| ২৪ জুন ২০২৬

সালাহউদ্দিনের গণমিছিলে লাখো মানুষের ঢল

ভোট দিয়ে ফলাফল নিয়ে ঘরে ফেরার আহবান 

ভোট দিয়ে ফলাফল নিয়ে ঘরে ফেরার আহবান 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

পেকুয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার ১আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনী গণমিছিলে মানুষের ঢল নেমেছে।
সকাল থেকে উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলে বাস ট্রাক ও নানান পরিবহন যোগে আসতে থাকে। কারো কাছে ছিলো প্লে-কার্ড, কারো কাছে সালাহউদ্দিন আহমদ এর ছবি ও আবার কারো কাছে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি। কেউ আবার নাচেগানে ধানের শীষ নিয়ে ভোট চাইছেন।

রোববার বিকেলে পেকুয়া আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরীর বাজার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বানৌজা সড়ক হয়ে ৫ কিলোমিটার অদূরে পেকুয়া সাকুরপাড় স্টেশনে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়৷
এই গণমিছিলে নানান শ্রেণী পেশার উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। স্থানীয়রা ধারণা করছেন প্রায় লক্ষ মানুষের সমাগম হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এই গণমিছিলের সম্মুখভাগে ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। মিছিলটিতে মানুষের উপস্থিতি পেকুয়ার অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল।

মিছিল শেষে পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী ধানের শীষে সবাইকে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, পেকুয়া বাজার থেকে মিছিল শুরু করে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে বানৌজা সড়ক হয়ে পেকুয়া সাকুরপাড় স্টেশন পর্যন্ত এসে পৌঁছান নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ পথের এই কর্মসূচিতে সবাই ক্লান্ত হলেও নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, “আজ ৮ তারিখ পেকুয়া উপজেলার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল বিকাল ২টায় চকরিয়া বাস টার্মিনালে আমাদের নির্বাচনী শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি, আপনারা সবাই যেভাবে পারেন সেখানে উপস্থিত থেকে আমাদের শক্তি ও সাহস জোগাবেন।”

নির্বাচনী আচরণবিধির কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগামীকাল রাতের মধ্যেই সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম শেষ হবে। ১০ তারিখ সকাল ৮টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণার সময়সীমা শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা তিনি দেখেছেন, তাতে ইনশা আল্লাহ সারা বাংলাদেশের মতো এখানেও ধানের শীষ বিপুল ও রেকর্ডসংখ্যক ভোটে বিজয়ী হবে।

ভোটের দিন নেতাকর্মীদের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে এবং ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছাড়বে না। একই সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা এবং ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, মা-বোনেরা যেন নির্ভয়ে নিজেদের পরিচয় দিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ইনশাআল্লাহ, এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন যাত্রা শুরু করবে এবং একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, দেশের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে আর কখনো রক্ত দিতে হবে না।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সবাইকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ ঘরে বসে থাকবেন না। এরপর তিনি গণমিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন।

এসময় সাবেক সংসদ সদস্য ও সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী এডভোকেট হাসিনা আহমদ, তাদের পুত্র সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক জেড এম মুসলেম উদ্দিন ও ডাক্তার বেলাল হায়দার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আহছান উল্লাহসহ বিএনপির ও অঙ্গ, সহযোগী সংগঠনের সকল স্থরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

৬ মাস যাবত ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই নারী!

পেকুয়ায় ভুয়া ডিজিএফআই পরিচয়দানকারী নারী আটক

ভোট দিয়ে ফলাফল নিয়ে ঘরে ফেরার আহবান 

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় নিজেকে ডিজিএফআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই নারীকে আটক করে পেকুয়া থানা পুলিশ। আটককৃত নারীর নাম হাছিনা আক্তার। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের গাছবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আবুল হাসেম ও বুলু আরার মেয়ে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাছিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে মগনামা এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী ও পরিষদের সকল সদস্য সচিবকে ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। দুজন ইউপি সদস্যকে ৫ মিনিটের ভিতর তার বাসায় গিয়ে দেখা করা চাল বিতরণের সময় বিভিন্ন অযুহাত দাড় করিয়ে চাল হাতিয়ে নেয়া বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যক্তিগত দূর্বলতা খুঁজে হয়রানি করা অভিযোগ রয়েছে ওই নারীর বিরুদ্ধে।
ওই নারী চন্দনাইশ থেকে পেকুয়ার মগনামা লঞ্চ ঘাটের পাশে রিদুয়ান নামক এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় ৬ মাস পূর্ব থেকে দুটি বাচ্চা সহ বসবাস করে আসছেন। তার স্বামী সেনা কর্মকর্তা দুবাই মিশনে আছেন তিনি এখানে ডিজিএফআইয়ের দায়িত্বে আছেন এমন পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, ওই নারীর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে ওই নারী ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছেন বলে নিশ্চিত হন তিনি। পরে মঙ্গলবার রাতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে আটক করে পেকুয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অধিকাংশ ইউপি সদস্যদের এই নারী কোনো এক দূরভী মিশন বাস্তবায়নের হীন প্রচেষ্টারত ছিলেন কিনা খতিয়ে দেখা দরকার। তাকে দিয়ে এখানে কোন দূষ্ঠ চক্র খেলছে কিনা তাও তদন্ত করার প্রয়োজন আছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “নিজেকে ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়দানকারী এক নারীকে মগনামা থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পোকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি

ভোট দিয়ে ফলাফল নিয়ে ঘরে ফেরার আহবান 

মনিরুল আমিন.চকরিয়া

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের পোকখালী রেড ক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ২ টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের তালা ভেঙে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান শিক্ষা উপকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন জানান,চোরেরা শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ,প্রজেক্টর, সিসিটিভি ক্যামেরা,ইন্টারনেট রাউটার,ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার সরঞ্জামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে। আজ সকালে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে এসে তিনি দেখতে পান চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ চুরির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক বলেন,এ বিষয়ে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান,একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এতে শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়নি,বরং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ভোট দিয়ে ফলাফল নিয়ে ঘরে ফেরার আহবান 

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।