| ১৭ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা যেমন আজও নিশ্চিত হয়নি, তেমনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষাও আজও পরিকল্পিত নয়। আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। সাধারণ জনগণের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিদেশগমন প্রবণতা এখনও উচ্চ হারে বিরাজমান। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা এখনো সর্বজনীন ও জনবান্ধব হয়ে ওঠেনি।

স্বাস্থ্যসেবা দেশের জনগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হলেও, এর বাস্তব প্রতিফলন এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত হয়নি। একটি পরিকল্পিত স্বাস্থ্যনীতির অনুপস্থিতি, চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ক উন্নয়নের অভাব, এবং ‘প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’—এই সত্যটি সমাজে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।

যদিও বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে পরিতাপের বিষয়, ২০২১ সালে স্বাস্থ্য সূচকে বাংলাদেশ ১০০ স্কোরের মধ্যে পেয়েছিল মাত্র ৫২। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নিচে ছিল কেবল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

এই প্রেক্ষাপটে, কক্সবাজার জেলার বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে বহু চ্যালেঞ্জ। জেলায় বসবাসরত বিশাল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী, যারা স্বাস্থ্যসেবার উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

FDMN (Forcibly Displaced Myanmar Nationals) এবং স্থানীয় জনগণের (Host Community) স্বাস্থ্যসেবায় চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

চ্যালেঞ্জ ১: স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব

এ অঞ্চলের স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত জ্ঞান খুবই সীমিত। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তারা প্রায়ই অবগত নয়। ফলে অসংক্রামক ব্যাধির পাশাপাশি সংক্রামক রোগ—যেমন স্ক্যাবিস, এইডস, সিফিলিস ইত্যাদি—স্থানীয় জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে।

উত্তরণের উপায়:

(ক) সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে জনপ্রতিনিধি, মাঝি-হেড মাঝি, ইমাম, ও স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা।
(খ) স্বাস্থ্যবিধি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের ভয়াবহতা, প্রতিকার ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

চ্যালেঞ্জ ২: স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অনীহা

ধর্মীয় কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের কারণে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণ আধুনিক চিকিৎসার চেয়ে ঝাড়ফুঁক বা লতা-পাতার ব্যবহারকে বেশি গুরুত্ব দেয়। পর্দাপ্রথা, গোপনীয়তা এবং নারীর চলাফেরায় বিধিনিষেধের কারণে অনেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে অনিচ্ছুক।

উত্তরণের উপায়:

(ক) স্থানীয়দের মাঝে প্রচলিত অপচিকিৎসার ক্ষতিকর দিক ও আধুনিক চিকিৎসার সুফল তুলনা করে উপস্থাপন করা—উঠান বৈঠক, নাটিকা, সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে।
(খ) “স্বাস্থ্যসেবা আপনার গৃহে”—এই স্লোগানে আউটরিচ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্লকভিত্তিক ও বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান। এর জন্য কমিউনিটি নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও মোতায়েন করা।

চ্যালেঞ্জ ৩: অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা

কক্সবাজারে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বসবাস করছে, যার জন্য ২৫০ শয্যার একটি মাত্র জেলা সদর হাসপাতাল রয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী আসে। জনবল সংকট প্রকট।

উত্তরণের উপায়:

(ক) ৫০০ শয্যার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা। নার্সিং কলেজ স্থাপন ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যা, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি বাড়ানো এবং সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
(খ) শূন্যপদের বিপরীতে দ্রুত জনবল নিয়োগ, বিশেষ করে নার্স নিয়োগ।

চ্যালেঞ্জ ৪: প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব

প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করার জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন, যা বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

উত্তরণের উপায়:

চলমান জনবলকে নিম্নোক্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া:

  • Basic Life Support (BLS), Advanced Life Support (ALS), Basic Emergency Care (BEC)

  • সংক্রমণ প্রতিরোধ (Infection Prevention and Control)

  • হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

  • মানসিক সহায়তা (Psychosocial Support – PSS)

  • নবজাতকের শ্বাস প্রশ্বাস সহায়তা (Helping Baby Breathe)

  • নিরাপদ ইনফিউশন থেরাপি

  • প্রবীণ ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার

  • শিশু ও মাতৃদুগ্ধ পুষ্টি (IYCF)

  • দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া (Disaster Response & Medical Emergency in Disaster)

উপসংহার

বর্তমানে অসংক্রামক ব্যাধির হার এই প্রান্তিক জেলাতেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর ৬৭% ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের মতো রোগে হয়, অথচ জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২% এই খাতে বরাদ্দ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও আর্ক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শহরাঞ্চলে ‘ন্যাশনাল হাইপারটেনশন অ্যান্ড ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল’ চালু করা হয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কক্সবাজারেও সম্প্রসারিত করা জরুরি।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট। ২০১৯ সালে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ২৬,২০০ জন মানুষ এতে মারা যায়। এই সংকট মোকাবেলায় ‘One Health Approach’ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমানে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ মাত্র ৫.২% এবং স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আছে মাত্র ১% মানুষ। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাশ্রয়ী ও নিয়ন্ত্রিত মূল্যের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠন অপরিহার্য।

লেখক
ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন
নার্স ও পুষ্টিবিদ, কক্সবাজার।

চকরিয়ায় অপহৃত দোকান কর্মচারী উদ্ধার, অপহরণকারী চক্রের প্রধান গ্রেফতার

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং থেকে অপহৃত দোকান কর্মচারী মোহাম্মদ পারভেজকে (১৭) অবশেষে উদ্ধার করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ। দীর্ঘ ১৬ ঘন্টার বিরতিহীন অভিযানে রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকা থেকে অপহরণের প্রধান হোতা নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মতে অপহৃত পারভেজকে বুধবার (১১ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং ছাগীর শাহ কাটা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার (এসআই) ফরিদ হোসেন বলেন, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ স্টেশন হতে বাড়িতে আসার পথে চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকা থেকে মো.পারভেজ নামের ছেলেটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ৬-৭ জন দুবৃর্ত্ত। পরে একটি নাম্বার থেকে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই মোবাইল নাম্বারের সুত্র ধরে রামু উপজেলার দূর্গম পাহাড়ি এলাকা ঈদগড়ে ১৬ ঘন্টার রুদ্ধদার অভিযান শেষে অপহরণের প্রধান হোতা
রামুর ইদগড়ের বাসিন্দা
নুরুল ইসলামকে আটক করা হয় ও পরে তার স্বীকারোক্তি মতে ভিকটিম পারভেজকে চকরিয়ার ডুলহাজারা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মোহাম্মদ পারভেজ চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের কোরবানিয়া ঘোনা এলাকার মনজুর আলমের ছেলে।
পারভেজের বাবা মঞ্জুর আলম জানান, তার ছেলে পারভেজ লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ একটি দোকানে চাকরি করতেন। দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে দুষ্কৃতিকারীরা অপহরণ করে নিয়ে যায়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র পারভেজ কে অপহরণ করে নিয়ে যায়। টানা ১৬ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে রাত ১০ টার দিকে ডুলাহাজারার ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপহরণকারী দলের একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই ।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপহরণের সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার করতে অভিযানে রয়েছে পুলিশ।

২ শতাধিক হাফেজকে পোশাক প্রদান

পেকুয়ায় মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

রেজাউল করিম. স্টাফ রিপোর্টার

কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার ২ শতাধিক এতিম শিক্ষার্থীর হাতে জোব্বা তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করা হয়।
বারবাকিয়া মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছারের সভাপতিত্বে উজানটিয়া এএস আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আবুল কালামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের লালখান বাজার অফিসার্স কলোনি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ্ব মাওলানা জে. এম. মনছুর আলম কুতুবী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুজ্জামান মঞ্জু, ফাঁশিয়াখালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আনছার উল্লাহ, মৌলভীবাজার ফারুকীয়া সিনিয়র মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আমিনুর রশিদ এবং টইটং বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পল্লী চিকিৎসক ডা. মোসলেম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাস্টার আমান উল্লাহ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাস্টার মো. নুরুন্নবী, মাস্টার মিজানুর রহমান, আনিছুর রহমান, আব্দুর রহিম ও রেজাউল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রমজান মাসের শুরুতে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় ৩ শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এতিম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত মহৎ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।

ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল – পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বান্দরবানের লামায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল। নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য নিরসন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রতীকীভাবে পাঁচটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।

মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলার ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ মোট ১২টি জাতিগোষ্ঠীর অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার আবদুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মিলটন মুহুরী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজা এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আমির হোসেনসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের সময় ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় সেগুলো তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক পরিবারের সদস্যরা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে, যা নারীর আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি এই সহায়তা দিয়ে বেকার ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারবে।

পরে দুপুরে মন্ত্রী লামা উপজেলা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত
উপজেলা পরিষদ মাঠে বান্দরবান, লামা, আলীকদমসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লোকজনের মাঝে বক্তব্য দেন।