| ২ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজার -৩ (মহেশখালী -কুতুবদিয়া)আসনে বিএনপির প্রার্থী কে

কক্সবাজার -৩ (মহেশখালী -কুতুবদিয়া)আসনে বিএনপির প্রার্থী কে

কক্সবাজার -৩ (মহেশখালী -কুতুবদিয়া)আসনে বিএনপির প্রার্থী কে? সালাহউদ্দিন আহমদ না ড. সলিমুল্লাহ এমন জল্পনা কল্পনা ঘুরে বেড়াচ্ছে কক্সবাজার জেলা জুড়ে. 

কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করা হলেও অর্থনৈতিকভাবে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন কক্সবাজার-২
(মহেশখালী–কুতুবদিয়া) এ কী ঘটতে যাচ্ছে এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল দিন দিন বেড়েই চলছে

কক্সবাজার জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক ইউসূফ বদরীর ভাষ্য, প্রার্থী বাছাইয়ে চমক আসতে যাচ্ছে আসনটিতে। এজন্য সাধারণ জনগণকে তিনি ধৈর্য্য ধরতে অনুরোধ করেন।

এদিকে, বিএনপি তাদের প্রার্থীদের সাথে মনবিনিময় সভায় এই আসন থেকে তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশীকে ডেকেছিলেন।
তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে ছিলেন— সাবেক সাংসদ ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী, সাবেক এমপি আলমগীর মাহফুল্লাহ ফরিদ ও সাবেক মহেশখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিক।
তবে দলটির গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বলছে, মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থেকে ছিটকে পড়েছেন আলমগীর ফরিদ ও আবু বক্কর ছিদ্দিক।

দলীয় সূত্র কি বলছে?
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আলমগীর ফরিদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দলের হাইকমান্ডে পৌঁছেছে। আওয়ামী লীগ আমলে ‘কার্যকর’ অর্থে সক্রিয় ছিলেন না তিনি, তার ভাতিজা আওয়ামী লীগের এমপি আশেকউল্লাহ রফিককে ম্যানেজ করে প্রোগ্রাম কারার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । সে কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকার বিষয়টি বেশ আলোচনায় আসে কেন্দ্রের কাছে। ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিজের ভাতিজাকে প্রার্থী করে দল থেকে বহিষ্কার হন। পরে ২০২৪ সালেও ভাতিজাকে উপজেলা নির্বাচনে মাঠে নামায়, যখন বিএনপিসহ সকল আওয়ামী বিরোধী দল ভোট বর্জন করে।
বিএনপির দুর্দিনে (নব্বইয়ের দশক ও লীগের টানা ১৫ বছরের শাসন) তার পরিবারই মহেশখালী আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দেয়া এবং আলোচিত শফি হত্যা মামলার বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।এছাড়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আলমগীর ফরিদের দূরত্ব তৈরি হওয়াও তার অবস্থান দুর্বল করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে, আবু বক্কর ছিদ্দিককেও খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি দল। ভাই মকছুদ মিয়ার ‘আমলনামা’ নিয়ে বিতর্ক থাকায় তাকে নিয়েও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে।
হাইকমান্ডের নজর হেভিওয়েট প্রার্থীর দিকে
দলীয় সূত্র জানায়, এই আসনটি বিএনপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দলটি এখানে “হাই-প্রোফাইল” বা “হেভিওয়েট” প্রার্থী আনতে চায়। হাইকমান্ডের আলোচনায় উঠে এসেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম। সেক্ষেত্রে কক্সবাজার-১ আসনে প্রার্থীর পরিবর্তন আসবে। অথবা দল যদি সিদ্ধান্ত দেন তাহলে তিনি চকরিয়া পেকুয়া সহ দুটি আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন।

পাশাপাশি, কোনও কারণে তিনি না আসলে বিকল্প হিসেবে এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরীকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই দুইজন ছাড়াও তাদের বিকল্প হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদ সমর্থিত হিসেবে আরেকটি নতুন মুখের আবির্ভাবের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
যাইহোক, দলটির গুরুত্বপূর্ণ সূত্রটির ভাষায়— এই আসনে বিএনপি এবার বড় চমক দিতে যাচ্ছে। অপেক্ষা শুধু কেন্দ্রীয় ঘোষণার।

গত ৩ নভেম্বর কক্সবাজারের তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও কক্সবাজার-৩ আসনটি ফাঁকা রাখা হয়। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা–কল্পনার তৈরি হয়েছে।

“ওয়েট অ্যান্ড সি, ফর সারপ্রাইজ!”
কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরি এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন,“কক্সবাজার-২ কুতুবদিয়া–মহেশখালী জিওগ্রাফিক্যালি ইম্পোর্ট্যান্ট এরিয়া! সো, ওয়েট অ্যান্ড সি, ফর সারপ্রাইজ!” এই পোস্টের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে, এই আসনে নতুন মুখ অথবা হাইপ্রোফাইল প্রার্থী আসতে পারেন।
তবে আসল চমক হিসেবে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. সলিমুল্লাহ হতে পারে এমন আলোচনাও শুরু হয়েছে।

এবার দক্ষিণ থেকে প্রার্থী থাকছে না বড় দলে
মহেশখালীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে দীর্ঘদিন সময় ধরে বড় দলগুলোতে নেত্বত্ব বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পেতে দেখা গেছে। এবার ব্যতিক্রম ঘটতে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানকার নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ করে আসছিল উত্তরের মানুষ।
সাধারণ মানুষ মনে করেন দেশের গভীর সমুদ্র বন্দর সহ বিশ্ব মানের অর্থনৈতিক জোন সমৃদ্ধ এ আসনে একজন উত্তম যোগ্যতা সম্পন্ন লোক প্রয়োজন। উন্নয়ন কর্মকান্ডে পারদর্শী ও পরীক্ষিত হিসেবে সচেতন মানুষ কেন্দ্রীয় হাই প্রোফাইল সালাহউদ্দিন আহমদকে আলোচনায় রাখছেন। অন্যতায় শিক্ষাবিদ সলিমুল্লাহকে নিয়ে আসলে সমৃদ্ধ প্রার্থী হবে এমনটাই মনে করছেন মহেশখালী কুতুবদিয়ার মানুষ।

পেকুয়ার মগনামায় মৎস্য ঘের থেকে উচ্ছেদ করেও কান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা: মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি

কক্সবাজার -৩ (মহেশখালী -কুতুবদিয়া)আসনে বিএনপির প্রার্থী কে

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় ২০ বছরের ভোগদখলীয় একটি মৎস্য প্রজেক্ট জবরদখল করে কান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে জবর দখলের বিচার চাওয়ায় সাজানো হত্যা মাদক ও নারী নির্যাতনের মামলায় জড়িয়ে এলাকা ছাড়া করে বসত বিটা জবর দখলে নেয়ার হুমকির অভিযোগ তুলে পেকুয়া থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
জানাযায়, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ৫ নং ওয়ার্ড দরদরিয়া ঘোনার প্রবীণ মৎস্য চাষী আবু সিদ্দিকের দীর্ঘ ২০ বছরের ভোগদখলীয় ৭২ কানির প্রজেক্ট একই এলাকার কোমপাড়ার ফরিদের ছেলে মোঃ বাবুল, শাহাজাহান (৩০), (৩২), মোঃ মিয়া (২৮) এবং সাইফুল ইসলাম (৪০) প্রজেক্টটি জবরদখল করার চেষ্টা চালায়।

১৯ জুন প্রজেক্টটি জবর দখল করে নিয়ে আবু সিদ্দিকের চাষকৃত মাছ লুটপাট শুরু করে। আবু সিদ্দিকের পরিবারের লোকজনের ওপর হামলা করে আহত করে।
গত ৫ জুন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বিবাদীরা প্রজেক্টটি জবর দখলের চেষ্টা করছিল।এ সময় বাধা দেওয়ায় আবু ছিদ্দিক (৬১) নামের এক প্রবীণ চাষিকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করেছিল। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেছেন।
আবেদন ট্র্যাকিং নং: ND2K6I।
আবু সিদ্দিক জানান দীর্ঘ ২০ বছর ধরে যে প্রজেক্টে চাষাবাদ করে জীবন জীবীকা নির্বাহ করেছেন হঠাৎ করে সেই প্রজেক্ট জবর দখল করে নেয়ায় তিনি পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েন।
গত কয়েক দিন ধরে এখন প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়ায় দিশেহারা হয়েগেছেন। ৩০ জুন পেকুয়া থানায় আবারও সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেন। ডায়েরি নং ১৩৪১। তিনি আরো বলেন পেকুয়া থানার পুলিশ কয়েক দফা ঘটনাস্থলে যান। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ গিয়ে দখল করে বাধ নির্মাণ করা বাধটি কেটে দিয়ে দখল ছেড়ে দিতে বললেও বাবুল গং কোন আদেশ নিষেধ মানছে না।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ বাবুল ও শাহজাহান কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে থানা পুলিশ চেয়ারম্যান কারো কথায় কর্নপাত না করে জবর দখল করা মৎস্য ঘের থেকে উঠছেনা। আবু সিদ্দিক মাওলানা মাহমুদুল সহ অনেকের মৎস্য ঘের জবর দখল করেছে।
এব্যাপারে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আবু সিদ্দিক বাদী হয়ে বাবুল গং এর বিরুদ্ধে মৎস্য ঘের জবর দখলের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। বাবুলকে দখল ছেড়ে দিতে ও অবৈধভাবে দেয়া বাধ কেটে দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশ না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পর পর দুটি ডায়েরি নথিবদ্ধ করার পরও থানা পুলিশ জবর দখল কারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার ব্যপারে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পেকুয়ায় ওয়ারিশি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে প্রতিকার দাবি

কক্সবাজার -৩ (মহেশখালী -কুতুবদিয়া)আসনে বিএনপির প্রার্থী কে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের টইটং বাজারসংলগ্ন এলাকায় ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত প্রায় ০.৮৪ একর জমি সীমানা প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পেকুয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ছমুদা খাতুনের ওয়ারিশগণ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লতিফা বেগম, রহিমা বেগম, ক্বারী মুহাম্মদ ইয়াকুব, ক্বারী মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন, রাবেয়া বেগম, মুহাম্মদ কলিম উল্লাহ ও হাবিব উল্লাহ।

লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, বারবাকিয়া ইউনিয়নের বারাইয়াকাটা এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী হাসান ও তার চাচাতো ভাই ছাদেকের নেতৃত্বে একদল ভাড়াটে লোকজন নিয়ে সম্প্রতি তাদের ওয়ারিশি সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাদের দাবি, প্রকৌশলী হাসান নেপথ্যে থেকে পুরো দখলচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, জমিটি তারা তাদের মায়ের কাছ থেকে ওয়ারিশসূত্রে পেয়েছেন। জমি দখল ঠেকাতে তারা চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে এমআর মামলা (নং-৪৩৬/২৬) দায়ের করেন। মামলার বাদী লতিফা খানম। মামলাটি গত ২৬ জুন দায়ের করা হয় এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২২ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, একই বিষয়ে পেকুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। তবে গত রোববার পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আদালতের পরবর্তী শুনানির তারিখ পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্মাণকাজ না করার নির্দেশ দেয়। এরপরও অভিযুক্তরা আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে দিনেরাতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা দিতে গেলে কয়েকদিন আগে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে রহিমা বেগম (৫০), লতিফা বেগম (৫৫), হাবিব উল্লাহ (৩৫), রাবেয়া বেগম (৩৫) ও মর্জিনা বেগম (৩০) আহত হন।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা পেকুয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. বাহাদুর শাহের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তারা প্রশাসন ও আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করে ওয়ারিশি সম্পত্তি রক্ষা এবং দখলচেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন প্রভাবশালী। তারা আইন আদালতের প্রতি কোনো ধরণের তোয়াক্কা করছেনা। তারা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।

মালয়েশিয়া প্রবাসী হাবিব উল্লাহ বলেন, আমি গত কয়েকদিন আগে দেশে ছুটিতে এসেছি। এখন তারা আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। যাতে আমি মালয়েশিয়া যেতে না পারি। আমি একজন প্রবাসী হয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলী হাসান ও ছাদেকের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

‎দ্রুত সংস্কারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে প্রেস সচিবের আশ্বাস

‎পেকুয়ায় এক যুগেও সংস্কারহীন ৫০০ মিটার সড়ক,জনদুর্ভোগ চরমে

কক্সবাজার -৩ (মহেশখালী -কুতুবদিয়া)আসনে বিএনপির প্রার্থী কে




‎স্টাফ রিপোর্টার

‎কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খানাখন্দ, কাদা, জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে সড়কটি এখন চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও দৃশ্যমান কোনো সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়নি।



‎পৌরসভার কবির আহমদ চৌধুরী বাজার সংলগ্ন ভোলাইয়াঘোনা এলাকার এই সড়কটি শতাধিক পরিবারের প্রায় দুই হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ। এছাড়া বাইম্যাখালী, পশ্চিম ভোলাইয়াঘোনা, আশপাশের গ্রাম এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরাও প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। বিকল্প সড়ক না থাকায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

‎এদিকে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর ব্যক্তিগত প্রেস সচিব ছফওয়ানুল করিম সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তাঁর এই আশ্বাসে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে থাকা এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাবে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ পুরো সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে ডুবে ছোট ছোট জলাশয়ের রূপ নেয়। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও ভেঙে গেছে সড়কের পাশ। ফলে রিকশা, ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এমনকি মোটরসাইকেল চালাতেও চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পথচারীদের অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন।
‎এলাকাবাসী জানান, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দিনের পর দিন পানি জমে থাকায় সড়কের অবশিষ্ট অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচল সবচেয়ে বেশি দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
‎সড়কের দুই পাশে রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা। পাশাপাশি সরকার অনুমোদিত ব্র্যাক পরিচালিত দুটি সিপ্টের একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। প্রতিদিন শতাধিক কোমলমতি শিশু এই সড়ক ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। কাদাময় ও পিচ্ছিল রাস্তায় শিশুদের অনেক সময় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। বৃষ্টির সময় সড়কের পানি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ায় পাঠদানও ব্যাহত হয়।
‎স্থানীয় বাসিন্দা ও উজানটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাব উদ্দিন বলেন,
‎”বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি। নির্বাচন এলেই নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। দীর্ঘদিনের অবহেলায় সড়কটি এখন মানুষের দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।”
‎ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা ফাতেমা বেগম বলেন,
‎”এখানে দুটি সিপ্টের একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে থাকা পানি স্কুল কক্ষে ঢুকে পড়ে। এতে পাঠদান ব্যাহত হয়। ছোট ছোট শিশুরা কাদা মাড়িয়ে স্কুলে আসে, অনেক সময় পড়ে গিয়ে আহতও হয়।”
‎স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, এই সড়কের কারণে কৃষিপণ্য, মাছ, সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজারে পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক যানবাহন খারাপ রাস্তার কারণে এ পথে চলাচল করতে চায় না। এতে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
‎এলাকার বাসিন্দারা আরও জানান, অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স সড়কের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় রোগীকে খাটিয়া বা কোলে করে মূল সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বাড়ছে।
‎সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একটি ভাঙাচোরা রাস্তার বিষয় নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা কার্যক্রম, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
‎এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), পৌর কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের দায়িত্বশীল মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী সংসদীয় আসনের নির্বাচিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
‎তাদের ভাষ্য, “এক যুগ ধরে আমরা শুধু আশ্বাস শুনেছি, কিন্তু উন্নয়ন দেখিনি। এবার আর প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত কাজ শুরু হোক। এই ৫০০ মিটার সড়ক সংস্কার হলে হাজারো মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হবে এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”