| ৩০ এপ্রিল ২০২৬

মহেশখালীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত

মহেশখালীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

মহেশখালী উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসুচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে জাতীয় প্রস্তুতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও মহড়া। ১০ই মার্চ সকালে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইমরান মাহমুদ ডালিমের সভাপতিত্বে মহেশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ কাউছার আহমেদের পরিচালনায় উপজেলা পরিষদ সম্মুখ থেকে দূর্যোগ প্রস্তুতি উদযাপনের র‍্যালীটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষীণ করেন।
পরে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্কর্তাদের টিম দূর্যোগকালীন সময়ে করণীয় বিষয়ে মহড়া প্রদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী সুদর্শন কান্তি দে,উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক, উপজেলার সমাজ সেবা কর্মকর্তা দিদারুল আলম, ফাযার সার্ভিস ষ্টেশন কর্মকর্তা রামপ্রসাদ, সিপিপির টিম লিডার আকতার কামাল চৌধুরী, মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগন।

১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের স্মরণে ‎স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ‎

মহেশখালীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত


‎ডেস্ক রিপোর্ট

‎১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূল অঞ্চলে নিহতের স্মরণে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পেকুয়া উপজেলা লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এ স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

‎এ সময় নিহতদের স্মরণে স্মৃতিচারণ করেন, লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির যুগ্ন আহবায়ক এম আজম উদ্দিন, সদস্য সচিব দেলওয়ার হোসাইন, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক বারবাকিয়া উপশাখার ক্যাশ ইনচার্জ জিল্লুল করিম।

‎নিহতদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।

‎এসময় স্থানীয় মুসল্লী ও নানান শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’ লণ্ডভণ্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় পুরো উপকূল। স্মরণকালের ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৬ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। মারা যায় ২০ লাখ গবাদি পশু। প্রায় এক কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। ক্ষতি হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।



চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞলে প্রাণহানি হয়েছিল দেড় লক্ষ মানুষ

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল:স্বজন হারানোর স্মৃতি নিয়ে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে লাখো মানুষ 

মহেশখালীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল:স্বজন হারানোর স্মৃতি নিয়ে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে লাখো মানুষ 
চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞলে প্রাণহানি হয়েছিল দেড় লক্ষ মানুষ
এম.আবদুল্লাহ আনসারী
১৯৯১সালের এইদিন রাতে উপকূলের মানুষের উপর নেমে আসে জলোচ্ছ্বাসের ভয়ঙ্কর ও ভয়াল আগ্রাসন। এই রাতে কক্সবাজার জেলাসহ চট্টগ্রামের উপকূলে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের প্রানহানি হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ হয় স্বজন হারা, সন্তার তার পিতা মা-কে হারায়, মা তার সন্তান-স্বামীকে হারায়, স্বামী তার স্ত্রীকে হারায়। এমন পরিবার আছে যাদের সবাই সমূদ্রের ভয়াল জলোচ্ছ্বাসের থাবায় নিখোঁজ হয়েছে। অসংখ্য মানুষের মরদেহ পরিচয়হীন গন কবরস্থ করা হয়েছে।
লাখো বসত-বাড়ি জল স্রোতে ভেসে গেছে।
আজ ২৯ এপ্রিল। কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের উপকূলবাসীর জন্য এক শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক দিন। ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা। ভয়াল সেই দুর্যোগে প্রাণ হারান লাখো মানুষ, নিঃস্ব হয়ে পড়ে অসংখ্য পরিবার, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবন জীবিকার সবকিছু। কক্সবাজার উপকূলেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। অসংখ্য মানুষ নিখোঁজ হন, গবাদিপশু ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। সাগরের উত্তাল জলোচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই তলিয়ে যায় গ্রাম পর গ্রাম।
এমনকি কুতুবদিয়ার মানুষ ঘরের চালায় আশ্রয় নিয়েছিল ভেসে পেকুয়ার পূর্ব এলাকায় নিজের অজান্তে চলে এসেছে। ভেসে আসা মৃতদেহ গনকবর দেয়া হয়েছে।

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে কক্সবাজার উপকূলসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে নেমে আসে প্রলয়ংকরী বিপর্যয়; প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার থেকে দেড় লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়। ৫–১০ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে কক্সবাজারের, সদর, মহেশখালী, চকরিয়া, কুতুবদিয়া ও টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে অসংখ্য গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। প্রায় এক কোটি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে, ধ্বংস হয় ঘরবাড়ি, সড়ক, বেড়িবাঁধসহ উপকূলীয় অবকাঠামো। লক্ষাধিক গবাদিপশু মারা যায় এবং ফসল, লবণ মাঠ, চিংড়ি ঘেরসহ জীবিকার প্রধান উৎসগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে উপকূলজুড়ে নেমে আসে মানবিক বিপর্যয়, যার বেদনা আজও বহন করে চলেছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই বিভীষিকাময় রাতের স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি উপকূলের মানুষ। স্বজন হারানোর বেদনা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেক পরিবার। প্রতি বছর এই দিনটি এলে নতুন করে জেগে ওঠে শোক, আতঙ্ক ও অজানা আশঙ্কা।

বিদ্যূত লাইন ও আমনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

পেকুয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে

মহেশখালীতে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে র‍্যালী, আলোচনা সভা ও মহড়া অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক 

কক্সবাজারের
পেকুয়া উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে জনবসতি, দোকানপাট ও বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পেকুয়ায় এখনো পর্যন্ত বিদ্যূত সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গাছ উপড়ে পড়ে খুটি ভেঙে গেছে, তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ২৯ এপ্রিল উপজেলা সদরে সাময়িক বিদ্যূত সরবরাহ দেয়া হলেও ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যূত সরবরাহ এখনো সম্ভব হয়নি কখন সম্ভব হবে তার নিশ্চিত করতে পারছেনা পেকুয়া পল্লী বিদ্যুত সাব স্টেশন।
আমন ধান কাটা শুরু হলেও বেশিরভাগ মাঠেই রয়েগেছে। ঝড়ো বাতাসে ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক কাটাধান ঘরে আনতে পারেনি। রাবারড্যাম ফুলানো থাকায় ধানক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঝড়ো হাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মগনামা ইউনিয়নের মহুরীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছাদেক। তার বসতঘর গোয়াল ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে গেলে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে।
এদিকে ঝড়ে পেকুয়া উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র কবির আহমদ চৌধুরী বাজার, চৌমুহনী স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে দোকানপাটের চালা উড়ে গেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

মগনামা ইউনিয়নে চল্লিশ বসতঘর, উজানটিয়ায় তিনটি ও রাজাখালীর উপকূলীয় এলাকাতেও ঝড়ে বহু গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং বেশ কিছু বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী জানান, ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন মহুরীপাড়ার ছাদেক, সাতঘর পাড়ার হাজেরা বেগম, ছগিরের বাড়ি ও পাখি বেগমসহ অনেকে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমদাদুল হক শরীফ বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পেয়েছেন। পিআইও অফিস ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নির্ধারণে কাজ করছে। জরুরি ভিত্তিতে বৃষ্টির পানি নিঃস্কাশনের সুবিধার জন্য মাতামুহুরি নদী ও ভোলার খালের রাবারড্যাম খুলে দিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।