| ১৭ মার্চ ২০২৬

জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: ৫০শয্যায় উন্নীত করণ সময়ের দাবী

জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: ৫০শয্যায় উন্নীত করণ সময়ের দাবী

* মাসে চিকিৎসা নিয়েছেন ৩০ হাজার রোগী!

* ৩১ শয্যা হলেও চিকিৎসা দেয়া হয় ৩ গুণ বেশী রোগীকে

* ৩ শিফটে ২৪ ঘন্টা হাসপাতাল চালু থাকলেও লোকবল ১ শিফটেরও নেই।

* হাসপাতালের ৭ টি ওয়ার্ড, ৫০ টি টয়লেট পরিস্কারের জন্য মাত্র ২ জন ক্লিনার!

পেকুয়া উপজেলার ২ লক্ষাধিক মানুষের সরকারি চিকিৎসা সেবার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ১৯৯৮ সালে সৌদি সরকারের অর্থায়নে হাসপাতালটি নির্মাণ করেন। পরে এ হাসপাতালটি ২০ শয্যায় উন্নীত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিস্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে আরো ১১ শয্যা বৃদ্ধি করলে হাসপাতালটি ৩১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কালের পরিক্রমায় এ হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ১ থেকে দেড় হাজার রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। বহির্বিভাগ ও আবাসিকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, অবকাঠামোগত দিক দিয়ে হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও জনবল কাঠামোর ক্ষেত্রে ৩১ শয্যার লোকবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আর সেখানেও অর্ধেকের বেশী পদ খালী রয়েছে। তারা জানায়, অফিসিয়ালী ৩১ শয্যার হলেও বাস্তবে তার ৩ গুণ বেশী রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে সীমিত সাধ্যের মধ্যেই। তাছাড়া হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা ওয়ার্ড চালু রয়েছে ৬ টি। তৎমধ্যে ১০ শয্যা বিশিষ্ট ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টার, শিশু সাধারণ রোগ ওয়ার্ড, শিশু ডায়েরিয়া, পুরুষ, মহিলা, প্রসূতি ওয়ার্ড ও কেবিন রয়েছে।

তথ্যসূত্র জানায়, স্বাস্থ্য বিভাগের জনবল বিধি অনুযায়ী ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার সহ চিকিৎসকের মোট পদ রয়েছে ২০ টি। কিন্তু এসব পদে ৪ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহ মোট চিকিৎসক রয়েছেন ৯ জন। ৪জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদ দিলে চিকিৎসা প্রদান করতে পারেন মাত্র ৫ জন চিকিৎসক। এরমধ্যে ইউনিয়ন সাব-সেন্টারের জন্য ৭ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও তাতে নেই একজন চিকিৎসকও। যার ফলে দিনের পর দিন বন্ধ রয়েছে ইউনিয়ন সাব সেন্টার গুলো। সূত্র জানায়, পেকুয়া উপজেলার ৭ ইউনিয়নের মধ্যে ৬ টি সাব-সেন্টার থাকলে সেগুলো প্রায়সময় বন্ধ থাকে। এছাড়াও হাসপাতালে সেবিকার পদ রয়েছে ২৫ টি। কিন্তু সেবিকা আছেন মাত্র ১৬ জন। ৪ টি ওয়ার্ড বয়ের পদের বিপরীতে আছে মাত্র ১ জন। এই একজন ওয়ার্ড বয় দিয়েই নারী, পুরুষ, শিশু ও লেবার ওয়ার্ড সহ সবগুলো ওয়ার্ড ২৪ ঘন্টা চালু রাখতে হয়। রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য মেডিকেল ট্যাকনোলজিষ্ট এর পদ রয়েছে ২ টি। কিন্তু আছেন কেবল ১ জন ট্যাকনোলজিষ্ট। এক্সরে করার জন্য ১জন রেডিওগ্রাফারের পদ থাকলেও সেটি খালী আছে দীর্ঘদিন ধরে। ল্যাব এডেন্ডেন্ট এর পদটিও রয়েছে খালী। মিডওয়াইফের ৪ টি পদের বিপরীতে ৪ জন থাকলেও মাসে গড়ে ১৫০-১৮০ জন ডেলিভারী রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি হাসপাতালের সবচেয়ে বেশী যে বিষয়টি সবার দৃষ্টিকটু হয় সেটি হল পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা। অথচ পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ৪ টি পদ থাকলেও নিয়োগ পেয়েছেন মাত্র ২ জন। আর এ দুইজনকেই হাসপাতালের অন্তত ৫০ টি টয়লেট, ৩ তলা ও ৪ তলা দুটি ভবনের ৭টি ফ্লুর, ৬টি ওয়াড সহ অফিসগুলো পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব পালন করতে হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালে ৩টি শিফটে মুটামুটি মানের সরকারি চিকিৎসাসেবা দিতে গেলেও অন্তত ২৫ জন সেবিকা, ১৫ জন ক্লিনার ও ১৫ জন ওয়ার্ড বয় প্রয়োজন। যেহুতু হাসপাতালে প্রসূতী বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেশী সেক্ষেত্রে এনএসিইউ ওয়ার্ডটি চালু করা খুবই জরুরী। একজন শিশু বিশেষজ্ঞের অভাবে এই ওয়ার্ডটি চালু করতে না পারায় জন্ম নেয়া অনেক নবজাতকই জরুরী চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না।

২০২৫ সালের জুন মাসের চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীর হিসাব বিবরনীতে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে ১৮ হাজার ৬৪১ জন নারী, শিশু ও পুরুষ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ইনডোরে অর্থাৎ ওয়ার্ডের বেডে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৫ শত ৬০ জন রোগী। নরমাল ও সিজারিয়ান মিলে ডেলিভারি হয় ১৩৮ জন। তাছাড়া ১ হাজার ৩ শত ৫০ জন মা গর্ভকালীন সেবা নিয়েছেন। জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ১ শত ২৪ জন রোগী। তৎমধ্যে এ্যম্বুলেন্স সেবা নিয়েছেন ২৫ জন রোগী। মাত্র ১ হাজার ৬০০ টাকা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পৌঁছিয়ে দেয়া হয় রোগীকে। ডায়াগনোষ্টিক সেবা নিয়েছেন ২ হাজার ৬ শত ৮৪ জন রোগী। এনসিডি কর্নারে সেবা নিয়েছেন ১ হাজার ৩ শত ৯০ জন রোগী। আই এম সি আই কর্নারে ১৬৩ জন ও রক্ত পরিসঞ্চালন সেবা নিয়েছেন ৬১ জন। তাছাড়াও চোখের চিকিৎসা নিয়েছেন ৪০১ জন রোগী। উক্ত হিসাবমতে দেখা যায়, ইনডোর আউটডোর মিলিয়ে একজন চিকিৎসক বিগত ১ মাসে ৪ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। পেকুয়া হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার পরিসংখ্যান দেখে সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন এটা কেবল বাংলাদেশ বলেই সম্ভব হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বৈকালিক সেবা চালিয়ে আসলেও কারো কারো আপত্তিতে সেটাও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। পেকুয়া সরকারি হাসাপাতালে অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজী ও ব্লাড ব্যাংক চালু রয়েছে। এক্স-রে সেবা চালু থাকলেও কোন প্রকার এক্স-রে সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়না। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড়ে চিকিৎসারত রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানাযায়, ওয়ার্ড়ের বেডে থাকলেও পর্যাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার না থাকায় রোগীকে জরুরী বিভাগেই গিয়েই চিকিৎসা নিতে হয়। রোগীদের অভিযোগ, এখানে যেসব নার্স রয়েছেন তার রোগীদের সেবা প্রদানে অনীহা প্রকাশ করেন। অনেক সময় রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহারও করে থাকেন। রোগী বেডে কাথরাতে থাকলেও নার্সদের কিছু আসে যায়না। বারবার ধরনা দিয়েও তাদের কাছ থেকে সহজে সেবা নেয়া যায়না বলে আক্ষেপ করেছেন অনেকে। হাসপাতালের টয়লেট অপরিচ্ছন্ন থাকে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফার্মেসীতে গেলে ঠিকমত লোকজন পাওয়া যায়না।

পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি একটি ৩১ শয্যার হাসপাতাল হলেও আমরা মূলত এর ৩ গুণ বেশী আবাসিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। একজন চিকিৎসক মাসিক গড়ে ৪ হাজার জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। সীমিত সাধ্যের মধ্যে আমাদের সেবার মানসিকতার কোন ত্রুটি নেই। কিন্তু আমাদের লোকবলের সংকটটা তীব্রতর। এভাবে চলতে থাকলে চিকিৎসা সেবা দেয়া খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। চিকিৎসক সহ সকল পদে জনবল চাহিদার বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমি মনে করি ৫০ শয্যার অনুমোদন পেলে পেকুয়ার মানুষ আরো উন্নতমানের সেবা ভোগ করতে পারবে।

চকরিয়ায় অপহৃত দোকান কর্মচারী উদ্ধার, অপহরণকারী চক্রের প্রধান গ্রেফতার

জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: ৫০শয্যায় উন্নীত করণ সময়ের দাবী

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং থেকে অপহৃত দোকান কর্মচারী মোহাম্মদ পারভেজকে (১৭) অবশেষে উদ্ধার করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ। দীর্ঘ ১৬ ঘন্টার বিরতিহীন অভিযানে রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকা থেকে অপহরণের প্রধান হোতা নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মতে অপহৃত পারভেজকে বুধবার (১১ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং ছাগীর শাহ কাটা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার (এসআই) ফরিদ হোসেন বলেন, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ স্টেশন হতে বাড়িতে আসার পথে চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকা থেকে মো.পারভেজ নামের ছেলেটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ৬-৭ জন দুবৃর্ত্ত। পরে একটি নাম্বার থেকে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই মোবাইল নাম্বারের সুত্র ধরে রামু উপজেলার দূর্গম পাহাড়ি এলাকা ঈদগড়ে ১৬ ঘন্টার রুদ্ধদার অভিযান শেষে অপহরণের প্রধান হোতা
রামুর ইদগড়ের বাসিন্দা
নুরুল ইসলামকে আটক করা হয় ও পরে তার স্বীকারোক্তি মতে ভিকটিম পারভেজকে চকরিয়ার ডুলহাজারা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মোহাম্মদ পারভেজ চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের কোরবানিয়া ঘোনা এলাকার মনজুর আলমের ছেলে।
পারভেজের বাবা মঞ্জুর আলম জানান, তার ছেলে পারভেজ লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ একটি দোকানে চাকরি করতেন। দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে দুষ্কৃতিকারীরা অপহরণ করে নিয়ে যায়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র পারভেজ কে অপহরণ করে নিয়ে যায়। টানা ১৬ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে রাত ১০ টার দিকে ডুলাহাজারার ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপহরণকারী দলের একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই ।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপহরণের সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার করতে অভিযানে রয়েছে পুলিশ।

২ শতাধিক হাফেজকে পোশাক প্রদান

পেকুয়ায় মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: ৫০শয্যায় উন্নীত করণ সময়ের দাবী

রেজাউল করিম. স্টাফ রিপোর্টার

কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার ২ শতাধিক এতিম শিক্ষার্থীর হাতে জোব্বা তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করা হয়।
বারবাকিয়া মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছারের সভাপতিত্বে উজানটিয়া এএস আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আবুল কালামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের লালখান বাজার অফিসার্স কলোনি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ্ব মাওলানা জে. এম. মনছুর আলম কুতুবী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুজ্জামান মঞ্জু, ফাঁশিয়াখালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আনছার উল্লাহ, মৌলভীবাজার ফারুকীয়া সিনিয়র মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আমিনুর রশিদ এবং টইটং বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পল্লী চিকিৎসক ডা. মোসলেম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাস্টার আমান উল্লাহ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাস্টার মো. নুরুন্নবী, মাস্টার মিজানুর রহমান, আনিছুর রহমান, আব্দুর রহিম ও রেজাউল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রমজান মাসের শুরুতে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় ৩ শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এতিম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত মহৎ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।

ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল – পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

জনবল সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত: ৫০শয্যায় উন্নীত করণ সময়ের দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বান্দরবানের লামায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল। নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য নিরসন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রতীকীভাবে পাঁচটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।

মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলার ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ মোট ১২টি জাতিগোষ্ঠীর অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার আবদুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মিলটন মুহুরী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজা এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আমির হোসেনসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের সময় ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় সেগুলো তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক পরিবারের সদস্যরা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে, যা নারীর আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি এই সহায়তা দিয়ে বেকার ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারবে।

পরে দুপুরে মন্ত্রী লামা উপজেলা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত
উপজেলা পরিষদ মাঠে বান্দরবান, লামা, আলীকদমসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লোকজনের মাঝে বক্তব্য দেন।