| ১৯ জুন ২০২৬

বিএনপি-প্রশাসনের কারো খবর নেই

পেকুয়া উপজেলার ২৪ বছর পূর্তি আজ

পেকুয়া উপজেলার ২৪ বছর পূর্তি আজ

এম.আবদুল্লাহ আনসারী
আজ পেকুয়া উপজেলার ২৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অবহেলিত একটি প্রান্তিক জনপদকে উপজেলায় রূপান্তর করে পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন করে উন্নত নাগরিক সুবিধা প্রদানের সুযোগ দিয়ে ছিলেন। রাজনৈতিক সামাজিক মান মর্যাদা লাভ করার সুযোগ পেয়েছিল এ অঞ্চলের মানুষ। বিএনপির হাতধরে সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়াবাসীকে এ মর্যাদা দিতে পেরেছিলেন বলে এঅঞ্চলের মানুষ সালাহউদ্দিন আহমদে অন্ধ বিশ্বাসী। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেন আলাদা দৃষ্টিতে। সাধারণত যে কোন প্রাতিষ্ঠানিক বয়সের একযুগ দুইযুগ জমকালো আয়োজন করে পালন করে থাকেন। উপজেলার প্রতিষ্ঠার দুই পূর্ন হলেও নিরবে উপজেলা প্রশাসন ও বিএনপি। কারো যেন কোন দায়বদ্ধতা নেই।
কেউ জানেনা মনে হয় আজ দুই যুগের মাইল ফলকে পেকুয়া উপজেলা।
অনেক স্বচেতন মহল মনে করেন প্রতিকূলতার মহাকাব্য পদদলিত করে বিএনপি এখন রাষ্ট্র ক্ষমতায়। সবচেয়ে বেশি সুবিধায় এখন বিএনপি নেতারা। তাদের হাব ভাব কৃতকর্মে রাজার রাজা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশে একটা বিবৃতি হলেও তারা দিতে পারতো। উপজেলার কর্মকর্তারা যে চেয়ারে বসে দায়িত্ব পালন করেন তার দায়িত্ববোধ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক আচারের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।
দলীয় কর্তারা কোথায় খাস জমি, কোথায় পতিত জমি কোথায় বিরোধপূর্ণ জমি আছে সেটা কিভাবে আয়ত্ত করা যায় সে হিসাব কষতে ভূল না করলেও উপজেলা প্রতিষ্ঠার ২ যুগ পালন বা স্মরণে ফেল মারলেন স্বাভাবিক গতিতে।

বাংলাদেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজারের প্রবেশ-দ্বার চকরিয়া উপজেলা ছিল একসময় জেলার বৃহত্তর উপজেলা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪দলীয়
জোট সরকারের আমলে তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কক্সবাজার-১(চকরিয়া ও পেকুয়া) আসনের এমপি ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০০২ সালের ২৭ এপ্রিল কক্সবাজারের বৃহত্তর উপজেলা চকরিয়া থেকে রাজাখালী, বারবাকিয়া, মগনামা, পেকুয়া, টইটং উজানটিয়া ও শিলখালী ইউনিয়ন বিভক্ত করে “পেকুয়া উপজেলা” প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য ২০০২ সালে পেকুয়ায় ইউনিয়ন ছিল ৫ টি। পেকুয়া সদর,বারবাকিয়া, রাজা খালী,মগনামা ও টৈটং । পরে ২০০৩ সালে বারবাকিয়া থেকে পৃথক করে শিল খালী ও মগনামা থেকে পৃথক করে উজানটিয়া ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে পেকুয়া উপজেলার ইউনিয়ন সংখ্যা দাড়ায় ৭ টি।পেকুয়ার পশ্চিমে কুতুবদিয়া, দক্ষিণে চকরিয়া ও মহেশখালী,পূর্বে চকরিয়া এবং উত্তরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও লোহাগাড়া উপজেলা। পেকুয়ার পূর্ব
দিকে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও পশ্চিম দিকে বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেল।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ২৭ মার্চ সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের নিরন্তন প্রচেষ্টায় সরকারের পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত নিকার সভায় পেকুয়া উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। ২০০২ সালের ২৩ এপ্রিল পেকুয়া উপজেলার ঘোষণা মুদ্রিত হয় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে।

এসময় পেকুয়া উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম আলহাজ্ব আবু তাহের চৌধুরীর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, তৎকালীন আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন সহ সিনিয়র ডজেন খানেক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

পেকুয়া উপজেলার শুভ উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেন,” আমরা পেকুয়াকে যেমন উপজেলা করেছি,তেমনিভাবে পেকুয়ার উন্নয়নও করব।শুধু পেকুয়ায় নয়,সারা বাংলাদেশে একইভাবে আমরা উন্নয়ন করবো। উন্নয়নের জোয়ার বলতে যা বোঝায়,বিএনপি সরকারের আমলে পেকুয়ায় তার সবকিছুই হয়েছিল।যেমন-পেকুয়ার দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়াম, পেকুয়া থানা ভবন, উপজেলা প্রশাসনিক ভবন,ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ইত্যাদি ।
২০০২ সালে পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে কক্সবাজার জেলাটি প্রথম শ্রেণির জেলার মর্যাদা লাভ করে।এর আগে কক্সবাজার জেলা ছিল দ্বিতীয় শ্রেণীর জেলা

অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলা মর্যাদা লাভের মাধ্যমে উপকূলীয় জনগণের নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আর আগের মত চকরিয়ায় গিয়ে সরকারি–বেসরকারি দাপ্তরিক কাজের জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে হয় না। এসএসসি–এইচএসসি এর মতোই বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে যায় বাড়ির পাশের প্রতিষ্ঠানেই। উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে পেকুয়ার অবকাঠামোগত অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
পেকুয়া একসময় একটি অবহেলিত গ্রাম ছিল।সেই অবহেলিত গ্রাম থেকে ইউনিয়ন, ইউনিয়ন হতে উপজেলায় উন্নীত হওয়া এক বিস্ময়কর ঘটনা। এই কৃতিত্বের মহানায়ক হলেন আমাদের পেকুয়ার গর্বিত সন্তান সালাহউদ্দিন আহমদ,যিনি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়ার সময় থেকেই পেকুয়ার অবহেলিত ও বঞ্চিত জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন দেখতেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকায় রাস্তাঘাট,মসজিদ,মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে অবিস্মরণীয় উন্নয়নে পেকুয়া তথা কক্সবাজারের ইতিহাসের নায়ক । তারই প্রতিদান হিসেবে চকরিয়া ও পেকুয়ার জনগণ ২০০৮সালের ২৯ড়িসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী গৃহবধু এডভোকেট হাসিনা আহমদ কে কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত করেন। শুধু তাই নয়,২০০৯ এবং ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত এবং সালাহ উদ্দিন আহমদ কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শাফায়ত আজিজ রাজু বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন অতি তরুণ বয়সে।
বিএনপি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে ‌থাকার পরও শুধুমাত্র উন্নয়নের কারণেই সালাহউদ্দিন আহমদ এর নাম এখনো মানুষের মুখে মুখে রয়েছে।তিনি শুধু পেকুয়া উপজেলায় নয়, সমগ্র কক্সবাজার জেলায় উন্নয়ন করেছেন।তিনি ভারতের শিলং শহরে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসিত জীবনযাপনের সময় পেকুয়া ও কক্সবাজার জেলার মানুষ তাঁকে একনজর দেখার জন্য সীমান্ত অতিক্রম করে ছুটে যেতেন ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-নির্বাচনের পর থেকেই পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মূল অংশ কে নিয়ে পৌরসভা গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।গত ২৪ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পেকুয়া কে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়েছে ।

২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পেকুয়া উপজেলায় অভূতপূর্ব উন্নয়নের কারণেই আমরা এই সময় কে পেকুয়া উপজেলাবাসীর স্বর্ণযুগ বলি। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের হাত ধরেই পেকুয়া উপজেলাবাসীর উন্নয়নের সেই স্বর্ণযুগ ফিরে আসুক – এটাই প্রত্যাশা ।বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০০৩ সালের ১৪ এপ্রিল কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলা সফর করেছিলেন । তিনি পেকুয়া উপজেলার বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আশ্বাস দিয়েছিলেন । এখন সেই মোক্ষম সময় এসেছে ।
পেকুয়া উপজেলার ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পেকুয়া উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে দেশ নেতা প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান ও উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

পেকুয়া উপজেলার ২৪ বছর পূর্তি আজ

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

​মহেশখালীতে বন বিভাগের অভিযানে মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, ৭বনকর্মী আহত

পেকুয়া উপজেলার ২৪ বছর পূর্তি আজ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন ৭জন বন কর্মী। অবৈধ দখলদারদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয়ভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে উসকানিমূলকভাবে এই হামলা চালায়। এতে কয়েকজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, বন প্রহরী তুষার সাহা, বন পাহারা দলের সদস্য আক্তার হোসেন, কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, বন কর্মী নজরুল হুদা, বন কর্মী মো: আনোয়ার হোসেন, বন কর্মী নবায়ন চাকমা

 

​১৬ জুন সকাল ১১ টায় শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএমঘাট এলাকায় মহেশখালী রেঞ্জ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করতে গেলে অবৈধ দখলদার চক্রটি বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা উচ্ছেদ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করতে স্থানীয় মাইকে ঘোষণা দেয়। মাইকিং শুনে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে বন কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

​মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

​”সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে আমরা সকালে জেএমঘাট এলাকায় অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি পরিকল্পিতভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেয় এবং বন কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোলতান জানান হামলার ঘটনায় বন বিভাগ ও পুলিম কাজ করছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোভারদের দীক্ষাদানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক তাঁবুবাস

পেকুয়া উপজেলার ২৪ বছর পূর্তি আজ

 

তাওহিদুল ইসলাম

কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপকূলীয় মুক্ত রোভার স্কাউট গ্রুপ ও শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের যৌথ আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী “বার্ষিক তাঁবুবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান-২০২৬” সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৬ জুন) রোভারদের দীক্ষাদানের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গত ১৪ জুন শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এই তাঁবুবাসে মোট ১২০ জন রোভার ও স্কাউট অংশগ্রহণ করেন। তিন দিনের এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ক্যাম্প চলাকালে ভোরের পাখি, তাঁবুকলা, অবস্ট্যাকল, বনকলা ও তাঁবু জলসাসহ পাঁচটি চ্যালেঞ্জভিত্তিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রোভার ও স্কাউটরা দলগত নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা এবং সেবামূলক মানসিকতার বাস্তব প্রশিক্ষণ লাভ করে।
সমাপনী ও দীক্ষা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস পেকুয়া উপজেলার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা রোভার স্কাউটের সম্পাদক আব্দুল হামিদ, পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসান, পেকুয়া উপজেলা স্কাউটসের কমিশনার নাছির উদ্দীন এবং নূর আয়েশা খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ঈসমাঈল খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহযোগী সদস্য ও কলেজ রোভার স্কাউট লিডার ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
বক্তারা বলেন, রোভার স্কাউটিং তরুণদের মানবিক, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁবুবাস ও দীক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে উপকূলীয় মুক্ত রোভার স্কাউট গ্রুপের রোভারমেটসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্কাউট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নতুন রোভাররা স্কাউট আদর্শ ও নীতির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।