কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, মাদক ও অপরাধ দমন করা হবে
রকিবুল হাসান
কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করতে সরকার নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ আজ সোমার (৯ ই মার্চ) ১ টার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলা পুলিশের নেতৃত্বে কক্সবাজারে প্রথম আইনশৃঙ্খলা বৈঠক ও ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সেগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদ করা হবে। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে কাজটি সম্পন্ন হবে, আর সার্বিক সহযোগিতা করবেন সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল। এমন আইনশৃঙ্খলা সভা প্রতি মাসে অনুষ্ঠিত হবে এবং একটি বিভাগীয় কমিটিও গঠন করা হবে।
তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবেন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কোনো রকমের ময়লা-আবর্জনা ও অবৈধ স্থাপনা যেন স্থাপন না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, শহরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে এবং অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকবিরোধী অভিযান কার্যকর করতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হবে। এছাড়া ট্রাফিক ও পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য টমটম অটো ও ব্যাটারি চালিত রিক্সার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে না। এক লাইসেন্সে একাধিক রিক্সা ব্যবহার করলে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে গরিবদের সেবা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে।
সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে আজও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলছে। আমরা কোনো অস্ত্রধারী বা চাঁদাবাজকে আইনের বাইরে থাকতে দেব না। দেশের মানুষ যেন শান্তিতে থাকতে পারে, সেদিকে আমরা নজর রাখছি।”
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পেরিয়েছে, তবুও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা রয়ে গেছে। তবে নির্ধারিত অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যা যা করণীয়, সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধীরা দেশের বাইরে পালিয়ে গেলেও তারা আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। তাদের আইনের আওতায় আসতেই হবে এবং দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










