| ১৭ মার্চ ২০২৬

পেকুয়ার টইটং পাহাড়ি ছরা থেকে রাতের আধাঁরে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছে আওয়ামীলীগ নেতারা

পেকুয়ার টইটং পাহাড়ি ছরা থেকে রাতের আধাঁরে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছে আওয়ামীলীগ নেতারা

পেকুয়া উপজেলার পাহাড়ী এলাকার প্রবাহিত ছরা থেকে অবৈধ ভাবে মেশিন দিয়ে বালি তুলছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা। সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, উপজেলার টইটং ইউনিয়নের বটতলী হাবিব পাড়া, মালঘারা দুপাড়ায় ১৪টি মেশিন বসিয়ে প্রবাহিত ছরা থেকে বালি তুলে ডাম্প ট্রাক দিয়ে কাচা সড়ক দিয়ে পাচার করায় জন চলাচলের রাস্তা দিয়ে পায়ে হাটা যাচ্ছেনা। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, টইটং বটতলী হাবিব পাড়ার বাসিন্দা ১নং ওয়ার্ড় যুবলীগের সভাপতি মো.হোছন প্রকাশ মাচ্ছন ছেলে আনিচ, মালগারার বাসিন্দা সাবেক ওয়ার্ড় ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ হোছনের ছেলে রেজাউল করিম, আওয়ামীলীগ নেতা মালগারার মৃত দানু মিয়ার ছেলে আবদুল মজিদ, যুবলীগ নেতা ও মালগারার হাজী আবদুর রহমানের ছেলে আজিজুল হক ও হামিদুল হক, যুবলীগ নেতা বর্তমানে বিএনপি পরিচয়ে মৃত উকিল আহমদের ছেলে আবদুল খালেক প্রবাহিত ছরা থেকে মেশিন লাগিয়ে বালি তুলছে। হাবিব পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে আনিচ হামিদুল হক দিনেও মেশিন দিয়ে বালি তুলছে। আনিচ ও হামিদুল হকের কাছে বালি তোলার অনুমতি আছে কিন জানতে চাইলে তারা বলেন, ৪/৫বছর ধরে বালি তুলে আসছেন কোন অনুমতির প্রয়োজন হয়নি এখনও নিইনি।
এদিকে রিজার্ভ বনভূমির ভিতরে জুমপাড়া হাতির ডেরায় যুবলীগ ক্যাডার জুমপাড়ার হাবিবুর রহমানের ছেলে রিদুয়ান, সাহাব মিয়ার ছেলে সাবেক মেম্বার ও ওয়ার্ড় বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, যুবলীগ নেতা জয়নাল কৃত্রিম উপায়ে পাহাড় কেটে গর্তে ফেলে মেশিন দিয়ে বালি তুলে ডিপোর সৃষ্টি করেছে। একই ভাবে প্রবাহিত ছরা থেকে মেশিন বসিয়ে বালি তুলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ তাদের সাথে বনবিভাগের লোকদের আনাগোনা রয়েছে, অসাধু বিট কর্মকর্তাদের সাথে আতাত করে রাতে বালি তুলে ও পাচার করে। উল্লেখ্য বনবিভাগ এসিএফ রেঞ্জকর্মকর্তা সহ হাতির ডেরার বালির ডিপোটি সীলগালা করে দিয়েছিল। বর্তমানে প্রবাহিত ছরা থেকে বালি উত্তোলন করা হলে সীলগালা করা ডিপো থেকে ও ছরা থেকে উত্তোলিত বালি সমান তালে তারা পাচার করছে। স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে বালি উত্তোলনে ছরার বেড়িবাধ ভাঙ্গন ও চলাচলের রাস্তা দিয়ে ভারি যানবাহন চলায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ার অভিযোগ তুললে বালি উত্তোলনকারীরা গনমাধ্যম কর্মীদের সম্মুখে অভিযোগকারীদের অপদস্থ করতে চেষ্টা করে। পরবর্তীতে স্থানীয় সাহাবউদ্দিন নামক এক লোককে গনমাধ্যম কর্মীরা চলে আসার পর অবরোদ্ধ করে রাখলে এলাকায় এরিপোর্ট লিখা পর্যন্ত উত্তেজনা চলছে বলে স্থানীয় অভিযোগকারীরা জানিয়েছে।
অবৈধ বালি উত্তোলনের বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জকর্মকর্তা খালেকুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট জায়গাগুলোতে শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে। এবং টইটং বীট কর্মকর্তাকে জায়গাগুলো ও ব্যক্তিগলোর পরিচয় সনাক্ত করতে বলে দেয়া হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও টইটং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মুহাম্মদ মইনুল হোসেন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েকটি অভিযান ও জব্দ করে মামলা দায়েরের পর এমন অভিযোগ পায়নি শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চকরিয়ায় অপহৃত দোকান কর্মচারী উদ্ধার, অপহরণকারী চক্রের প্রধান গ্রেফতার

পেকুয়ার টইটং পাহাড়ি ছরা থেকে রাতের আধাঁরে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছে আওয়ামীলীগ নেতারা

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং থেকে অপহৃত দোকান কর্মচারী মোহাম্মদ পারভেজকে (১৭) অবশেষে উদ্ধার করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ। দীর্ঘ ১৬ ঘন্টার বিরতিহীন অভিযানে রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকা থেকে অপহরণের প্রধান হোতা নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মতে অপহৃত পারভেজকে বুধবার (১১ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং ছাগীর শাহ কাটা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার (এসআই) ফরিদ হোসেন বলেন, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ স্টেশন হতে বাড়িতে আসার পথে চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকা থেকে মো.পারভেজ নামের ছেলেটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ৬-৭ জন দুবৃর্ত্ত। পরে একটি নাম্বার থেকে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই মোবাইল নাম্বারের সুত্র ধরে রামু উপজেলার দূর্গম পাহাড়ি এলাকা ঈদগড়ে ১৬ ঘন্টার রুদ্ধদার অভিযান শেষে অপহরণের প্রধান হোতা
রামুর ইদগড়ের বাসিন্দা
নুরুল ইসলামকে আটক করা হয় ও পরে তার স্বীকারোক্তি মতে ভিকটিম পারভেজকে চকরিয়ার ডুলহাজারা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মোহাম্মদ পারভেজ চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের কোরবানিয়া ঘোনা এলাকার মনজুর আলমের ছেলে।
পারভেজের বাবা মঞ্জুর আলম জানান, তার ছেলে পারভেজ লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ একটি দোকানে চাকরি করতেন। দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে দুষ্কৃতিকারীরা অপহরণ করে নিয়ে যায়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র পারভেজ কে অপহরণ করে নিয়ে যায়। টানা ১৬ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে রাত ১০ টার দিকে ডুলাহাজারার ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপহরণকারী দলের একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই ।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপহরণের সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার করতে অভিযানে রয়েছে পুলিশ।

২ শতাধিক হাফেজকে পোশাক প্রদান

পেকুয়ায় মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

পেকুয়ার টইটং পাহাড়ি ছরা থেকে রাতের আধাঁরে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছে আওয়ামীলীগ নেতারা

রেজাউল করিম. স্টাফ রিপোর্টার

কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার ২ শতাধিক এতিম শিক্ষার্থীর হাতে জোব্বা তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করা হয়।
বারবাকিয়া মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছারের সভাপতিত্বে উজানটিয়া এএস আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আবুল কালামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের লালখান বাজার অফিসার্স কলোনি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ্ব মাওলানা জে. এম. মনছুর আলম কুতুবী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুজ্জামান মঞ্জু, ফাঁশিয়াখালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আনছার উল্লাহ, মৌলভীবাজার ফারুকীয়া সিনিয়র মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আমিনুর রশিদ এবং টইটং বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পল্লী চিকিৎসক ডা. মোসলেম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাস্টার আমান উল্লাহ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাস্টার মো. নুরুন্নবী, মাস্টার মিজানুর রহমান, আনিছুর রহমান, আব্দুর রহিম ও রেজাউল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রমজান মাসের শুরুতে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় ৩ শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এতিম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত মহৎ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।

ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল – পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

পেকুয়ার টইটং পাহাড়ি ছরা থেকে রাতের আধাঁরে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছে আওয়ামীলীগ নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বান্দরবানের লামায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল। নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য নিরসন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রতীকীভাবে পাঁচটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।

মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলার ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ মোট ১২টি জাতিগোষ্ঠীর অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার আবদুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মিলটন মুহুরী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজা এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আমির হোসেনসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের সময় ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় সেগুলো তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক পরিবারের সদস্যরা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে, যা নারীর আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি এই সহায়তা দিয়ে বেকার ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারবে।

পরে দুপুরে মন্ত্রী লামা উপজেলা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত
উপজেলা পরিষদ মাঠে বান্দরবান, লামা, আলীকদমসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লোকজনের মাঝে বক্তব্য দেন।