| ২১ জুন ২০২৬

লামা”হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে,সেবা নেই: বিকল যানে দুর্ভোগ চরমে

লামা”হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে,সেবা নেই: বিকল যানে দুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের রোগীদের জরুরী পরিবহন সেবার দুইটি অ্যাম্বুলেন্সই বর্তমানে বিকল ও মেরামত অযোগ্য অবস্থায় পড়ে থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত গাড়ি পাওয়া দুষ্কর হওয়য়ায় রেফার রোগীরা উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছে না।

দূর্গম লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসন বিভাগ সূত্রে জানাযায়, দুটি অ্যাম্বুলেন্সই বর্তমানে অচল। এর মধ্যে একটি গাড়ি গত কয়েকদিন কোনো রকম মেরামত করে চালানো হলেও বর্তমানে দুটিই হাসপাতালের গ্যারেজে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স দুটির নম্বর হলো-বান্দরবান ছ-৭১-০০০১ এবং ঢাকা মেট্রো ছ-৭১-১০৬১ এই গাড়ি দুটি যথাক্রমে ১৯৯৭ ও ২০০৯ সালে এই হাসপাতালে সেবা প্রদানের জন্য দেওয়া হয়েছিল।

বান্দরবানের সবচেয়ে জনবহুল উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিই প্রায় তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা। লামা,আলীকদম ও চকরিয়া উপজেলার কিছু কিছু এলাকার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়,এখানে প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে ২৫০-৩৫০ জন, জরুরি বিভাগে ১৫০-২০০ জন এবং অন্তবিভাগে ৯০-১০০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। এমন জনবহুল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স চালুর দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের আল আমিন জানান, পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় দ্রুত গাড়ি পাওয়া খুব কঠিন। অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় সঠিক সময়ে চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারে রোগী নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে অনেকের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।

অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. লায়েজ আহম্মদ ভূঁইয়া জানান, তিনি যোগদানের সময় একটি গাড়ি আগে থেকেই পরিত্যক্ত ছিল। অন্যটি বারবার মেরামত করে চালানো হলেও বর্তমানে সেটি সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে।

উপজেলার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে, একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি প্রেরণ করেছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, “পুরোনো দুটি অ্যাম্বুলেন্স বেশ কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। মেকানিকরা জানিয়েছেন এগুলো এখন আর মেরামতযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে এখানে দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন।”

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

লামা”হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে,সেবা নেই: বিকল যানে দুর্ভোগ চরমে

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

লামা”হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে,সেবা নেই: বিকল যানে দুর্ভোগ চরমে

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

​মহেশখালীতে বন বিভাগের অভিযানে মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, ৭বনকর্মী আহত

লামা”হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে,সেবা নেই: বিকল যানে দুর্ভোগ চরমে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন ৭জন বন কর্মী। অবৈধ দখলদারদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয়ভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে উসকানিমূলকভাবে এই হামলা চালায়। এতে কয়েকজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, বন প্রহরী তুষার সাহা, বন পাহারা দলের সদস্য আক্তার হোসেন, কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, বন কর্মী নজরুল হুদা, বন কর্মী মো: আনোয়ার হোসেন, বন কর্মী নবায়ন চাকমা

 

​১৬ জুন সকাল ১১ টায় শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএমঘাট এলাকায় মহেশখালী রেঞ্জ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করতে গেলে অবৈধ দখলদার চক্রটি বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা উচ্ছেদ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করতে স্থানীয় মাইকে ঘোষণা দেয়। মাইকিং শুনে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে বন কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

​মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

​”সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে আমরা সকালে জেএমঘাট এলাকায় অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি পরিকল্পিতভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেয় এবং বন কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোলতান জানান হামলার ঘটনায় বন বিভাগ ও পুলিম কাজ করছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।