প্রকাশের সময়: রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫ । ১২:১৭ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

অগ্নিকান্ডের মারাত্মক ঝুঁকিতে পেকুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মোহাম্মদ ইউনুছ

পেকুয়া উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার জন্যে সরকারি হাসপাতাল পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা একেবারেই নাজুক অবস্থা। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রাসায়নিকের মেয়াদ ৪মাস আগে শেষ হলেও এ বিষয়ে জানেন না কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও বিদ্যুতের বহু পুরনো ওয়্যারিং ব্যবস্থায় চলছে ভারি যন্ত্রপাতি। অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার অ্যালার্মসহ আর যেসব অবকাঠামোর দরকার সেগুলোরও কোনো ব্যবস্থা নেই এ হাসপাতালে। ফলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী অবস্থান করে। চিকিৎসকসহ স্টাফ রয়েছেন অর্ধ শতাধিক। পাশাপাশি প্রতিদিন দেড় হাজার রোগী হাসপাতালে আসেন। এমন একটি হাসপাতালে অগ্নিদুর্ঘটনায় একমাত্র ভরসা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর রাসায়নিক মেয়াদোত্তীর্ণ। এছাড়াও প্রায় ২০ বছরের পুরনো হাসপাতাল ভবনের অধিকাংশ বৈদ্যুতিক তার সংস্কার না করেই ব্যবহার করা হচ্ছে এসি (এয়ারকন্ডিশনার) ও ভারি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি।
ওভারলোড অথবা শর্টসার্কিটে যে কোনো সময় আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পেকুয়া হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন কক্ষের প্রবেশদ্বারে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। মেয়াদ লেখা আছে ২০২৪ সাল। বেশ কয়েকটি কক্ষে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই নেই। হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণের রাসায়নিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পেকুয়া ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্টের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, পেকুয়া সরকারি হাসপাতালে ২০টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু ৪মাস আগেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের রাসায়নিকের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তিনি হাসপাতালে যোগাযোগ করেছেন কিন্তু বাজেট না পাওয়ায় রাসায়নিক নেয়নি কর্তৃপক্ষ। পেকুয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ইন্সপেক্টর শফিউল আলম বলেন, পেকুয়া হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিতে আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জলাধার নির্মাণ, ফায়ার অ্যালার্ম যন্ত্র স্থাপনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হলেও কাজ হয়নি। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা স্বীকার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএসও ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে অগ্নিকান্ড রোধে আধুনিক সরঞ্জামের সংকট আছে।

প্রিন্ট করুন