কি ভয়াল আগ্রাসন -------
দেশের ভূখণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামে মাদক ও জুয়ার ভয়াবহ বিস্তারে সমাজিক নিরাপত্তাহীনতা.

এম. আবদুল্লাহ আনসারী.
দেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ এক সামাজিক ব্যাধি—জুয়া ও মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে বসছে অনলাইন ও অফলাইন জুয়ার আসর। পাড়া মহল্লায় মাদকজাত দ্রব্য সেবনকারীর সংখ্যা এখন কোল্ড ড্রিংকস বা ঠান্ডা পানীয় বেভারেজ পণ্যের গ্রাহকের চেয়ে বেশীই মনে হচ্ছে। বাংলা মদ বা ছোলাই মদ খেয়ে রাস্তায় আর্ধ চেতন বা অবচেতনে পড়ে থাকতে দেখেই অনুমান করাযায় এ রাক্ষসী মাদক সমাজকে ধ্বংসের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।
স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোর থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী ব্যাপক ভাবে মাদক জুয়ায় নেশাগ্রস্থ হয়ে সর্ব শান্ত হয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি করছে। জুয়া ও মাদকের টাকা যোগাড় করতে গিয়ে আশঙ্কাজনক হারে জড়িয়ে পড়ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের মত অপরাধে। জুয়াড়ি ও মাদকাসক্তদের হাতে প্রতিনিয়ত পিতা মাতা ও স্ত্রী নির্যাতনের শিকার হওয়ায় পারিবারিক কলহের ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত ।
মাদকের সহজলভ্যতা ও অনলাইন জুয়ার আসর অনিয়ন্ত্রিত হওয়ায় উঠতি বয়সের ছেলেরা নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ঘটনা সমুহ দেখে শুনে বুঝাযায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে দোকান ও রাস্তার ধারে এমনকি ক্ষেত খামারে জুয়ার আসর প্রকাশ্যে চললেও শক্তিশালী প্রশাসনিক প্রতিকার না থাকায় অভিভাবকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। এবং বিচলিত হয়ে উদ্যোগ প্রকাশ করছে অনেকে।
সমাজে তৈরি হচ্ছে অস্থিরতা, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হয়ে ধ্বংস হচ্ছে নৈতিক মূল্যবোধ।
একদিকে জুয়ায় সর্ব শান্ত হওয়া, অন্যদিকে অপরাধের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নিরীহ জনগণ।
এই সব অপরাধকে বিচ্ছিন্ন ঘটনার বাইরে রেখে একটি গভীর সামাজিক সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিন্তা করার সময় এসেছে বলে সচেতন মহল মনে করেন। জুয়াকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে এক ভয়াবহ অপরাধ চক্র। চুরি ছিনতাই সহ সুদের কারবারে জড়িয়ে দায় দেনার মার পেঁচে আটকে যাচ্ছে অনেক পরিবার।
অনেকে মন্তব্য করছেন , “গাঁজা, ইয়াবা আর জুয়ার ভয়াল ছোবলে আমাদের সমাজ ভেঙে পড়ছে।
উঠতি বয়সের ছেলেরা ধ্বংসের মাঝ পথে হাঁটছে, পরিবারগুলো হচ্ছে সর্ব শান্ত।” তাদের মতে, জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই এখন চুরি-ডাকাতি বা মাদক বেচাকেনায়া জড়িয়ে পড়ছে। জমি জবর দখলে ভাড়ায় গিয়ে মারামারি করছে।
রাস্তার ধারে মদ খেয়ে মাতাল অবস্থায় উঠতি বয়সের ছেলেরা চেতনাহীন ও অর্ধচেতনে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
সচেতন মহল বলছে, “যদি এখনই প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পুরো দেশের সামাজিক কাঠামোই ধ্বংস হয়ে পড়বে। পরিবার, শিক্ষা, নৈতিকতা—সব হারিয়ে যাবে এক ভয়াল অন্ধকারে।”
সমাজের কেউ মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করলেও অনেক অভিভাবক নিজেদের সন্তানের পক্ষ নিলে সামাজিক ভাবে মতবিরোধও সৃষ্টি হচ্ছে।
সামাজিক প্রতিরোধ না হলে প্রশাসনের পক্ষে এবিপর্যয় মোকাবেলা করা সহজ হবেনা বলে ধরে নিয়ে প্রতিনিয়ত বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে থানা প্রশাসন ক্যাম্পিং করেছে। সমাজের প্রতিনিধিরা অভিভাবকদের সতর্ক করছে পারিবারিক ও সামাজিক কঠোরতা ছাড়া মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতা বন্ধ করা যাবে না।
এদিকে, সচেতন মহলের প্রত্যাশা—পুলিশ প্রশাসন প্রান্তিক প্রশাসন ও সমাজের অভিভাবক শ্রেণী অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে মাদক ও জুয়ার ভয়াল আগ্রাসন এখনই দমন না করেন, তাহলে তা পুরো গ্রামীণ সমাজ কাঠামোকে গ্রাস করে ফেলবে।







