড়ার ছাদেক, সাতঘর পাড়ার হাজেরা বেগম, ছগিরের বাড়ি ও পাখি বেগমসহ অনেকে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমদাদুল হক শরীফ বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পেয়েছেন। পিআইও অফিস ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারণে কাজ করছে। জরুরি ভিত্তিতে বৃষ্টির পানি নিঃস্কাশনের সুবিধার জন্য মাতামুহুরি নদী ও ভোলার খালের রাবারড্যাম খুলে দিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


















