| ২৮ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এনার্জি টক-৩ অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এনার্জি টক-৩ অনুষ্ঠিত

দেলওয়ার হোসাইন, সিনিয়র প্রতিবেদক, বেলাভূমি:

‎বাংলাদেশে সম্প্রতি বছরগুলোতে আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং শিল্পভিত্তিক ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য বেশ জোরেসোরে জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ভৌতঅবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উদ্দ্যেশ্য করে সরকার আমদানী নির্ভর কয়লা, প্রাকৃতিক তরল গ্যাস ও জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক প্রকল্পগুলোর উপর গুরুত্বারোপ করছে। জ্বালানি খাতে অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারনে প্রায়শই জীব বৈচিত্র ধংস হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিদেশী বিনিয়োগকে আকর্ষণ করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি প্রকল্পগুলো স্থানীয় শিল্প যেমন খামার, মৎস্য চাষ, লবণ উৎপাদন ইত্যাদীর ক্ষতি করছে। জ্বালানি খাতে সরকারের ভর্তুকী এবং অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা সরকারকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলছে। আমদানী করা জ্বালানির উপর নির্ভরতার ফলে বৈশ্বিক বাজার ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে ও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা বিপন্ন হচ্ছে। উন্নয়নকে পরিবেশগত ন্যায্যতা এবং অর্থনীতি ও পরিবেশের দ্বন্দ্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং পরিবেশ-সচেতন জ্বালানি রূপান্তর এখনই জরুরি। এই রূপান্তরের কেন্দ্রে থাকতে হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। দ্রুত জ্বালানি রূপান্তরের জন্য যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে তাদের কণ্ঠস্বরকে জোরদার করতে ও সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে মঙ্গলবার (২৬ আগষ্ট)  বিকেল ৩ টায় চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির অডিটোরিয়ামে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, থ্রিফিফটিডটওআরজি ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে “জ্বালানি সম্প্রসারণ: বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও ন্যায্য রূপান্তরে এর প্রভাব” শীর্ষক ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন আয়োজন করে।

ক্লাইমেট অ্যাকশন এন্ড ইয়ুথ এম্পাওয়ারমেন্ট অর্গানাইজেশন, কসমিক স্পোর্টস এন্ড হেলথ, গ্রীন লীড, গ্লোবাল ইয়ুথ প্লাটফর্ম,  মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, নওজুয়ান, প্রাণপ্রকৃতি, উশার আলো যুব সংঘ, ইয়ুথ চেঞ্জ সোসাইটি বাংলাদেশ, ইয়ুথ ইনোভেশন ফর অ্যাকশন, ও ইয়ুথ ভয়েস ফর চেঞ্জ এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে  প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন  চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সন্মানিত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির ।

এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন, ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস এর প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল,  ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি এর কৌশলগত উপদেষ্টা হারজিত সিং।

অনুষ্ঠানে সঞ্চলনা ও সূচনা বক্তব্য রাখেন, থ্রিফিফটিডটওআরজি এর দক্ষিণ এশিয়া সমন্বয়কারী আমানুল্লাহ পরাগ। এতে অংশগ্রহণ করেন তরুণ জলবায়ু এক্টিভিটিস , শিক্ষার্থী, গবেষক, বিশেষজ্ঞ, সিভিল সোসাইটি সংগঠনের নেতারা।

‎প্রধান অতিথি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে। জ্বালানি ও পরিবেশের এই আন্তঃসংযোগ সম্পর্কে জানানো এবং আলোচনা করার জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান সময়োপযোগী। বাংলাদেশ সরকারের বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য, আর তার মধ্যে জ্বালানি উল্লেখযোগ্য। কিন্তু জ্বালানি খাত এর টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। আমরা জ্বালানি বলতে সাধারণ ভাবে তেলভিত্তিক জ্বালানিকে বুঝি। গ্রীন হাউস গ্যাস এর কারনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর জন্য আমাদেরকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উপর নির্ভর করতে হবে। তিনি আশা করেন এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কিভাবে টেকসই করা যায় তা জানতে পারবে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস এর প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অনাকাঙ্ক্ষিত ও অদূরদর্শী জ্বালানি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা আমাদের অর্থনৈতিক চাপ বাড়ায়।

তাই জ্বালানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য উৎসের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের মোট জ্বালানির ৪০ শতাংশ আমদানী নির্ভর। আবার আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতার ৫০ ভাগের বেশী আমদানী নির্ভর। আমাদের জ্বালানি ব্যবহারে পুরোপুরি দক্ষতা নেই। আমাদের গ্যাস সম্পদের বিকল্প না থাকায় আমাদেরকে আমদানী করতে হয়। আমরা মোট যতটুকু বিদ্যুৎ জ্বালানি ব্যবহার করি, তার মাত্র ২ শতাংশ নবায়নযোগ্য। জ্বালানি ক্ষেত্রে একটি দেশের অবস্থান নির্ণয়ে তিনটি প্যারামিটার দেখা হয় যেগুলো হচ্ছে- জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানি সমতা ও জ্বালানি স্থায়ীত্বশীলতা। এগুলোর বিবেচনায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৮৩ তম, যা গত ২ বছর আগে ছিল ৭৭ তম। আমাদেরকে জ্বালানি ব্যবহারে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন,বিগত সরকার ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিকল্পনা করে, কিন্তু আমাদের আন্দোলনের ফলে মাত্র ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। আমরা জানার চেষ্টা করেছি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছাই এর কারনে আমাদের পরিবেশ কতটা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমরা দেখেছি দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে গ্রামে ফসলি ক্ষেতে এখন ফসল হয়না, নদীর পানিতে কেমিক্যাল এর কারনে মাছের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। উন্নয়ন কখনোই পরিবেশকে ক্ষতি করে হতে পারে না। সরকার কখনোই পরিবেশ সমীক্ষা করতে চায়না। দাতা সংস্থার চাপে সরকার সমীক্ষা করলেও তার গ্রহনযোগ্যতা নাই, কারন সেখানে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। যুব সমাজকে নিজের দেশের জীববৈচিত্র সম্পর্কে জানতে হবে, শুধু পরিবেশ এর জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেই হবেনা।

ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি এর কৌশলগত উপদেষ্টা হারজিত সিং বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক নেতিবাচক রাজনীতির কারনে জ্বালানি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সম্পদের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা সবচেয়ে বড় জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ। গত এক দশকে অনেক বিনিয়োগ হলেও জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যাবহার এর অবস্থার উন্নতি হয়নি। জ্বালানি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের জন্য আমাদেরকে গুটি কয়েক দেশের উপর নির্ভর করতে হয় যেমন চায়না। এক্ষেত্রে শুল্ক আরোপের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তাই আমদানী নির্ভর খনিজ সম্পদের উপর নির্ভরতা না কমলে জ্বালানি উৎপাদনে অগ্রগতি দুরুহ। আমরা নিজেদের প্রচেষ্টায় এর সমাধান করতে পারিনা। তাই আমাদেরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কথা বলতে হয়। শুন্য কার্বন নিঃসরন করার জন্য ২০৫০ কে টার্গেট করা হলেও উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে তা অর্জন খুবই কষ্টকর। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সকলের সহযোগিতা দরকার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনের ঝুকি নিয়ে গত এক দশকে এখনো কোন চুক্তি হয়নি। ফসিল ফুয়েল নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি ইনিশিয়েটিভ এ এখন পর্যন্ত ১৭ টি দেশ যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে না থাকলেও বাংলাদেশ ভুমিকাও গুরুত্বপুর্ণ হতে পারে। কারন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কথা বলা দরকার।

‎অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। তিনি তার বক্তব্যে বলেন তিনি সবসময়ই এধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনকে সহায়তা করতে চান। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

‎প্রতিটি আলোচনার পর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় নিবন্ধিত ১৩০ জন তরুণ অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।

‎অনুষ্ঠান শেষে ধরা-চট্টগ্রাম এর সদস্য সচীব নিজামুদ্দিন সারুদ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এসময় ধরা কক্সবাজার শাখার সহ সভাপতি ফরিদুল আলম শাহিন, পেকুয়া শাখার সমন্বয়ক দেলওয়ার হোসাইন সহ আরও অনেকই উপস্থিত ছিলেন।

কোস্ট গার্ডকে আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এনার্জি টক-৩ অনুষ্ঠিত

ডেক্স রিপোর্ট

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আজ আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী চিন্তায় প্রতিষ্ঠিত এই বাহিনীকে একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

মন্ত্রী আজ (২৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কোস্ট গার্ড দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই ‘Guardian at Sea’ মূলমন্ত্রে এই বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল। আজ এই বাহিনী মাদক চোরাচালান রোধ, মানব পাচার বন্ধ, জলদস্যু দমন এবং সুন্দরবনের বনজ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি বিশেষ করে সুন্দরবনে গত এক বছরে ২৯টি সফল অভিযানে ৩৫ জন ডাকাত গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও কাঠ উদ্ধারের জন্য বাহিনীর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি বহরে ৩টি সার্ভেইলেন্স ড্রোন যুক্ত হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে ১টি মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও ২টি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়া খুলনা শিপইয়ার্ডের মাধ্যমে বুলেটপ্রুফ হাই-স্পিড বোট ক্রয় এবং ভবিষ্যতে হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম সারভেইলেন্স সিস্টেম সংযোজনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। বাহিনীর জনবল ১০ হাজারে উন্নীত করার কাজও প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের শুরুতে মন্ত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের, স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যহীন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ জিয়াউল হক এনডিসি। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

মন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য ০৪ জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, ০৪ জনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, ০৩ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং ০৩ জনকে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদকসহ মোট ১৪ জন সদস্যের হাত পদক তুলে দেন। পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি তাদের দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উপর ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। মন্ত্রী কোস্ট গার্ড সদর দপ্তর চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং ভিজিটর বুকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

চকরিয়ায় বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে আরোহী নিহত

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এনার্জি টক-৩ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটর সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান, চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের পরিদর্শক মো. আরিফুল আমিন।

নিহত মো. মিজানুর রহমান চট্টগ্রামের দোহাজারী পৌরসভার বাসিন্দা এবং চন্দনাইশে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ (এমআর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি আরিফুল আমিন বলেন, সকালে চকরিয়া উপজেলার হারবাং এলাকায় কক্সবাজারমুখী একটি মোটর সাইকেলের সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা পূরবী পরিবহন সার্ভিসের একটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মোটর সাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে এক আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পরপরই চালক বাসটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনা কবলিত মোটর সাইকেলটি জব্দ করেছে বলে জানান তিনি।

চিরিংগা হাইওয়ে থানার ওসি আরিফুল আমিন জানান, নিহতের লাশ এখনো চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

কক্সবাজারে বজ্রপাতে লবণ শ্রমিক নিহত

চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে এনার্জি টক-৩ অনুষ্ঠিত

নিজস্কব প্রতিবেদক

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডীতে বজ্রপাতে রমিজ উদ্দীন নামে  এক লবণ মাঠের শ্রমিক নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে চৌফলদন্ডী ব্রীজে ঘটে এ ঘটনা। তিনি ঔ এলাকার অছিয়র রহমানের পুত্র।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, লবণের মাঠ থেকে ব্রিজের ওপর ওঠার সময় বজ্রপাতের শিকার হন ওই ব্যক্তি এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনজুর আলম বলেন, স্থানীয়রা বিষয়টি তাকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমিউদ্দিন জানান, বজ্রপাতে একজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।