| ৪ মে ২০২৬

কৃষকের আন্দোলনের মুখে লবণ আমদানি বন্ধ. এবার ন্যায্যমূল্যের দাবী

কৃষকের আন্দোলনের মুখে লবণ আমদানি বন্ধ. এবার ন্যায্যমূল্যের দাবী

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

কৃষকদের আন্দোলনের মুখে সরকার লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে। এতে কক্সবাজার জেলার লবণ চাষীদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও ন্যায্য দাম ব্যবসায়ীক সিন্ডিকেট থেকে মুক্তি না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা এখনোও কাটেনি। এদিকে লবন আমদানি স্থগিতের খবরে কক্সবাজারের চাষীরা উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন। দ্রুত এ বিষয়ে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির অনুরোধ জানান তারা।
চাষিরা জানান, লবণ বিক্রি হয় মন হিসেবে সরকারী হিসেবে সেখানে ৪০ কেজিতে ১ মন ধরা হয়, সেখানে মহাজন ও ব্যবসায়ীর ৫৫ থেকে ৬০ কেজিতে এক মন হিসেব করে লবণ নিচ্ছে। অতিরিক্ত ওজনে লবণ দিতে গিয়ে মাঠ পর্যায়ের চাষীরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি লবনের মূল্য না থাকায় এ বছর হাজার একর চাষের জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

মহেশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন জানান, লবণ আমদানির সরকারি অনুমতির প্রতিবাদে এবং দেশীয় লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে রাজধানীর ঢাকার বুকে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ ই জানুয়ারি) সকাল ১০ টার সময় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ মহেশখালী সমিতির উদ্যোগে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে লবণ আমদানি বাতিলের দাবী চাষীরা আন্দোলন নামে। সেখানে বুদ্ধিজীবি মহেশখালীর সন্তান ড. সলিমুল্লাহ খান তার বক্তব্যে লবণ আমদানীর সিদ্ধান্ত স্থগিত করার আহবান জানান। এবং তিনি সিন্ডিকেট ও সরকারের তীব্র সমলোচনাসহ আন্দোলনের মুখে বানিজ্যে মন্ত্রণালয় লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে স্থগিত করে দেন।

জানাগেছে,শিল্প মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের আলোকে লবণ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হলেও বর্তমানে তা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিসিকের লবণ সেলের প্রধান মোঃ সরোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ মেট্রিক টন লবণ আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়। সে অনুযায়ী সিসিআই (প্রধান নিয়ন্ত্রক আমদানি-রপ্তানি দপ্তর) থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে আগ্রহী আমদানিকারকদের আবেদনের আহ্বান করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়, যার শেষ সময় ছিল ১১ জানুয়ারি।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ২০–২৫ হাজার মেট্রিক টনের জন্য এলসি খোলা সম্ভব হওয়ায় সরকার আর সময় বাড়ায়নি।বুধবার কক্সবাজারের লবণ শিল্প সংশ্লীষ্টরা বৈঠক করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সাথে। বৈঠকের পর শিল্প উপদেষ্টা বাণিজ্য উপদেষ্টাকে ফোন করে যারা এলসি করেছে বা করেনি, সকল প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রাখতে বলেন।

মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, “এখন আর কেউ লবণ আমদানি করতে পারবে না। বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে পুনরায় আলোচনা না হওয়া পর্যন্ত আমদানি স্থগিত থাকবে। এই সিদ্ধান্ত সবার সামনে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।বিসিকের চেয়ারম্যান এবং কক্সবাজারের লবণ সংশ্লিষ্টরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।”

১ লক্ষ টন লবণ আমদানির লক্ষ্যে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ে ২৪৭ টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা পাঠিয়েছিলো শিল্প মন্ত্রণালয়। এই তালিকা থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে ২৩১ টি প্রতিষ্ঠান কে লবণ আমদানির অনুৃমতি দেওয়া হয়।

অপহরণ চক্রের নারী সদস্য আটক

চকরিয়ার অপহৃত ছাত্রী কক্সবাজার থেকে উদ্ধার

কৃষকের আন্দোলনের মুখে লবণ আমদানি বন্ধ. এবার ন্যায্যমূল্যের দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহৃত শিক্ষার্থী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণ চক্রের নারী সদস্যকে আটক করা হয়।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত এক অপ্রাপ্তবয়স্কা মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার ও জড়িত এক মহিলাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া সাহারবিল এলাকার প্রবাসী শাহা আলমের মাদ্রাসা পড়ুয়া কন্যা জন্নাতুল নাঈম (১৩), গত ২৮/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা হতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। ওই ছাত্রীর পরিবার তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার ভাই শিহাব চকরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী নং-১৫২৯, তারিখ-২৯/০৪/২০২৬ খ্রিঃ দায়ের করে। উক্ত ডায়েরীর আলোকে সন্দেহভাজন লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ফরেস্টর জামাল উদ্দিনের কন্যা তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমাকে কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় হতে আটক করে। তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা প্রথমে ভিকটিম তার হেফাজতে থাকার কথা অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ের পুলিশের অভিযান টিমের সন্দেহ হওয়ায় কক্সবাজার কলাতলী লাইট হাউস এলাকায় শিমার ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম জন্নাতুল নাঈম (১৩)কে উদ্ধার করে। এসময় উক্ত ঘরে থাকা দুজন রাখাইন মেয়ে পালিয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, চকরিয়ার লক্ষ্যারচরের মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা (২৫) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরবর্তীতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়ানো এবং স্বর্ণের চেইন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনার দিন ভিকটিমকে অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় চকরিয়া থানাধীন সাহারবিল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মিজবাউল উলুম মাদ্রাসার গেইটের সামন থেকে কৌশলে মানব পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে এবং কক্সবাজার সদর থানাধীন লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় নিয়ে তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমার ভাড়া বাসায় আটক করে রাখে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ নারী পাচার চক্রের সাথে জড়িত, যারা অপ্রাপ্তবয়স্কা ছাত্রীদের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে যৌন শোষণ ও পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা বিক্রয় করে থাকে।
উদ্ধার অভিযানে ১নং আসামীকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া থানার এফআইআর নং-৪৪, তারিখ- ৩০ এপ্রিল, ২০২৬; জি আর নং-১৬৬, ধারা-মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ এর ৭/৮/১০/১১ মামলা রুজু করা হয়।

পেকুয়ার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক

কৃষকের আন্দোলনের মুখে লবণ আমদানি বন্ধ. এবার ন্যায্যমূল্যের দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের পেকুয়ার আলোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক হয়েছে।
৩০ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে পেকুয়া থানার একদল পুলিশ মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোয়াখালীর নুরুল কাইয়ুমের ছেলে সোহেল ও তার সহযোগীদের হামলায় ৫জন গুরুতর আহত হয়। আহত পক্ষের মুজাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় সোহেল ও তার সহযোগী ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মামলা নং জিআর ৬৫/২৬ তাং ২৯/০৪/২৬। এমামলার ২ নং আসামী সোহেলকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
মামলার বাদী মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই চক্রটি এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করে আসছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
আহতদের প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। পেকুয়া থানা ও আদালতে বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য মামলা গুলো হল এদিকে আটক সোহেলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলার তথ্য পাওয়া গেছে যার নং সি আর-৪৫১/১৯, জি আর- ৭৯/২০২৪,জি আর-২০২/২৪, জি আর- ২২২/১৮,সি আর-২০৪/২৩, সি আর-১৪৯০/২১।
তিনি পূর্বেও কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রভাবশালী আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় তিনি দ্রুত আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে এসে পূণরায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আলম বলেন, এঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে আটকও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ফের সংঘর্ষেরও আশংকা করে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের স্মরণে ‎স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ‎

কৃষকের আন্দোলনের মুখে লবণ আমদানি বন্ধ. এবার ন্যায্যমূল্যের দাবী


‎ডেস্ক রিপোর্ট

‎১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূল অঞ্চলে নিহতের স্মরণে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পেকুয়া উপজেলা লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এ স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

‎এ সময় নিহতদের স্মরণে স্মৃতিচারণ করেন, লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির যুগ্ন আহবায়ক এম আজম উদ্দিন, সদস্য সচিব দেলওয়ার হোসাইন, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক বারবাকিয়া উপশাখার ক্যাশ ইনচার্জ জিল্লুল করিম।

‎নিহতদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।

‎এসময় স্থানীয় মুসল্লী ও নানান শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’ লণ্ডভণ্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় পুরো উপকূল। স্মরণকালের ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৬ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। মারা যায় ২০ লাখ গবাদি পশু। প্রায় এক কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। ক্ষতি হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।