| ৪ মে ২০২৬

পেকুয়ায় লবণ চাষি ও জেলেদের জীবন জীবিকা রক্ষায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা

পেকুয়ায় লবণ চাষি ও জেলেদের জীবন জীবিকা রক্ষায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা

সিনিয়র প্রতিবেদক, বেলাভূমি :

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ফলে উপকূলের লবণ চাষি ও জেলেদের জীবন জীবিকা যেভাবে হুমকির মুখে পড়েছে আগামীতে লবণ চাষি ও জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে বিশাল এ জনগোষ্ঠী। এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও নদীর পানি দূষণের কারণে ইলিশ ও বিভিন্ন প্রজাতের সামুদ্রিক মাছ কমে যাওয়ায় ভরা ইলিশের মৌসুমে সাগরে গত কয়েক বছর ধরে জেলেরা এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছে। অন্যদিকে লবণ চাষ যোগ্য জমিতে শিল্প কারখানা গড়ে উঠার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ও বিদেশ থেকে লবণ আমদানির ফলে  উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে চাষিরা লবণ উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ায় জীবন জীবিকা হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষে লবণ চাষি ও জেলেদের জীবন জীবিকা রক্ষায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) রাত ৮টায় পেকুয়া উপজেলা লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতি রাজাখালী শাখার আয়োজনে সিকাদার পাড়া স্টেশন চৌ রাস্তার মাথা প্রাঙ্গনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতি রাজাখালী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি আবদুল হালিমের সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পেকুয়া উপজেলা লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব পরিবেশ কর্মী দেলওয়ার হোসাইন, মগনামা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের এমইউপি নজরুল ইসলাম,লবণ চাষী  সোলাইমান, জাফর আহমদ।

‎বক্তারা বলেন,লবণ উৎপাদনে চাষিদের যে খরচ ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় তা পুষিয়ে উঠতে পারছেনা। অনেক চাষি ঋণগ্রস্ত হয়ে আগামী মৌসুমে লবণ চাষ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে চাষিরা লবণ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। সরকার বিদেশ থেকে লবণ বন্ধ না করলে দেশীয় লবণ শিল্প বন্ধ হয়ে জীবিকা হারাবে বিশাল এ জনগোষ্ঠী। আগামী মৌসুমৈ লবণ উৎপাদন শুরু আগেই চাষিদের দাবি মেনে নিতে সরকারি প্রতি আহবান জানান। চাষিদের সরকারের প্রতি ১৫ দফা দাবি আদায়ে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বৃহত্তর জনসমাবেশ ঘোষণা দেন চাষিরা।

সময় লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির রাজাখালী ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক, জাহাঙ্গীর আলম বাদশা,সহ সাধারণ সম্পাদক ফজল কাদের, জোবাইর আহমদ,মোঃ ফরিদ,বেলাল,জাহাঙ্গীর, শাহাদাত, জাকের সহ আরও অনেকই উপস্থিত ছিলেন।

অপহরণ চক্রের নারী সদস্য আটক

চকরিয়ার অপহৃত ছাত্রী কক্সবাজার থেকে উদ্ধার

পেকুয়ায় লবণ চাষি ও জেলেদের জীবন জীবিকা রক্ষায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহৃত শিক্ষার্থী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণ চক্রের নারী সদস্যকে আটক করা হয়।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত এক অপ্রাপ্তবয়স্কা মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার ও জড়িত এক মহিলাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া সাহারবিল এলাকার প্রবাসী শাহা আলমের মাদ্রাসা পড়ুয়া কন্যা জন্নাতুল নাঈম (১৩), গত ২৮/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা হতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। ওই ছাত্রীর পরিবার তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার ভাই শিহাব চকরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী নং-১৫২৯, তারিখ-২৯/০৪/২০২৬ খ্রিঃ দায়ের করে। উক্ত ডায়েরীর আলোকে সন্দেহভাজন লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ফরেস্টর জামাল উদ্দিনের কন্যা তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমাকে কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় হতে আটক করে। তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা প্রথমে ভিকটিম তার হেফাজতে থাকার কথা অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ের পুলিশের অভিযান টিমের সন্দেহ হওয়ায় কক্সবাজার কলাতলী লাইট হাউস এলাকায় শিমার ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম জন্নাতুল নাঈম (১৩)কে উদ্ধার করে। এসময় উক্ত ঘরে থাকা দুজন রাখাইন মেয়ে পালিয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, চকরিয়ার লক্ষ্যারচরের মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা (২৫) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরবর্তীতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়ানো এবং স্বর্ণের চেইন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনার দিন ভিকটিমকে অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় চকরিয়া থানাধীন সাহারবিল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মিজবাউল উলুম মাদ্রাসার গেইটের সামন থেকে কৌশলে মানব পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে এবং কক্সবাজার সদর থানাধীন লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় নিয়ে তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমার ভাড়া বাসায় আটক করে রাখে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ নারী পাচার চক্রের সাথে জড়িত, যারা অপ্রাপ্তবয়স্কা ছাত্রীদের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে যৌন শোষণ ও পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা বিক্রয় করে থাকে।
উদ্ধার অভিযানে ১নং আসামীকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া থানার এফআইআর নং-৪৪, তারিখ- ৩০ এপ্রিল, ২০২৬; জি আর নং-১৬৬, ধারা-মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ এর ৭/৮/১০/১১ মামলা রুজু করা হয়।

পেকুয়ার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক

পেকুয়ায় লবণ চাষি ও জেলেদের জীবন জীবিকা রক্ষায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের পেকুয়ার আলোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক হয়েছে।
৩০ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে পেকুয়া থানার একদল পুলিশ মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোয়াখালীর নুরুল কাইয়ুমের ছেলে সোহেল ও তার সহযোগীদের হামলায় ৫জন গুরুতর আহত হয়। আহত পক্ষের মুজাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় সোহেল ও তার সহযোগী ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মামলা নং জিআর ৬৫/২৬ তাং ২৯/০৪/২৬। এমামলার ২ নং আসামী সোহেলকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
মামলার বাদী মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই চক্রটি এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করে আসছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
আহতদের প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। পেকুয়া থানা ও আদালতে বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য মামলা গুলো হল এদিকে আটক সোহেলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলার তথ্য পাওয়া গেছে যার নং সি আর-৪৫১/১৯, জি আর- ৭৯/২০২৪,জি আর-২০২/২৪, জি আর- ২২২/১৮,সি আর-২০৪/২৩, সি আর-১৪৯০/২১।
তিনি পূর্বেও কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রভাবশালী আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় তিনি দ্রুত আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে এসে পূণরায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আলম বলেন, এঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে আটকও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ফের সংঘর্ষেরও আশংকা করে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের স্মরণে ‎স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ‎

পেকুয়ায় লবণ চাষি ও জেলেদের জীবন জীবিকা রক্ষায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা


‎ডেস্ক রিপোর্ট

‎১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূল অঞ্চলে নিহতের স্মরণে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পেকুয়া উপজেলা লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এ স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

‎এ সময় নিহতদের স্মরণে স্মৃতিচারণ করেন, লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির যুগ্ন আহবায়ক এম আজম উদ্দিন, সদস্য সচিব দেলওয়ার হোসাইন, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক বারবাকিয়া উপশাখার ক্যাশ ইনচার্জ জিল্লুল করিম।

‎নিহতদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।

‎এসময় স্থানীয় মুসল্লী ও নানান শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’ লণ্ডভণ্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় পুরো উপকূল। স্মরণকালের ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৬ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। মারা যায় ২০ লাখ গবাদি পশু। প্রায় এক কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। ক্ষতি হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।