| ৪ মে ২০২৬

জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: ৫০শয্যায় উন্নীত করণ সময়ের দাবী

জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: ৫০শয্যায় উন্নীত করণ সময়ের দাবী

* মাসে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০ হাজার রোগী!

* ৩১ শয্যা হলেও চিকিৎসা দেয়া হয় ৩ গুণ বেশী রোগীকে

* ৩ শিফটে ২৪ ঘন্টা হাসপাতাল চালু থাকলেও লোকবল ১ শিফটেরও নেই।

* হাসপাতালের ৭ টি ওয়ার্ড, ৫০ টি টয়লেট পরিস্কারের জন্য মাত্র ২ জন ক্লিনার!

পেকুয়া উপজেলার ২ লক্ষাধিক মানুষের সরকারি চিকিৎসা সেবার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৯৮ সালে সৌদি সরকারের অর্থায়নে হাসপাতালটি নির্মাণ করেন। পরে এ হাসপাতালটি ২০ শয্যায় উন্নীত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিস্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে আরো ১১ শয্যা বৃদ্ধি করলে হাসপাতালটি ৩১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কালের পরিক্রমায় এ হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ১ থেকে দেড় হাজার রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। বহির্বিভাগ ও আবাসিকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অবকাঠামোগত দিক দিয়ে হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও জনবল কাঠামোর ক্ষেত্রে ৩১ শয্যার লোকবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আর সেখানেও অর্ধেকের বেশী পদ খালী রয়েছে। তারা জানায়, অফিসিয়ালী ৩১ শয্যার হলেও বাস্তবে তার ৩ গুণ বেশী রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে সীমিত সাধ্যের মধ্যেই। তাছাড়া হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা ওয়ার্ড চালু রয়েছে ৬ টি। তৎমধ্যে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টার, শিশু সাধারণ রোগ ওয়ার্ড, শিশু ডায়েরিয়া, পুরুষ, মহিলা, প্রসূতি ওয়ার্ড ও কেবিন রয়েছে।

তথ্যসূত্র জানায়, স্বাস্থ্য বিভাগের জনবল বিধি অনুযায়ী ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার সহ চিকিৎসকের মোট পদ রয়েছে ২০ টি। কিন্তু এসব পদে ৪ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহ মোট চিকিৎসক রয়েছেন ৯ জন। ৪জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদ দিলে চিকিৎসা প্রদান করতে পারেন মাত্র ৫ জন চিকিৎসক। এরমধ্যে ইউনিয়ন সাব-সেন্টারের জন্য ৭ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও তাতে নেই একজন চিকিৎসকও। যার ফলে দিনের পর দিন বন্ধ রয়েছে ইউনিয়ন সাব সেন্টার গুলো। সূত্র জানায়, পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৬ টি সাব-সেন্টার থাকলে সেগুলো প্রায়সময় বন্ধ থাকে। এছাড়াও হাসপাতালে সেবিকার পদ রয়েছে ২৫ টি। কিন্তু সেবিকা আছেন মাত্র ১৬ জন। ৪ টি ওয়ার্ড বয়ের পদের বিপরীতে আছে মাত্র ১ জন। এই একজন ওয়ার্ড বয় দিয়েই নারী, পুরুষ, শিশু ও লেবার ওয়ার্ড সহ সবগুলো ওয়ার্ড ২৪ ঘন্টা চালু রাখতে হয়। রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য মেডিকেল ট্যাকনোলজিষ্ট এর পদ রয়েছে ২ টি। কিন্তু আছেন কেবল ১ জন ট্যাকনোলজিষ্ট। এক্সরে করার জন্য ১জন রেডিওগ্রাফারের পদ থাকলেও সেটি খালী আছে দীর্ঘদিন ধরে। ল্যাব এডেন্ডেন্ট এর পদটিও রয়েছে খালী। মিডওয়াইফের ৪ টি পদের বিপরীতে ৪ জন থাকলেও মাসে গড়ে ১৫০-১৮০ জন ডেলিভারী রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি হাসপাতালের সবচেয়ে বেশী যে বিষয়টি সবার দৃষ্টিকটু হয় সেটি হল পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা। অথচ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ৪ টি পদ থাকলেও নিয়োগ পেয়েছেন মাত্র ২ জন। আর এ দুইজনকেই হাসপাতালের অন্তত ৫০ টি টয়লেট, ৩ তলা ও ৪ তলা দুটি ভবনের ৭টি ফ্লুর, ৬টি ওয়াড সহ অফিসগুলো পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব পালন করতে হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে ৩টি শিফটে মুটামুটি মানের সরকারি চিকিৎসাসেবা দিতে গেলেও অন্তত ২৫ জন সেবিকা, ১৫ জন ক্লিনার ও ১৫ জন ওয়ার্ড বয় প্রয়োজন। যেহুতু হাসপাতালে প্রসূতী বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেশী সেক্ষেত্রে এনএসিইউ ওয়ার্ডটি চালু করা খুবই জরুরী। একজন শিশু বিশেষজ্ঞের অভাবে এই ওয়ার্ডটি চালু করতে না পারায় জন্ম নেয়া অনেক নবজাতকই জরুরী চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।

২০২৫ সালের জুন মাসের চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর হিসাব বিবরনীতে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে ১৮ হাজার ৬৪১ জন নারী, শিশু ও পুরুষ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ইনডোরে অর্থাৎ ওয়ার্ডের বেডে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৫ শত ৬০ জন রোগী। নরমাল ও সিজারিয়ান মিলে ডেলিভারি হয় ১৩৮ জন। তাছাড়া ১ হাজার ৩ শত ৫০ জন মা গর্ভকালীন সেবা নিয়েছেন। জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ১ শত ২৪ জন রোগী। তৎমধ্যে এ্যম্বুলেন্স সেবা নিয়েছেন ২৫ জন রোগী। মাত্র ১ হাজার ৬০০ টাকা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পৌঁছিয়ে দেয়া হয় রোগীকে। ডায়াগনোষ্টিক সেবা নিয়েছেন ২ হাজার ৬ শত ৮৪ জন রোগী। এনসিডি কর্নারে সেবা নিয়েছেন ১ হাজার ৩ শত ৯০ জন রোগী। আই এম সি আই কর্নারে ১৬৩ জন ও রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা নিয়েছেন ৬১ জন। তাছাড়াও চোখের চিকিৎসা নিয়েছেন ৪০১ জন রোগী। উক্ত হিসাবমতে দেখা যায়, ইনডোর আউটডোর মিলিয়ে একজন চিকিৎসক বিগত ১ মাসে ৪ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। পেকুয়া হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার পরিসংখ্যান দেখে সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন এটা কেবল বাংলাদেশ বলেই সম্ভব হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বৈকালিক সেবা চালিয়ে আসলেও কারো কারো আপত্তিতে সেটাও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। পেকুয়া সরকারি হাসাপাতালে অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজী ও ব্লাড ব্যাংক চালু রয়েছে। এক্স-রে সেবা চালু থাকলেও কোন প্রকার এক্স-রে সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়না। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড়ে চিকিৎসারত রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানাযায়, ওয়ার্ড়ের বেডে থাকলেও পর্যাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার না থাকায় রোগীকে জরুরী বিভাগেই গিয়েই চিকিৎসা নিতে হয়। রোগীদের অভিযোগ, এখানে যেসব নার্স রয়েছেন তার রোগীদের সেবা প্রদানে অনীহা প্রকাশ করেন। অনেক সময় রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহারও করে থাকেন। রোগী বেডে কাথরাতে থাকলেও নার্সদের কিছু আসে যায়না। বারবার ধরনা দিয়েও তাদের কাছ থেকে সহজে সেবা নেয়া যায়না বলে আক্ষেপ করেছেন অনেকে। হাসপাতালের টয়লেট অপরিচ্ছন্ন থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফার্মেসীতে গেলে ঠিকমত লোকজন পাওয়া যায়না।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি একটি ৩১ শয্যার হাসপাতাল হলেও আমরা মূলত এর ৩ গুণ বেশী আবাসিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। একজন চিকিৎসক মাসিক গড়ে ৪ হাজার জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। সীমিত সাধ্যের মধ্যে আমাদের সেবার মানসিকতার কোন ত্রুটি নেই। কিন্তু আমাদের লোকবলের সংকটটা তীব্রতর। এভাবে চলতে থাকলে চিকিৎসা সেবা দেয়া খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। চিকিৎসক সহ সকল পদে জনবল চাহিদার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমি মনে করি ৫০ শয্যার অনুমোদন পেলে পেকুয়ার মানুষ আরো উন্নতমানের সেবা ভোগ করতে পারবে।

অপহরণ চক্রের নারী সদস্য আটক

চকরিয়ার অপহৃত ছাত্রী কক্সবাজার থেকে উদ্ধার

জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: ৫০শয্যায় উন্নীত করণ সময়ের দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহৃত শিক্ষার্থী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণ চক্রের নারী সদস্যকে আটক করা হয়।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত এক অপ্রাপ্তবয়স্কা মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার ও জড়িত এক মহিলাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া সাহারবিল এলাকার প্রবাসী শাহা আলমের মাদ্রাসা পড়ুয়া কন্যা জন্নাতুল নাঈম (১৩), গত ২৮/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা হতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। ওই ছাত্রীর পরিবার তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার ভাই শিহাব চকরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী নং-১৫২৯, তারিখ-২৯/০৪/২০২৬ খ্রিঃ দায়ের করে। উক্ত ডায়েরীর আলোকে সন্দেহভাজন লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ফরেস্টর জামাল উদ্দিনের কন্যা তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমাকে কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় হতে আটক করে। তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা প্রথমে ভিকটিম তার হেফাজতে থাকার কথা অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ের পুলিশের অভিযান টিমের সন্দেহ হওয়ায় কক্সবাজার কলাতলী লাইট হাউস এলাকায় শিমার ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম জন্নাতুল নাঈম (১৩)কে উদ্ধার করে। এসময় উক্ত ঘরে থাকা দুজন রাখাইন মেয়ে পালিয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, চকরিয়ার লক্ষ্যারচরের মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা (২৫) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরবর্তীতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়ানো এবং স্বর্ণের চেইন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনার দিন ভিকটিমকে অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় চকরিয়া থানাধীন সাহারবিল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মিজবাউল উলুম মাদ্রাসার গেইটের সামন থেকে কৌশলে মানব পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে এবং কক্সবাজার সদর থানাধীন লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় নিয়ে তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমার ভাড়া বাসায় আটক করে রাখে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ নারী পাচার চক্রের সাথে জড়িত, যারা অপ্রাপ্তবয়স্কা ছাত্রীদের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে যৌন শোষণ ও পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা বিক্রয় করে থাকে।
উদ্ধার অভিযানে ১নং আসামীকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া থানার এফআইআর নং-৪৪, তারিখ- ৩০ এপ্রিল, ২০২৬; জি আর নং-১৬৬, ধারা-মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ এর ৭/৮/১০/১১ মামলা রুজু করা হয়।

পেকুয়ার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক

জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: ৫০শয্যায় উন্নীত করণ সময়ের দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের পেকুয়ার আলোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক হয়েছে।
৩০ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে পেকুয়া থানার একদল পুলিশ মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোয়াখালীর নুরুল কাইয়ুমের ছেলে সোহেল ও তার সহযোগীদের হামলায় ৫জন গুরুতর আহত হয়। আহত পক্ষের মুজাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় সোহেল ও তার সহযোগী ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মামলা নং জিআর ৬৫/২৬ তাং ২৯/০৪/২৬। এমামলার ২ নং আসামী সোহেলকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
মামলার বাদী মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই চক্রটি এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করে আসছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
আহতদের প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। পেকুয়া থানা ও আদালতে বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য মামলা গুলো হল এদিকে আটক সোহেলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলার তথ্য পাওয়া গেছে যার নং সি আর-৪৫১/১৯, জি আর- ৭৯/২০২৪,জি আর-২০২/২৪, জি আর- ২২২/১৮,সি আর-২০৪/২৩, সি আর-১৪৯০/২১।
তিনি পূর্বেও কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রভাবশালী আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় তিনি দ্রুত আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে এসে পূণরায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আলম বলেন, এঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে আটকও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ফের সংঘর্ষেরও আশংকা করে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের স্মরণে ‎স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ‎

জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: ৫০শয্যায় উন্নীত করণ সময়ের দাবী


‎ডেস্ক রিপোর্ট

‎১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূল অঞ্চলে নিহতের স্মরণে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পেকুয়া উপজেলা লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এ স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

‎এ সময় নিহতদের স্মরণে স্মৃতিচারণ করেন, লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির যুগ্ন আহবায়ক এম আজম উদ্দিন, সদস্য সচিব দেলওয়ার হোসাইন, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক বারবাকিয়া উপশাখার ক্যাশ ইনচার্জ জিল্লুল করিম।

‎নিহতদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।

‎এসময় স্থানীয় মুসল্লী ও নানান শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’ লণ্ডভণ্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় পুরো উপকূল। স্মরণকালের ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৬ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। মারা যায় ২০ লাখ গবাদি পশু। প্রায় এক কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। ক্ষতি হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।