| ২১ জুন ২০২৬

থানা হাজতে স্কুলের অফিস সহকারী দুর্জয়ের মৃত্যু: শিক্ষা অধি দফতরের কমিটির তদন্তকালে  চকরিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ

থানা হাজতে স্কুলের অফিস সহকারী দুর্জয়ের মৃত্যু:  শিক্ষা অধি দফতরের কমিটির তদন্তকালে  চকরিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ

 

কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজতে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি দূর্জয় চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষা অধিদফতর কতৃক গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ২৬ আগস্ট সকালে তদন্ত টিমের আহবায়ক (প্রধান) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চল এর পরিচালক প্রফেসর মোঃ ফজলুল কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির সদস্যরা চকরিয়া এসে পৌঁছান। এসময় তদন্ত কমিটির সদস্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক উপপরিচালক (মাধ্যমিক) ফরিদুল আলম এবং কমিটির অপর সদস্য চকরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম সঙ্গে ছিলেন।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকাল দশটার দিকে তদন্ত কমিটির আহবায়কের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রথমে চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে যান।সেখানে তদন্ত টিমের বিদ্যালয়ের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেক্টর থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহন করেন।
এরপর দুপুর একটার পরে তদন্ত টিম চকরিয়া থানায় পৌঁছেন। সেখানে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখান থেকে বিকাল তিনটার দিকে তদন্ত কমিটির সদস্যরা চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) রুপায়ন দেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

গত ২৪ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-১ এসএম জিয়াউল হায়দার হেনরি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে স্কুলের অফিস সহকারীর মৃত্যুর ঘটনায় চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খানমকে ওএসডি করা হয়।
এছাড়া একই বিভাগের অপর আদেশে এ ঘটনায়
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালককে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে সরেজমিন তদন্তপূর্বক সুস্পষ্ট মতামত ও প্রমানসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিক্ষা অধিদফতরের ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে চকরিয়া পৌঁছে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার ২৬ আগস্ট দুপুরে শিক্ষা অধিদফতর কতৃক গঠিত তদন্ত কমিটি চকরিয়া থানায় তদন্তের জন্য উপস্থিত হলে সে সময় থানার সামনে দুর্জয়ের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে ফেস্টুন হাতে নিয়ে মানববন্ধন করেছে নিহতের আত্মীয় স্বজন, সনাতনী সম্প্রদায়ের শতাধিক নারী-পুরুষ।

এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি দূর্জয় চৌধুরীর থানাহাজতে মৃত্যুর চারদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন করেনি। আটক করা হয়নি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খানমকে। উদ্ধার হয়নি দূর্জয় চৌধুরীর ব্যবহৃত ল্যাপটপ। যার কারণে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষদের মাঝে। দ্রত স্কুলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাসহ ওই স্কুলে শিক্ষকসহ প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন।

মানববন্ধনে চকরিয়া সার্বজনীন কেন্দ্রীয় কালী মন্দির উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ছোটন দাশ গুপ্ত বলেন, দুর্জয় চৌধুরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকারীসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি চাই।
তিনি দাবি জানান, সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

দুর্জয় চৌধুরীর বাবা কমল চৌধুরী আক্ষেপ নিয়ে বলেন, তাঁর ছেলে কিছুদিন যাবত শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছেন। গত বৃহস্পতিবার ২১ আগস্ট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খানম ফোন করে স্কুলে আসতে বলেন। তখন তাঁকে ফোন করে ছেলের অসুস্থতার খবর জানান। কিন্তু তিনি আমার ছেলেকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে স্কুলে আসতে বাধ্যকরে। আমার ছেলের ল্যাপটপ ও ব্যাক্তিগত ব্যাগটা নিয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় স্কুলে চলে যান। পরে
সকাল ১১টার দিকে কল করে আমাকে স্কুলে যেতে বলেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খানম। আমি ১০ মিনিটের মধ্যে স্কুলে যায়। ওখানে গিয়ে দেখি শিক্ষকরা সবাই বসে আছে। সেখানে আমার ছেলে দুর্জয়ও ছিল। এ সময় প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খানম বলেন, আপনার ছেলে টাকা আত্মসাৎ করেছে। তখন আমি সকল শিক্ষকের সামনে বলি, আমার ছেলে যদি টাকা আত্মসাৎ করে, আমি সব টাকা পরিশোধ করবো, মুচলেকাও দিবো। প্রয়োজনে ওর চাকরি চলে যাক, কিন্তু আপনারা অন্যায়ভাবে কিছু করবেন না।
রাতে চকরিয়া থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তারপর তারা আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন। আমি আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের ল্যাপটপে এমন কিছু তথ্য ছিল, যা ফাঁস করে দেবে ভেবে দুর্জয়কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করানো হয়েছে। আমার ছেলের ওই ল্যাপটপটি এখনো হদিস দিতে পারেনি পুলিশ।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, দুর্জয় চৌধুরী বাবা কমল চৌধুরী বাদী হয়ে এজাহার জমা দিয়েছেন। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ঘটনার সাথে জড়িত সব কিছু বিশ্লেষন করে মামলা রুজু করা হবে বলে জানান ওসি।

প্রসঙ্গতঃ গত বৃহস্পতিবার ২১ আগস্ট সন্ধ্যার আগে চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খানম ওই স্কুলের অফিস সহকারি দুর্জয় চৌধুরী চেক জালিয়াতি করে ও নগদে প্রতিষ্টানের ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে চকরিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন।
ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দূর্জয় চৌধুরীকে হাজতে আটকে রাখেন। পরদিন শুক্রবার ২২ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে থানা হাজতে গলায় ফাঁস লাগানো এবং ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করেন।

 

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

থানা হাজতে স্কুলের অফিস সহকারী দুর্জয়ের মৃত্যু:  শিক্ষা অধি দফতরের কমিটির তদন্তকালে  চকরিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

থানা হাজতে স্কুলের অফিস সহকারী দুর্জয়ের মৃত্যু:  শিক্ষা অধি দফতরের কমিটির তদন্তকালে  চকরিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

​মহেশখালীতে বন বিভাগের অভিযানে মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, ৭বনকর্মী আহত

থানা হাজতে স্কুলের অফিস সহকারী দুর্জয়ের মৃত্যু:  শিক্ষা অধি দফতরের কমিটির তদন্তকালে  চকরিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন ৭জন বন কর্মী। অবৈধ দখলদারদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয়ভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে উসকানিমূলকভাবে এই হামলা চালায়। এতে কয়েকজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, বন প্রহরী তুষার সাহা, বন পাহারা দলের সদস্য আক্তার হোসেন, কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, বন কর্মী নজরুল হুদা, বন কর্মী মো: আনোয়ার হোসেন, বন কর্মী নবায়ন চাকমা

 

​১৬ জুন সকাল ১১ টায় শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএমঘাট এলাকায় মহেশখালী রেঞ্জ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করতে গেলে অবৈধ দখলদার চক্রটি বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা উচ্ছেদ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করতে স্থানীয় মাইকে ঘোষণা দেয়। মাইকিং শুনে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে বন কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

​মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

​”সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে আমরা সকালে জেএমঘাট এলাকায় অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি পরিকল্পিতভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেয় এবং বন কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোলতান জানান হামলার ঘটনায় বন বিভাগ ও পুলিম কাজ করছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।