| ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, মাদক ও অপরাধ দমন করা হবে

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, মাদক ও অপরাধ দমন করা হবে

রকিবুল হাসান

কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে সরকার নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ আজ সোমার (৯ ই মার্চ) ১ টার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলা পুলিশের নেতৃত্বে কক্সবাজারে প্রথম আইনশৃঙ্খলা বৈঠক ও ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদ করা হবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কাজটি সম্পন্ন হবে, আর সার্বিক সহযোগিতা করবেন সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল। এমন আইনশৃঙ্খলা সভা প্রতি মাসে অনুষ্ঠিত হবে এবং একটি বিভাগীয় কমিটিও গঠন করা হবে।
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবেন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কোনো রকমের ময়লা-আবর্জনা ও অবৈধ স্থাপনা যেন স্থাপন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, শহরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে এবং অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকবিরোধী অভিযান কার্যকর করতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হবে। এছাড়া ট্রাফিক ও পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য টমটম অটো ও ব্যাটারি চালিত রিক্সার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে না। এক লাইসেন্সে একাধিক রিক্সা ব্যবহার করলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে গরিবদের সেবা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।
সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে আজও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে। আমরা কোনো অস্ত্রধারী বা চাঁদাবাজকে আইনের বাইরে থাকতে দেব না। দেশের মানুষ যেন শান্তিতে থাকতে পারে, সেদিকে আমরা নজর রাখছি।”
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পেরিয়েছে, তবুও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা রয়ে গেছে। তবে নির্ধারিত অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা করণীয়, সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধীরা দেশের বাইরে পালিয়ে গেলেও তারা আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। তাদের আইনের আওতায় আসতেই হবে এবং দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের স্মরণে ‎স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ‎

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, মাদক ও অপরাধ দমন করা হবে


‎ডেস্ক রিপোর্ট

‎১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূল অঞ্চলে নিহতের স্মরণে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পেকুয়া উপজেলা লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এ স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

‎এ সময় নিহতদের স্মরণে স্মৃতিচারণ করেন, লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির যুগ্ন আহবায়ক এম আজম উদ্দিন, সদস্য সচিব দেলওয়ার হোসাইন, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক বারবাকিয়া উপশাখার ক্যাশ ইনচার্জ জিল্লুল করিম।

‎নিহতদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।

‎এসময় স্থানীয় মুসল্লী ও নানান শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’ লণ্ডভণ্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় পুরো উপকূল। স্মরণকালের ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৬ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। মারা যায় ২০ লাখ গবাদি পশু। প্রায় এক কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। ক্ষতি হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।



চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞলে প্রাণহানি হয়েছিল দেড় লক্ষ মানুষ

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল:স্বজন হারানোর স্মৃতি নিয়ে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে লাখো মানুষ 

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, মাদক ও অপরাধ দমন করা হবে

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল:স্বজন হারানোর স্মৃতি নিয়ে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে লাখো মানুষ 
চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞলে প্রাণহানি হয়েছিল দেড় লক্ষ মানুষ
এম.আবদুল্লাহ আনসারী
১৯৯১সালের এইদিন রাতে উপকূলের মানুষের উপর নেমে আসে জলোচ্ছ্বাসের ভয়ঙ্কর ও ভয়াল আগ্রাসন। এই রাতে কক্সবাজার জেলাসহ চট্টগ্রামের উপকূলে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের প্রানহানি হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ হয় স্বজন হারা, সন্তার তার পিতা মা-কে হারায়, মা তার সন্তান-স্বামীকে হারায়, স্বামী তার স্ত্রীকে হারায়। এমন পরিবার আছে যাদের সবাই সমূদ্রের ভয়াল জলোচ্ছ্বাসের থাবায় নিখোঁজ হয়েছে। অসংখ্য মানুষের মরদেহ পরিচয়হীন গন কবরস্থ করা হয়েছে।
লাখো বসত-বাড়ি জল স্রোতে ভেসে গেছে।
আজ ২৯ এপ্রিল। কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলবাসীর জন্য এক শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা। ভয়াল সেই দুর্যোগে প্রাণ হারান লাখো মানুষ, নিঃস্ব হয়ে পড়ে অসংখ্য পরিবার, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবন জীবিকার সবকিছু। কক্সবাজার উপকূলেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ হন, গবাদিপশু ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। সাগরের উত্তাল জলোচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই তলিয়ে যায় গ্রাম পর গ্রাম।
এমনকি কুতুবদিয়ার মানুষ ঘরের চালায় আশ্রয় নিয়েছিল ভেসে পেকুয়ার পূর্ব এলাকায় নিজের অজান্তে চলে এসেছে। ভেসে আসা মৃতদেহ গনকবর দেয়া হয়েছে।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে কক্সবাজার উপকূলসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে নেমে আসে প্রলয়ংকরী বিপর্যয়; প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে দেড় লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়। ৫–১০ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে কক্সবাজারের, সদর, মহেশখালী, চকরিয়া, কুতুবদিয়া ও টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে অসংখ্য গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। প্রায় এক কোটি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে, ধ্বংস হয় ঘরবাড়ি, সড়ক, বেড়িবাঁধসহ উপকূলীয় অবকাঠামো। লক্ষাধিক গবাদিপশু মারা যায় এবং ফসল, লবণ মাঠ, চিংড়ি ঘেরসহ জীবিকার প্রধান উৎসগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে উপকূলজুড়ে নেমে আসে মানবিক বিপর্যয়, যার বেদনা আজও বহন করে চলেছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকাময় রাতের স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি উপকূলের মানুষ। স্বজন হারানোর বেদনা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক পরিবার। প্রতি বছর এই দিনটি এলে নতুন করে জেগে ওঠে শোক, আতঙ্ক ও অজানা আশঙ্কা।

বিদ্যূত লাইন ও আমনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

পেকুয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, মাদক ও অপরাধ দমন করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

কক্সবাজারের
পেকুয়া উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে জনবসতি, দোকানপাট ও বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পেকুয়ায় এখনো পর্যন্ত বিদ্যূত সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গাছ উপড়ে পড়ে খুটি ভেঙে গেছে, তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২৯ এপ্রিল উপজেলা সদরে সাময়িক বিদ্যূত সরবরাহ দেয়া হলেও ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যূত সরবরাহ এখনো সম্ভব হয়নি কখন সম্ভব হবে তার নিশ্চিত করতে পারছেনা পেকুয়া পল্লী বিদ্যুত সাব স্টেশন।
আমন ধান কাটা শুরু হলেও বেশিরভাগ মাঠেই রয়েগেছে। ঝড়ো বাতাসে ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক কাটাধান ঘরে আনতে পারেনি। রাবারড্যাম ফুলানো থাকায় ধানক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঝড়ো হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মগনামা ইউনিয়নের মহুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছাদেক। তার বসতঘর গোয়াল ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে।
এদিকে ঝড়ে পেকুয়া উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কবির আহমদ চৌধুরী বাজার, চৌমুহনী স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে দোকানপাটের চালা উড়ে গেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

মগনামা ইউনিয়নে চল্লিশ বসতঘর, উজানটিয়ায় তিনটি ও রাজাখালীর উপকূলীয় এলাকাতেও ঝড়ে বহু গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বেশ কিছু বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী জানান, ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন মহুরীপাড়ার ছাদেক, সাতঘর পাড়ার হাজেরা বেগম, ছগিরের বাড়ি ও পাখি বেগমসহ অনেকে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমদাদুল হক শরীফ বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পেয়েছেন। পিআইও অফিস ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারণে কাজ করছে। জরুরি ভিত্তিতে বৃষ্টির পানি নিঃস্কাশনের সুবিধার জন্য মাতামুহুরি নদী ও ভোলার খালের রাবারড্যাম খুলে দিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।