| ২৩ জুন ২০২৬

মেয়াদউত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র

অগ্নিকান্ডের মারাত্মক ঝুঁকিতে পেকুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

অগ্নিকান্ডের মারাত্মক ঝুঁকিতে পেকুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পেকুয়া উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার জন্যে সরকারি হাসপাতাল পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক অবস্থা। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রাসায়নিকের মেয়াদ ৪মাস আগে শেষ হলেও এ বিষয়ে জানেন না কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বিদ্যুতের বহু পুরনো ওয়্যারিং ব্যবস্থায় চলছে ভারি যন্ত্রপাতি। অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার অ্যালার্মসহ আর যেসব অবকাঠামোর দরকার সেগুলোরও কোনো ব্যবস্থা নেই এ হাসপাতালে। ফলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী অবস্থান করে। চিকিৎসকসহ স্টাফ রয়েছেন অর্ধ শতাধিক। পাশাপাশি প্রতিদিন দেড় হাজার রোগী হাসপাতালে আসেন। এমন একটি হাসপাতালে অগ্নিদুর্ঘটনায় একমাত্র ভরসা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর রাসায়নিক মেয়াদোত্তীর্ণ। এছাড়াও প্রায় ২০ বছরের পুরনো হাসপাতাল ভবনের অধিকাংশ বৈদ্যুতিক তার সংস্কার না করেই ব্যবহার করা হচ্ছে এসি (এয়ারকন্ডিশনার) ও ভারি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি।
ওভারলোড অথবা শর্টসার্কিটে যে কোনো সময় আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পেকুয়া হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন কক্ষের প্রবেশদ্বারে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। মেয়াদ লেখা আছে ২০২৪ সাল। বেশ কয়েকটি কক্ষে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই নেই। হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণের রাসায়নিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পেকুয়া ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্টের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে ২০টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু ৪মাস আগেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের রাসায়নিকের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তিনি হাসপাতালে যোগাযোগ করেছেন কিন্তু বাজেট না পাওয়ায় রাসায়নিক নেয়নি কর্তৃপক্ষ। পেকুয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ইন্সপেক্টর শফিউল আলম বলেন, পেকুয়া হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিতে আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জলাধার নির্মাণ, ফায়ার অ্যালার্ম যন্ত্র স্থাপনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হলেও কাজ হয়নি। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা স্বীকার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএসও ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে অগ্নিকান্ড রোধে আধুনিক সরঞ্জামের সংকট আছে।

পোকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি

অগ্নিকান্ডের মারাত্মক ঝুঁকিতে পেকুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মনিরুল আমিন.চকরিয়া

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের পোকখালী রেড ক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ২ টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের তালা ভেঙে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান শিক্ষা উপকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন জানান,চোরেরা শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ,প্রজেক্টর, সিসিটিভি ক্যামেরা,ইন্টারনেট রাউটার,ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার সরঞ্জামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে। আজ সকালে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে এসে তিনি দেখতে পান চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ চুরির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক বলেন,এ বিষয়ে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান,একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এতে শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়নি,বরং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

অগ্নিকান্ডের মারাত্মক ঝুঁকিতে পেকুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

অগ্নিকান্ডের মারাত্মক ঝুঁকিতে পেকুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।