চকরিয়া-পেকুয়া সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রাত্যাশীদের দৌড়ঝাপে কে এগিয়ে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হলেও জামায়াত এনসিপি সহ কয়েকটি দল সংস্কারের যৌক্তিকতার জোরালো আওয়াজ তুলেন, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার রমজানের আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে বারবার। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ও তাদের সমর্থকরা ইতি মধ্যে মাঠ সরগরম করে তুলেছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি) ও জামায়াত ইসলামীর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এবং তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগদান, প্রচারণায়, বিভিন্ন কৌশলে তৎপরতা চালাচ্ছেন। অন্যান্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও নিজেদের মতো করে মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।
এ ছাড়া এবি পাটি থেকে ও সব আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন দলীয় সূত্রে জানাগেছে । বিভিন্ন আসনে এর বাইরেও গণঅধিকার পরিষদ সহ বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে কেউ কেউ প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়ে আছেন।
২০দলীয় জোটের শরীক হিসেবে দীর্ঘদিন বিএনপি জামায়াত আওয়ামী বিরোধী রাজনীতি করে আসলেও ৫আগষ্টের পর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্ধী হয়ে ওঠায় ভোটের মাঠে পৃথক হিসেব কষতে শুরু করেছে দুদলই। জুলাই গণ-অভূত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জেলার সব আমনে বিএনপি ও জামায়াত পৃথক সমাবেশ করে নির্বাচনী শোডাউন দেখিয়েছে। বোদ্ধা মহলের ধারণা কোন দলের সমাবেশে বেশি লোক জড়ো করা হয়েছে, তার প্রতিযোগিতা দেখানোর চেষ্ঠা ছিল দল দুটির নেতাকর্মী সমর্থকদের মধ্যে।
কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়া আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং এই আসনের সাবেক ৩বারের এমপি ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে বিএনপির নির্ধারিত প্রার্থী হিসেবে ধরে নিয়েই স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী এ আসনের সাবেক এমপি এডভোকেট হাসিনা আহমেদ ও সালাহউদ্দিন-হাসিনা আহমেদ দম্পতির বড় ছেলে ঢাকাস্থ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়র সাইদ ইব্রাহীম আহমদ প্রার্থী হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন। সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, তার অবর্তমানে এডভোকেট হাসিনা আহমদকে ২০০৯ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপিকে বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করায় বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, চকরিয়া পেকুয়া আসনে তার থেকে তার স্ত্রীকে জনগন বেশী ভোট দিয়ে থাকেন আবার অনেকে বলছেন তার সন্তান আসলে তাকে নাকি আরো বেশী ভোট দিবেন এমন বক্তব্যের পর এ আসনে বি.এনপির প্রার্থী আসলে কে হচ্ছেন তা নিয়ে তিন জনের নাম শুনা যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে এই আসনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুককে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করায় তিনি সবার আগে অনেকটা গণ সংযোগ চালাচ্ছেন। গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক ভিপি নুর সিনিয়র নেতাদের নিযে চকরিয়া পেকুয়ার পথ সভায় আবদুল কাদের প্রাইমকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন। তিনিও নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচার কাজে সুবিধার্থে চকরিয়া উপজেলা সদরে অফিসও চালু করেছেন।
জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে ডুলহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন প্রার্থীর দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি।
জাতীয় পার্টি(জিএম কাদের) থেকে সামশুল আলমের নাম শুনা যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়াম্যান সালাহউদ্দিন মাহমুদ এ বারের সংসদ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলেন বলে আলোচনা শুনা যাচ্ছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মো.সাজ্জাদ হোছাইন প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানান। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ থেকে চকরিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি মাও.হাবিবুল গনি বুখারী প্রার্থী হচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে। তার শিক্ষাগত যোগ্য মাষ্টার্স।
এবি পার্টি থেকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির পর্যটন বিষয়ক সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহেদ প্রার্থী হচ্ছেন। সাবেক এ শিবির নেতা ইংরেজী সাহিত্যে বিএ(অনার্স) এম ডিগ্রীধারী।
আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারা অনেকটা অনিশ্চিত হওয়ায় মুল লড়াই হবে বিএনপি জামায়াতের মাঝে এমন প্রত্যাশা সাধারন ভোটার ও রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের।
জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানাযায়, এবারের নির্বাচনে তাদের ভোটার বেড়েছে বলে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী। তবে দলটি পিআর পদ্ধতিতে ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবীতে এখনো অনড় থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনী আমেজেই চলছে একেবারে প্রান্তিক ভোটারদের কাছে।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.মোবারক আলীকে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রার্থী হিসেবে তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনে বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্ধিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন বিএনপির সাথে প্রতিদ্বন্ধিতা করার মতো প্রার্থী এবারের নির্বাচনী মাঠে দেখতে পারছেনা বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনিও বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদ এ আসন থেকে বারা নির্বাচিত হয়েছেন। যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার জনপ্রিয়তায় ভর করে তার সহধর্মীনিকেও এ আসনের মানুষ বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচন করেছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সালাহউদ্দিন আহমদ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিষদে দায়িত্ব পালন করায় মানুষের তার প্রতি আরো আস্থা আরো বেড়েছে।















