কর্ণফুলী ফাউন্ডেশন লাপাত্তা!
গ্রাহকদের টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
মনিরুল আমিন
কক্সবাজারের চকরিয়ায় কর্ণফুলী ফাউন্ডেশন নামে একটি মাল্টিপারপাস কোম্পানি শতশত গ্রাহকদের কোটি-কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ায়,প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের গ্রেফতার ও টাকা উদ্ধারের দাবিতে অফিস ঘেরাও, গ্রাহকদের মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ২ টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া নিউ মার্কেট এর সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ এবং বিকেলে চকরিয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী গ্রাহক।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাহক ফল বিক্রেতা মোঃ বশিরুল আলম বলেন,আমার ছেলেদের বিদেশে পাঠানোর জন্য জমানো ৩২ লাখ টাকা কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনে এফডিআর করে রেখেছিলাম। এখন টাকা মেরে দিয়ে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছে। আমার সারাজীবনের সঞ্চয় হারিয়ে আমি এখন পাগলের মতো হয়ে গেছি। এ কারণে টেনশনে তিনি দুইবার স্ট্রোক করেছেন বলেও জানান।
বৃদ্ধ গ্রাহক আম্বিয়া খাতুন বলেন,আমি বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ভিক্ষা করে জমানো এক লাখ টাকা ফাউন্ডেশনে জমা রেখেছি মৃত্যুর পরে ওয়ারিশরা যাতে আমার দাফন-কাফনের কাজে ব্যবহার করতে পারে। কর্ণফুলী ফাউন্ডেশন সকলের টাকা মেরে পালিয়ে গেছে।
এদিকে বিকেলে চকরিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী সামাদুর রহমান সুমন। লিখিত বক্তব্যে সুমন বলেন,দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আমি প্রবাসে রয়েছি। আমার প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত তিলেতিলে সঞ্চয় করা ১ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা ৫ দফায় চকরিয়ার কর্ণফুলী ফাউন্ডেশন (কেএমসিএসএল) এ ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) করি। কোম্পানি টি আমাকে তাদের নিজেদের নামীয় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংকের নামে ভিন্ন ভিন্ন তারিখের ৫টি চেক প্রদান করে। যার মধ্যে ৩ লাখ টাকার একটি চেক বিগত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়।
সুমন বলেন,কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনে আমার আপন বড় ভাই শাহাজাহান ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন বিধায়,আমি সরল বিশ্বাসে এত গুলো টাকা আমানত হিসেবে রাখি। এই টাকা গুলো সম্পুর্ন ভাবে আমার কষ্টার্জিত টাকা, এসব টাকা বিদেশ থেকে দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ সরকারকে অনেক গুলো র্যামিটেন্স দিয়েছি। যার ডকুমেন্টস সংরক্ষিত আছে।
প্রবাসী সুমন সংবাদিকদের বলেন,আমার মতো অপর আরেকজন ভুক্তভোগী কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনে কিছু টাকা ইনভেস্ট করেন। কোম্পানিটি উধাও হয়ে গেলে,তিনি তার টাকা ফেরত চেয়ে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি দরখাস্ত করেন। দুঃখজনক ভাবে ওই দরখাস্তে আমাকেও বিবাদী করা হয়েছে। ধারণা করছি আমার ভাই যেহেতু কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার ছিলেন,তাই হয়তো ওনি ভুলবশত আমার নামও এখানে জড়িয়ে দিয়েছে। আমি কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পরিষদের সাথে কোন ভাবেই জড়িত নই। আমার বিন্দু পরিমাণেও কোন সম্পৃক্ততা কেউ দেখাতে পারবে না। আমিও একজন ওনার মতো ভুক্তভোগী। আমি ইতোমধ্যে কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনের পরিচালকদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি। এছাড়াও আরও কয়েকজন গ্রাহক আমাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এধরণের অপপ্রচার মিথ্যা ও উদ্যেশ্য প্রনোদিত। আমি তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমি প্রশাসন ও জনসাধারণ কে সবিনয় অনুরোধ করছি।
তাঁর প্রবাস জীবনে কষ্টার্জিত ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া কর্ণফুলী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নিতে চকরিয়া-পেকুয়ার আপামর জনতার আস্থাভাজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি,প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ও চকরিয়া থানার ওসি’র কাছে সবিনয়ে অনুরোধ জানান প্রবাসী সামাদুর রহমান।















