প্রকাশের সময়: রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫ । ১২:২১ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

পেকুয়ায় পাহাড়ে ১০ হাজার মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

বাহার উদ্দিন

পেকুয়ার টইটং, বারবাকিয়া ও শিলখালী ইউনিয়নের বেশ অংশ জুড়েই রয়েছে পাহাড়ী অঞ্চল। এসব পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ। তবে ইদানিং বেপরোয়া পাহাড় কাটা ও নানা কারণে কিছু কিছু পাঁহাড় বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আর এই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেত অংশে কেবল ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়েই বসবাস করেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই আতংকে দিনাতিপাত করছেন এসব পাহাড়ে বসবাসকারী লোকজন। প্রতি বছরই এ মৌসুমে পেকুয়ায় ছোটবড় পাহাড় ও দেয়াল ধ্বসের ঘটনা ঘটার প্রবণতা রয়েছে। তাই বর্ষা এলেই স্থানীয় বাসিন্দারা পাহাড় ধ্বস নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করেন। স্থানীয় ও সচেতন মহলের অভিযোগ, পেকুয়ায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ কার্যক্রম নেই বললেই চলে। মাঝে মধ্যে বন বিভাগ লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস বন্ধ করা যাচ্ছেনা। পাহাড়ে বসবাস করা বেশিরভাগ মানুষই নিন্ম আয়ের। সেখানে বসবাসের জন্য নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে। ফলে বৃষ্টি হলেই মাটি ধ্বসে পড়ছে। স্থানীয়রা জানান, পাহাড় কাটা বন্ধে মাঝেমধ্যে প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ করা গেলেও রহস্যজনক কারণে আবার তা থেমে যায়।
তথ্যসূত্র জানায়, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে পাহাড়ে এখন অবৈধ স্থাপনার সংখ্যা ৬ হাজারের অধিক। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বারবাকিয়া, শিলখালী ও টৈটং এ ৩০ হাজারের বেশি লোক বসবাস করে পাহাড়ে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিলখালী ইউনিয়নের মাঝের ঘোনা, জারুলবনিয়া, সাপের ঘারা, ঢালার মুখ, এলাকায় অনেকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ঘেঁষে পাকা দালান গড়ে তুলছেন স্থানীয় লোকজন। আবার অনেকগুলো পাহাড়ের ঢালুতে দুইতলা পর্যন্ত দালান তৈরী করছেন কেউ কেউ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পেকুয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক এফ এম সুমন বলছেন, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর এসব পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন এরা। কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি পাহাড়ে বিদ্যুৎ দিয়ে মানুষকে পাহাড় দখলের উৎসাহ দিচ্ছে। তারা যদি গহিন বনে বিদ্যুৎ না দিলে পাহাড় অনেকটা রক্ষা হতো। ফলে অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় দখল ও ঝুকিপূর্ণ বসতি গড়ে উঠতো না। আমরা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি জোর আবেদন জানাচ্ছি পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণ বসবাস ও পাহাড় দখল বন্ধ করা হোক। টইটং ইউনিয়নের জুমপাড়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী একাধিক বাসিন্দা জানান, তারা ভূমিহীন, কোথাও তাদের থাকার জায়গা নেই। এখানে কম টাকায় পাহাড় কিনে পরিবার নিয়ে থাকতে পারছেন বলেই তারা ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও তারা বসবাস করছেন। তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন বিভিন্ন সময় তাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতি কখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। খবর নিয়ে জানা গেছে, পাহাড়ের মালিক সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উদাসীনতার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু মহল পাহাড়গুলো দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে আবার বিক্রি করে দিচ্ছেন। শিলখালী জারুলবনিয়া এলাকার আব্দুল জব্বার আকাশ বলেন, গত বছর শিলখালী জারুলবনিয়া সেগুনবাগিচা এলাকায় পাহাড় ধ্বসে এক পরিবারের মা মেয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা খালেখুজ্জামান বলেন, বর্ষায় ঝুকিপূর্ণ পাহাড় গুলোতে আমরা মাইকিং করে জানিয়ে দিচ্ছি, লোকজনকে সাবধান করছি। সেই সাথে পাহাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

প্রিন্ট করুন