| ৪ মে ২০২৬

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা যেমন আজও নিশ্চিত হয়নি, তেমনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষাও আজও পরিকল্পিত নয়। আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। সাধারণ জনগণের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিদেশগমন প্রবণতা এখনও উচ্চ হারে বিরাজমান। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা এখনো সর্বজনীন ও জনবান্ধব হয়ে ওঠেনি।

স্বাস্থ্যসেবা দেশের জনগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হলেও, এর বাস্তব প্রতিফলন এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত হয়নি। একটি পরিকল্পিত স্বাস্থ্যনীতির অনুপস্থিতি, চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ক উন্নয়নের অভাব, এবং ‘প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’—এই সত্যটি সমাজে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।

যদিও বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে পরিতাপের বিষয়, ২০২১ সালে স্বাস্থ্য সূচকে বাংলাদেশ ১০০ স্কোরের মধ্যে পেয়েছিল মাত্র ৫২। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নিচে ছিল কেবল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

এই প্রেক্ষাপটে, কক্সবাজার জেলার বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে বহু চ্যালেঞ্জ। জেলায় বসবাসরত বিশাল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী, যারা স্বাস্থ্যসেবার উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

FDMN (Forcibly Displaced Myanmar Nationals) এবং স্থানীয় জনগণের (Host Community) স্বাস্থ্যসেবায় চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

চ্যালেঞ্জ ১: স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব

এ অঞ্চলের স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত জ্ঞান খুবই সীমিত। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তারা প্রায়ই অবগত নয়। ফলে অসংক্রামক ব্যাধির পাশাপাশি সংক্রামক রোগ—যেমন স্ক্যাবিস, এইডস, সিফিলিস ইত্যাদি—স্থানীয় জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে।

উত্তরণের উপায়:

(ক) সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে জনপ্রতিনিধি, মাঝি-হেড মাঝি, ইমাম, ও স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা।
(খ) স্বাস্থ্যবিধি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের ভয়াবহতা, প্রতিকার ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

চ্যালেঞ্জ ২: স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অনীহা

ধর্মীয় কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের কারণে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণ আধুনিক চিকিৎসার চেয়ে ঝাড়ফুঁক বা লতা-পাতার ব্যবহারকে বেশি গুরুত্ব দেয়। পর্দাপ্রথা, গোপনীয়তা এবং নারীর চলাফেরায় বিধিনিষেধের কারণে অনেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে অনিচ্ছুক।

উত্তরণের উপায়:

(ক) স্থানীয়দের মাঝে প্রচলিত অপচিকিৎসার ক্ষতিকর দিক ও আধুনিক চিকিৎসার সুফল তুলনা করে উপস্থাপন করা—উঠান বৈঠক, নাটিকা, সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে।
(খ) “স্বাস্থ্যসেবা আপনার গৃহে”—এই স্লোগানে আউটরিচ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্লকভিত্তিক ও বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান। এর জন্য কমিউনিটি নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও মোতায়েন করা।

চ্যালেঞ্জ ৩: অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা

কক্সবাজারে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বসবাস করছে, যার জন্য ২৫০ শয্যার একটি মাত্র জেলা সদর হাসপাতাল রয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী আসে। জনবল সংকট প্রকট।

উত্তরণের উপায়:

(ক) ৫০০ শয্যার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা। নার্সিং কলেজ স্থাপন ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যা, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি বাড়ানো এবং সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
(খ) শূন্যপদের বিপরীতে দ্রুত জনবল নিয়োগ, বিশেষ করে নার্স নিয়োগ।

চ্যালেঞ্জ ৪: প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব

প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করার জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন, যা বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

উত্তরণের উপায়:

চলমান জনবলকে নিম্নোক্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া:

  • Basic Life Support (BLS), Advanced Life Support (ALS), Basic Emergency Care (BEC)

  • সংক্রমণ প্রতিরোধ (Infection Prevention and Control)

  • হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

  • মানসিক সহায়তা (Psychosocial Support – PSS)

  • নবজাতকের শ্বাস প্রশ্বাস সহায়তা (Helping Baby Breathe)

  • নিরাপদ ইনফিউশন থেরাপি

  • প্রবীণ ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার

  • শিশু ও মাতৃদুগ্ধ পুষ্টি (IYCF)

  • দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া (Disaster Response & Medical Emergency in Disaster)

উপসংহার

বর্তমানে অসংক্রামক ব্যাধির হার এই প্রান্তিক জেলাতেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর ৬৭% ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের মতো রোগে হয়, অথচ জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২% এই খাতে বরাদ্দ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও আর্ক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শহরাঞ্চলে ‘ন্যাশনাল হাইপারটেনশন অ্যান্ড ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল’ চালু করা হয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কক্সবাজারেও সম্প্রসারিত করা জরুরি।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট। ২০১৯ সালে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ২৬,২০০ জন মানুষ এতে মারা যায়। এই সংকট মোকাবেলায় ‘One Health Approach’ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমানে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ মাত্র ৫.২% এবং স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আছে মাত্র ১% মানুষ। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাশ্রয়ী ও নিয়ন্ত্রিত মূল্যের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠন অপরিহার্য।

লেখক
ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন
নার্স ও পুষ্টিবিদ, কক্সবাজার।

অপহরণ চক্রের নারী সদস্য আটক

চকরিয়ার অপহৃত ছাত্রী কক্সবাজার থেকে উদ্ধার

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহৃত শিক্ষার্থী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণ চক্রের নারী সদস্যকে আটক করা হয়।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত এক অপ্রাপ্তবয়স্কা মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার ও জড়িত এক মহিলাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া সাহারবিল এলাকার প্রবাসী শাহা আলমের মাদ্রাসা পড়ুয়া কন্যা জন্নাতুল নাঈম (১৩), গত ২৮/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা হতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। ওই ছাত্রীর পরিবার তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার ভাই শিহাব চকরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী নং-১৫২৯, তারিখ-২৯/০৪/২০২৬ খ্রিঃ দায়ের করে। উক্ত ডায়েরীর আলোকে সন্দেহভাজন লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ফরেস্টর জামাল উদ্দিনের কন্যা তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমাকে কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় হতে আটক করে। তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা প্রথমে ভিকটিম তার হেফাজতে থাকার কথা অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ের পুলিশের অভিযান টিমের সন্দেহ হওয়ায় কক্সবাজার কলাতলী লাইট হাউস এলাকায় শিমার ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম জন্নাতুল নাঈম (১৩)কে উদ্ধার করে। এসময় উক্ত ঘরে থাকা দুজন রাখাইন মেয়ে পালিয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, চকরিয়ার লক্ষ্যারচরের মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা (২৫) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরবর্তীতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়ানো এবং স্বর্ণের চেইন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনার দিন ভিকটিমকে অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় চকরিয়া থানাধীন সাহারবিল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মিজবাউল উলুম মাদ্রাসার গেইটের সামন থেকে কৌশলে মানব পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে এবং কক্সবাজার সদর থানাধীন লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় নিয়ে তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমার ভাড়া বাসায় আটক করে রাখে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ নারী পাচার চক্রের সাথে জড়িত, যারা অপ্রাপ্তবয়স্কা ছাত্রীদের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে যৌন শোষণ ও পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা বিক্রয় করে থাকে।
উদ্ধার অভিযানে ১নং আসামীকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া থানার এফআইআর নং-৪৪, তারিখ- ৩০ এপ্রিল, ২০২৬; জি আর নং-১৬৬, ধারা-মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ এর ৭/৮/১০/১১ মামলা রুজু করা হয়।

পেকুয়ার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের পেকুয়ার আলোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক হয়েছে।
৩০ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে পেকুয়া থানার একদল পুলিশ মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোয়াখালীর নুরুল কাইয়ুমের ছেলে সোহেল ও তার সহযোগীদের হামলায় ৫জন গুরুতর আহত হয়। আহত পক্ষের মুজাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় সোহেল ও তার সহযোগী ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মামলা নং জিআর ৬৫/২৬ তাং ২৯/০৪/২৬। এমামলার ২ নং আসামী সোহেলকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
মামলার বাদী মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই চক্রটি এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করে আসছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
আহতদের প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। পেকুয়া থানা ও আদালতে বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য মামলা গুলো হল এদিকে আটক সোহেলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলার তথ্য পাওয়া গেছে যার নং সি আর-৪৫১/১৯, জি আর- ৭৯/২০২৪,জি আর-২০২/২৪, জি আর- ২২২/১৮,সি আর-২০৪/২৩, সি আর-১৪৯০/২১।
তিনি পূর্বেও কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রভাবশালী আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় তিনি দ্রুত আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে এসে পূণরায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আলম বলেন, এঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে আটকও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ফের সংঘর্ষেরও আশংকা করে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের স্মরণে ‎স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ‎

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়


‎ডেস্ক রিপোর্ট

‎১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূল অঞ্চলে নিহতের স্মরণে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পেকুয়া উপজেলা লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এ স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

‎এ সময় নিহতদের স্মরণে স্মৃতিচারণ করেন, লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির যুগ্ন আহবায়ক এম আজম উদ্দিন, সদস্য সচিব দেলওয়ার হোসাইন, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক বারবাকিয়া উপশাখার ক্যাশ ইনচার্জ জিল্লুল করিম।

‎নিহতদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।

‎এসময় স্থানীয় মুসল্লী ও নানান শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’ লণ্ডভণ্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় পুরো উপকূল। স্মরণকালের ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৬ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। মারা যায় ২০ লাখ গবাদি পশু। প্রায় এক কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। ক্ষতি হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।