পেকুয়ায় ৪৯৬৮ জেলে পরিবারকে ৩৮৪.০৯৮ মে:টন ভিজিএফ চাল বিতরণ, মেম্বার চেয়ারম্যান সংঘর্ষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার ৪৯৬৭জেলের জন্য ৩৮৪.০৯৮ মে:টন ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলার ৭ ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলেদের মাছ আহরনের নিষিদ্ধ সময় ৫৮ দিনের জনয পরিবার প্রতি ৭৭ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ওয়ার্ড ভিত্তিক বরাদ্দ প্রদানে সমতা রক্ষা ও আগে পরে বিতরণের অভিযোগ তুলে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
রাজাখালী ইউনিয়নের ১৭২২ জন জেলেকে ১৩৩.১৬২ মে. টন, বারবাকিয়ায় ২২১ জনকে ১৭.০৯০ মে. টন,
শিলখালী ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত ১৩২ ও টৈটং ইউনিয়নে ২৫৮ জন জেলে পরিবারের মাঝে ১৯.৯৫১ মে. টন, মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। পেকুয়া সদরে ৯০৬ জনকে ৭০.০৬১ মে. টন, মগনামা ইউনিয়নের ৯৩১ জনকে ৭১.৯৯৪ মে.টন, উজানটিয়ায় ৭৯৭ জনকে ৬১.৬৩২ মে.টন ও শিলখালী ইউনিয়নের ১৩২ জন জেলেকে ১০.২০৮ মে. টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এদিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য নুর মোহাম্মদ নিজ ওয়ার্ডের ২০৩ জন জেলের কার্ড নিজের হাতে নিতে না পেরে চেয়ারম্যানের ওপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ পাওয়াগেছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, উপজেলা প্রশাসনের প্রদত্ত তালিকা অনুযায়ী ব্যক্তিদের মাঝে নিয়ম মোতাবেক বিতরণ করা ছাড়া কাউকে সব কার্ড দিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। অতীতে ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য নুর মোহাম্মদ তার ওয়ার্ডের সব কার্ড নিয়ে মালামাল নিয়ে অনোক কার্ডধারীকে প্রদান না করায় অভিযোগ রয়েছে। সে জন্য এবার উপকারভোগীকে সরাসরি বিতরণ করা হয়।
একদিকে ২০ এপ্রিল সকাল ১০ টার দিকে রাজাখালী ইউনিয়নের জেলেদের মাঝে চাল বিতরণকালে টাকা নেয়াকে কেন্দ্র করে মহিলা মেম্বার সাদেকা ও নুরুল আবছার বদু মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
মহিলা মেম্বার ছাদেকা বেগম বলেন, নুরুল আবছার বদু মেম্বার তার ওয়ার্ডের জেলে উপকারভোগীর কার্ড নিজের আয়ত্তে নেয়ার পরও অন্যান্য উপকার ভোগীদের চাল নিতে জটলা সৃষ্টি করে এক ব্যক্তিকে ধাক্কা দিলে প্রতিবাদ করলে মহিলা সত্বেও হামলা করে। তিনি এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক শরীফের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পেকুয়া থানায় এজাহার দায়ের করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বুলবুল আহমদ।
মৎস্য কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলো যাতে খাদ্য সংকটে না পড়ে, সে জন্য পর্যায়ক্রমে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারকে সরকার নির্ধারিত ৭৭কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক শরীফ বলেন, “আমি বর্তমানে কক্সবাজারে একটি মিটিংয়ে আছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, মাছের প্রজনন মৌসুমে সাগর ও নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় নিবন্ধিত জেলেদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা দিতে সরকার বিশেষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় রাজাখালী ইউনিয়নের ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ৫৯৪ জন কার্ডধারী জেলেকে ৭৭ কেজি করে চাল বিতরণকালে এমারামারির ঘটনা ঘটে। অভিযোগের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।





