| ২৩ জুন ২০২৬

পেকুয়ায় পাহাড়ে ১০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

পেকুয়ায় পাহাড়ে ১০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

Oplus_131072

পেকুয়ার টইটং, বারবাকিয়া ও শিলখালী ইউনিয়নের বেশ অংশ জুড়েই রয়েছে পাহাড়ী অঞ্চল। এসব পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ। তবে ইদানিং বেপরোয়া পাহাড় কাটা ও নানা কারণে কিছু কিছু পাঁহাড় বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর এই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেত অংশে কেবল ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়েই বসবাস করেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই আতংকে দিনাতিপাত করছেন এসব পাহাড়ে বসবাসকারী লোকজন। প্রতি বছরই এ মৌসুমে পেকুয়ায় ছোটবড় পাহাড় ও দেয়াল ধ্বসের ঘটনা ঘটার প্রবণতা রয়েছে। তাই বর্ষা এলেই স্থানীয় বাসিন্দারা পাহাড় ধ্বস নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করেন। স্থানীয় ও সচেতন মহলের অভিযোগ, পেকুয়ায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ কার্যক্রম নেই বললেই চলে। মাঝে মধ্যে বন বিভাগ লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস বন্ধ করা যাচ্ছেনা। পাহাড়ে বসবাস করা বেশিরভাগ মানুষই নিন্ম আয়ের। সেখানে বসবাসের জন্য নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে। ফলে বৃষ্টি হলেই মাটি ধ্বসে পড়ছে। স্থানীয়রা জানান, পাহাড় কাটা বন্ধে মাঝেমধ্যে প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ করা গেলেও রহস্যজনক কারণে আবার তা থেমে যায়।
তথ্যসূত্র জানায়, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে পাহাড়ে এখন অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা ৬ হাজারের অধিক। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বারবাকিয়া, শিলখালী ও টৈটং এ ৩০ হাজারের বেশি লোক বসবাস করে পাহাড়ে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিলখালী ইউনিয়নের মাঝের ঘোনা, জারুলবনিয়া, সাপের ঘারা, ঢালার মুখ, এলাকায় অনেকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ঘেঁষে পাকা দালান গড়ে তুলছেন স্থানীয় লোকজন। আবার অনেকগুলো পাহাড়ের ঢালুতে দুইতলা পর্যন্ত দালান তৈরী করছেন কেউ কেউ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পেকুয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক এফ এম সুমন বলছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর এসব পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন এরা। কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পাহাড়ে বিদ্যুৎ দিয়ে মানুষকে পাহাড় দখলের উৎসাহ দিচ্ছে। তারা যদি গহিন বনে বিদ্যুৎ না দিলে পাহাড় অনেকটা রক্ষা হতো। ফলে অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় দখল ও ঝুকিপূর্ণ বসতি গড়ে উঠতো না। আমরা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি জোর আবেদন জানাচ্ছি পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণ বসবাস ও পাহাড় দখল বন্ধ করা হোক। টইটং ইউনিয়নের জুমপাড়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী একাধিক বাসিন্দা জানান, তারা ভূমিহীন, কোথাও তাদের থাকার জায়গা নেই। এখানে কম টাকায় পাহাড় কিনে পরিবার নিয়ে থাকতে পারছেন বলেই তারা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও তারা বসবাস করছেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন বিভিন্ন সময় তাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি কখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। খবর নিয়ে জানা গেছে, পাহাড়ের মালিক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উদাসীনতার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু মহল পাহাড়গুলো দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে আবার বিক্রি করে দিচ্ছেন। শিলখালী জারুলবনিয়া এলাকার আব্দুল জব্বার আকাশ বলেন, গত বছর শিলখালী জারুলবনিয়া সেগুনবাগিচা এলাকায় পাহাড় ধ্বসে এক পরিবারের মা মেয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেখুজ্জামান বলেন, বর্ষায় ঝুকিপূর্ণ পাহাড় গুলোতে আমরা মাইকিং করে জানিয়ে দিচ্ছি, লোকজনকে সাবধান করছি। সেই সাথে পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

পোকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি

পেকুয়ায় পাহাড়ে ১০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

মনিরুল আমিন.চকরিয়া

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের পোকখালী রেড ক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ২ টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের তালা ভেঙে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান শিক্ষা উপকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন জানান,চোরেরা শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ,প্রজেক্টর, সিসিটিভি ক্যামেরা,ইন্টারনেট রাউটার,ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার সরঞ্জামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে। আজ সকালে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে এসে তিনি দেখতে পান চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ চুরির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক বলেন,এ বিষয়ে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান,একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এতে শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়নি,বরং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পেকুয়ায় পাহাড়ে ১০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

পেকুয়ায় পাহাড়ে ১০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।