| ৮ মে ২০২৬

চকরিয়া-পেকুয়া সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রাত্যাশীদের দৌড়ঝাপে কে এগিয়ে

চকরিয়া-পেকুয়া সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রাত্যাশীদের দৌড়ঝাপে কে এগিয়ে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হলেও জামায়াত এনসিপি সহ কয়েকটি দল সংস্কারের যৌক্তিকতার জোরালো আওয়াজ তুলেন, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার রমজানের আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে বারবার। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ও তাদের সমর্থকরা ইতি মধ্যে মাঠ সরগরম করে তুলেছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি) ও জামায়াত ইসলামীর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এবং তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগদান, প্রচারণায়, বিভিন্ন কৌশলে তৎপরতা চালাচ্ছেন। অন্যান্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও নিজেদের মতো করে মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
এ ছাড়া এবি পাটি থেকে ও সব আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন দলীয় সূত্রে জানাগেছে । বিভিন্ন আসনে এর বাইরেও গণঅধিকার পরিষদ সহ বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে কেউ কেউ প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়ে আছেন।
২০দলীয় জোটের শরীক হিসেবে দীর্ঘদিন বিএনপি জামায়াত আওয়ামী বিরোধী রাজনীতি করে আসলেও ৫আগষ্টের পর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্ধী হয়ে ওঠায় ভোটের মাঠে পৃথক হিসেব কষতে শুরু করেছে দুদলই। জুলাই গণ-অভূত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জেলার সব আমনে বিএনপি ও জামায়াত পৃথক সমাবেশ করে নির্বাচনী শোডাউন দেখিয়েছে। বোদ্ধা মহলের ধারণা কোন দলের সমাবেশে বেশি লোক জড়ো করা হয়েছে, তার প্রতিযোগিতা দেখানোর চেষ্ঠা ছিল দল দুটির নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে।

কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়া আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক ৩বারের এমপি ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে বিএনপির নির্ধারিত প্রার্থী হিসেবে ধরে নিয়েই স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী এ আসনের সাবেক এমপি এডভোকেট হাসিনা আহমেদ ও সালাহউদ্দিন-হাসিনা আহমেদ দম্পতির বড় ছেলে ঢাকাস্থ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়র সাইদ ইব্রাহীম আহমদ প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন। সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, তার অবর্তমানে এডভোকেট হাসিনা আহমদকে ২০০৯ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপিকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করায় বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, চকরিয়া পেকুয়া আসনে তার থেকে তার স্ত্রীকে জনগন বেশী ভোট দিয়ে থাকেন আবার অনেকে বলছেন তার সন্তান আসলে তাকে নাকি আরো বেশী ভোট দিবেন এমন বক্তব্যের পর এ আসনে বি.এনপির প্রার্থী আসলে কে হচ্ছেন তা নিয়ে তিন জনের নাম শুনা যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে এই আসনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুককে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করায় তিনি সবার আগে অনেকটা গণ সংযোগ চালাচ্ছেন। গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক ভিপি নুর সিনিয়র নেতাদের নিযে চকরিয়া পেকুয়ার পথ সভায় আবদুল কাদের প্রাইমকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন। তিনিও নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচার কাজে সুবিধার্থে চকরিয়া উপজেলা সদরে অফিসও চালু করেছেন।
জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে ডুলহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি।
জাতীয় পার্টি(জিএম কাদের) থেকে সামশুল আলমের নাম শুনা যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়াম্যান সালাহউদ্দিন মাহমুদ এ বারের সংসদ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলেন বলে আলোচনা শুনা যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মো.সাজ্জাদ হোছাইন প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানান। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ থেকে চকরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মাও.হাবিবুল গনি বুখারী প্রার্থী হচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে। তার শিক্ষাগত যোগ্য মাষ্টার্স।
এবি পার্টি থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পর্যটন বিষয়ক সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহেদ প্রার্থী হচ্ছেন। সাবেক এ শিবির নেতা ইংরেজী সাহিত্যে বিএ(অনার্স) এম ডিগ্রীধারী।
আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারা অনেকটা অনিশ্চিত হওয়ায় মুল লড়াই হবে বিএনপি জামায়াতের মাঝে এমন প্রত্যাশা সাধারন ভোটার ও রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের।
জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানাযায়, এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটার বেড়েছে বলে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। তবে দলটি পিআর পদ্ধতিতে ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবীতে এখনো অনড় থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনী আমেজেই চলছে একেবারে প্রান্তিক ভোটারদের কাছে।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.মোবারক আলীকে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনে বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্ধিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করার মতো প্রার্থী এবারের নির্বাচনী মাঠে দেখতে পারছেনা বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনিও বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ এ আসন থেকে বারা নির্বাচিত হয়েছেন। যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার জনপ্রিয়তায় ভর করে তার সহধর্মীনিকেও এ আসনের মানুষ বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচন করেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সালাহউদ্দিন আহমদ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিষদে দায়িত্ব পালন করায় মানুষের তার প্রতি আরো আস্থা আরো বেড়েছে।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে সরকার কঠোর অবস্থানে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চকরিয়া-পেকুয়া সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রাত্যাশীদের দৌড়ঝাপে কে এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক

মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এর চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশনে আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রাক-নির্বাচনি সময়ে যেসব লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র জমা প্রদান করতে বলা হয়েছিল জনসাধারণকে, সেই অস্ত্রগুলো এখনো ফেরত প্রদান করা হয়নি। সেই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি দেয়া হয়েছে যাতে যথাশিগগির সেগুলো ফেরত প্রদান করা হয়। চিঠিতে নিম্নলিখিত তিন ক্যাটাগরিতে আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত প্রদান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: (১) ২০০৯ সালের ০৬ জানুয়ারির পূর্বের লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র, (২) ২০২৪ সালের ০৫ আগস্ট এর পর লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র এবং (৩) ২০০৯ সালের ০৬ জানুয়ারি হতে ২০২৪ সালের ০৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যুকৃত লাইসেন্সসমূহ যাচাই-বাছাই এর লক্ষ্যে ইতঃপূর্বে গঠিত কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই অন্তে যে সকল লাইসেন্স নীতিমালা মোতাবেক ইস্যু হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হবে সে সকল লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র।

মন্ত্রী আরো বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান, মামলা ও বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিগত সরকারের আমলে দায়েরকৃত ‘গায়েবি’ ও ভুয়া মামলা নিরসনে সরকার কাজ করছে বলে মন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ভুয়া, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো যাচাই করবে। ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে চার্জশিট বা এজাহারসহ আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক যাচাই শেষে সুপারিশসমূহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সিআরপিসি (CrPC) ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী আইনগতভাবে এসব মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৫ আগস্ট পরবর্তী গণহত্যামূলক মামলাগুলোতে যাতে নিরপরাধ কেউ বা কোনো সাংবাদিক অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আযহা নিরাপদ করতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সড়ক-মহাসড়কের উপর ও রেলপথের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে টহল দিবে। তিনি জানান, ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। মহাসড়কগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। তিনি আরো জানান, ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

চামড়া শিল্প রক্ষায় সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করা হবে যাতে তৃণমূল পর্যায়েই সাত দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। ঢাকার ইটিপি (ETP) সিস্টেমের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় চামড়াগুলো যাতে সাত দিন পর ক্রমান্বয়ে ঢাকার দিকে আনা হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে জেলাপ্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুশব্যাকের আশঙ্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় (Alert) থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া মাদক, জুয়া এবং অনলাইন বেটিং-এর বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চলবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির সহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

অপহরণ চক্রের নারী সদস্য আটক

চকরিয়ার অপহৃত ছাত্রী কক্সবাজার থেকে উদ্ধার

চকরিয়া-পেকুয়া সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রাত্যাশীদের দৌড়ঝাপে কে এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহৃত শিক্ষার্থী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণ চক্রের নারী সদস্যকে আটক করা হয়।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত এক অপ্রাপ্তবয়স্কা মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার ও জড়িত এক মহিলাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া সাহারবিল এলাকার প্রবাসী শাহা আলমের মাদ্রাসা পড়ুয়া কন্যা জন্নাতুল নাঈম (১৩), গত ২৮/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা হতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। ওই ছাত্রীর পরিবার তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার ভাই শিহাব চকরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী নং-১৫২৯, তারিখ-২৯/০৪/২০২৬ খ্রিঃ দায়ের করে। উক্ত ডায়েরীর আলোকে সন্দেহভাজন লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ফরেস্টর জামাল উদ্দিনের কন্যা তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমাকে কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় হতে আটক করে। তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা প্রথমে ভিকটিম তার হেফাজতে থাকার কথা অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ের পুলিশের অভিযান টিমের সন্দেহ হওয়ায় কক্সবাজার কলাতলী লাইট হাউস এলাকায় শিমার ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম জন্নাতুল নাঈম (১৩)কে উদ্ধার করে। এসময় উক্ত ঘরে থাকা দুজন রাখাইন মেয়ে পালিয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, চকরিয়ার লক্ষ্যারচরের মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা (২৫) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরবর্তীতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়ানো এবং স্বর্ণের চেইন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনার দিন ভিকটিমকে অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় চকরিয়া থানাধীন সাহারবিল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মিজবাউল উলুম মাদ্রাসার গেইটের সামন থেকে কৌশলে মানব পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে এবং কক্সবাজার সদর থানাধীন লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় নিয়ে তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমার ভাড়া বাসায় আটক করে রাখে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ নারী পাচার চক্রের সাথে জড়িত, যারা অপ্রাপ্তবয়স্কা ছাত্রীদের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে যৌন শোষণ ও পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা বিক্রয় করে থাকে।
উদ্ধার অভিযানে ১নং আসামীকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া থানার এফআইআর নং-৪৪, তারিখ- ৩০ এপ্রিল, ২০২৬; জি আর নং-১৬৬, ধারা-মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ এর ৭/৮/১০/১১ মামলা রুজু করা হয়।

পেকুয়ার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক

চকরিয়া-পেকুয়া সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রাত্যাশীদের দৌড়ঝাপে কে এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের পেকুয়ার আলোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক হয়েছে।
৩০ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে পেকুয়া থানার একদল পুলিশ মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোয়াখালীর নুরুল কাইয়ুমের ছেলে সোহেল ও তার সহযোগীদের হামলায় ৫জন গুরুতর আহত হয়। আহত পক্ষের মুজাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় সোহেল ও তার সহযোগী ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মামলা নং জিআর ৬৫/২৬ তাং ২৯/০৪/২৬। এমামলার ২ নং আসামী সোহেলকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
মামলার বাদী মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই চক্রটি এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করে আসছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
আহতদের প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। পেকুয়া থানা ও আদালতে বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য মামলা গুলো হল এদিকে আটক সোহেলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলার তথ্য পাওয়া গেছে যার নং সি আর-৪৫১/১৯, জি আর- ৭৯/২০২৪,জি আর-২০২/২৪, জি আর- ২২২/১৮,সি আর-২০৪/২৩, সি আর-১৪৯০/২১।
তিনি পূর্বেও কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রভাবশালী আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় তিনি দ্রুত আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে এসে পূণরায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আলম বলেন, এঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে আটকও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ফের সংঘর্ষেরও আশংকা করে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।