প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬ । ১১:৪০ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

চকরিয়ায় আলোচিত সিরাজ হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার,নিহতের পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক

 

মনিরুল আমিন

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়ন সওদাগর ঘোনা এলাকায় আলোচিত সিরাজুল ইসলাম হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামি সোহেল আহমদকে বিক্ষুব্ধ জনগণ আটক করে গণধোলাইয়ের পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

চারটি হত্যাসহ ৮ মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল আহমদকে আটকের ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিহত সিরাজের পরিবারকে মামলায় জড়ানোসহ বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা এবং তাদের পরিবার । সওদাগর ঘোনা এলাকার ইদ্রিস আহমদ এর ছেলে সোহেল চিরিংগা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য বলে জানা গেছে।

এদিকে নিহত সিরাজুল ইসলামের পরিবার ও এলাকাবাসীর নিরাপত্তার দাবিতে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সওদাগর ঘোনা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহত সিরাজের পরিবার ও স্থানীয় জনসাধারণ।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত সিরাজের পিতা ওমর আলী বলেন,গত বছরের ২৫ অক্টোবর বিকেলে বেগুন খেতে কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে সওদাগর ঘোনা চারা বটতলী এলাকা থেকে ধরে নিয়ে পার্শ্ববর্তী খালি জায়গায় স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর,ইউসুফ,কপিল, সোহেল,ইউনুস,রহিম, গিয়াসউদ্দিন,কুতুবউদ্দিন,নুর মোহাম্মদ মনিক্কা,জুয়েল, মহিউদ্দিন,আনোয়ার হোসেনসহ ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী গুলি করে ও পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যাকরে। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করি। ওই মামলার এজাহার নামীয় ৪ নম্বর আসামি চারটি হত্যাসহ ৮ মামলার আসামি সোহেলকে গত শনিবার এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া করে আটক করে। পরে চকরিয়া থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

নিহত সিরাজের স্ত্রী জান্নাতুল মোস্তফা মনি বলেন,আমার স্বামীসহ চার খুনের মামলার আসামি সোহেলের প্রতি পুরো সওদাগর ঘোনাবাসী অতিষ্ঠ ছিল। তাঁকে আটকের পর বিক্ষুব্ধ জনতা উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে,এতে সে কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় আমাদের পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানিসহ নানারকম হুমকি-ধামকি দিচ্ছে খুনিদের আত্মীয় স্বজনেরা। আমি পিতাহারা তিন সন্তানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভোগছি।

স্থানীয়রা জানান,তিন মাসের মধ্যে দুই খুনের মূল হোতা সোহেল গ্রেফতার হলেও অপরাপর খুনিরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়ানোয় এলাকাবাসী আতংকে দিনাতিপাত করছে। যে কোন সময়ে আবারও নৃশংস ঘটনার আশংকা প্রকাশ করে তারা প্রশাসনের সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বেলাভূমিকে জানান,সিরাজুল ইসলাম খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে।

 

প্রিন্ট করুন