| ২৪ জুন ২০২৬

পেকুয়ার টইটং পাহাড়ি ছরা থেকে রাতের আধাঁরে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছে আওয়ামীলীগ নেতারা

পেকুয়ার টইটং পাহাড়ি ছরা থেকে রাতের আধাঁরে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছে আওয়ামীলীগ নেতারা

পেকুয়া উপজেলার পাহাড়ী এলাকার প্রবাহিত ছরা থেকে অবৈধ ভাবে মেশিন দিয়ে বালি তুলছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা। সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, উপজেলার টইটং ইউনিয়নের বটতলী হাবিব পাড়া, মালঘারা দুপাড়ায় ১৪টি মেশিন বসিয়ে প্রবাহিত ছরা থেকে বালি তুলে ডাম্প ট্রাক দিয়ে কাচা সড়ক দিয়ে পাচার করায় জন চলাচলের রাস্তা দিয়ে পায়ে হাটা যাচ্ছেনা। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, টইটং বটতলী হাবিব পাড়ার বাসিন্দা ১নং ওয়ার্ড় যুবলীগের সভাপতি মো.হোছন প্রকাশ মাচ্ছন ছেলে আনিচ, মালগারার বাসিন্দা সাবেক ওয়ার্ড় ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ হোছনের ছেলে রেজাউল করিম, আওয়ামীলীগ নেতা মালগারার মৃত দানু মিয়ার ছেলে আবদুল মজিদ, যুবলীগ নেতা ও মালগারার হাজী আবদুর রহমানের ছেলে আজিজুল হক ও হামিদুল হক, যুবলীগ নেতা বর্তমানে বিএনপি পরিচয়ে মৃত উকিল আহমদের ছেলে আবদুল খালেক প্রবাহিত ছরা থেকে মেশিন লাগিয়ে বালি তুলছে। হাবিব পাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে আনিচ হামিদুল হক দিনেও মেশিন দিয়ে বালি তুলছে। আনিচ ও হামিদুল হকের কাছে বালি তোলার অনুমতি আছে কিন জানতে চাইলে তারা বলেন, ৪/৫বছর ধরে বালি তুলে আসছেন কোন অনুমতির প্রয়োজন হয়নি এখনও নিইনি।
এদিকে রিজার্ভ বনভূমির ভিতরে জুমপাড়া হাতির ডেরায় যুবলীগ ক্যাডার জুমপাড়ার হাবিবুর রহমানের ছেলে রিদুয়ান, সাহাব মিয়ার ছেলে সাবেক মেম্বার ও ওয়ার্ড় বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, যুবলীগ নেতা জয়নাল কৃত্রিম উপায়ে পাহাড় কেটে গর্তে ফেলে মেশিন দিয়ে বালি তুলে ডিপোর সৃষ্টি করেছে। একই ভাবে প্রবাহিত ছরা থেকে মেশিন বসিয়ে বালি তুলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ তাদের সাথে বনবিভাগের লোকদের আনাগোনা রয়েছে, অসাধু বিট কর্মকর্তাদের সাথে আতাত করে রাতে বালি তুলে ও পাচার করে। উল্লেখ্য বনবিভাগ এসিএফ রেঞ্জকর্মকর্তা সহ হাতির ডেরার বালির ডিপোটি সীলগালা করে দিয়েছিল। বর্তমানে প্রবাহিত ছরা থেকে বালি উত্তোলন করা হলে সীলগালা করা ডিপো থেকে ও ছরা থেকে উত্তোলিত বালি সমান তালে তারা পাচার করছে। স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে বালি উত্তোলনে ছরার বেড়িবাধ ভাঙ্গন ও চলাচলের রাস্তা দিয়ে ভারি যানবাহন চলায় রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ার অভিযোগ তুললে বালি উত্তোলনকারীরা গনমাধ্যম কর্মীদের সম্মুখে অভিযোগকারীদের অপদস্থ করতে চেষ্টা করে। পরবর্তীতে স্থানীয় সাহাবউদ্দিন নামক এক লোককে গনমাধ্যম কর্মীরা চলে আসার পর অবরোদ্ধ করে রাখলে এলাকায় এরিপোর্ট লিখা পর্যন্ত উত্তেজনা চলছে বলে স্থানীয় অভিযোগকারীরা জানিয়েছে।
অবৈধ বালি উত্তোলনের বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জকর্মকর্তা খালেকুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট জায়গাগুলোতে শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে। এবং টইটং বীট কর্মকর্তাকে জায়গাগুলো ও ব্যক্তিগলোর পরিচয় সনাক্ত করতে বলে দেয়া হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও টইটং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মুহাম্মদ মইনুল হোসেন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েকটি অভিযান ও জব্দ করে মামলা দায়েরের পর এমন অভিযোগ পায়নি শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পোকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি

পেকুয়ার টইটং পাহাড়ি ছরা থেকে রাতের আধাঁরে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছে আওয়ামীলীগ নেতারা

মনিরুল আমিন.চকরিয়া

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের পোকখালী রেড ক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ২ টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের তালা ভেঙে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান শিক্ষা উপকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন জানান,চোরেরা শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ,প্রজেক্টর, সিসিটিভি ক্যামেরা,ইন্টারনেট রাউটার,ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার সরঞ্জামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে। আজ সকালে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে এসে তিনি দেখতে পান চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ চুরির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক বলেন,এ বিষয়ে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান,একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এতে শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়নি,বরং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পেকুয়ার টইটং পাহাড়ি ছরা থেকে রাতের আধাঁরে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছে আওয়ামীলীগ নেতারা

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

পেকুয়ার টইটং পাহাড়ি ছরা থেকে রাতের আধাঁরে মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছে আওয়ামীলীগ নেতারা

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।