আগামীতে সালাহ উদ্দিন আহমেদ এর কাছে জনগণের প্রত্যাশা
কক্সবাজার তথা পেকুয়ার শ্রেষ্ঠ সন্তান আপনার টেকসই উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বহুমুখী ভুমিকা ও কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, তার মধ্যে আমি আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আপনার সুমহান দৃষ্টি ভঙ্গি ও সানুগ্রহ কামনা করছি। ইনশাআল্লাহ বিজয় হবেন এবং আমাদের এই এক গুচ্ছ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবেন সেই ফরিয়াদ মহান আল্লাহ কাছে।
পেকুয়ার সার্বিক উন্নয়নে আপনার প্রধান করণীয়গুলো নিচে দেওয়া হলো: যা অবশ্যই আপনি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আছেন। তারপরও বাকি সব এভাবে হতে পারে।
১. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যোগাযোগ
রাস্তা ও সেতু নির্মাণ: গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এলজিইডি (LGED)-এর মাধ্যমে নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং জরাজীর্ণ সেতু ও কালভার্ট সংস্কারের জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত করা।
বেড়িবাঁধ সংস্কার: পেকুয়া একটি উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় জলচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বড় প্রকল্পের অনুমোদন করানো।
বিদ্যুতায়ন: উপজেলার প্রতিটি ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে গ্রিড সাব-স্টেশন ও লাইন সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখা।
২. কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন
ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প: স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা এবং বিসিক (BSIC) শিল্প নগরী স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া।
মৎস্য ও কৃষি উন্নয়ন: লবণ চাষী এবং মৎস্যজীবীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করা।
যুব উন্নয়ন: কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (TTC) মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারে চাকরির সুযোগ তৈরি করা।
৩. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: নতুন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা স্থাপন এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তি ও ভৌত অবকাঠামো (ভবন নির্মাণ) নিশ্চিত করা।
স্বাস্থ্যসেবা: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক যন্ত্রপাতি, অ্যাম্বুলেন্স এবং পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের মাধ্যমে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
৪. সামাজিক সুরক্ষা ও সুশাসন
সামাজিক নিরাপত্তা: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং টিআর/কাবিখা-এর মতো কর্মসূচিগুলো যেন প্রকৃত দুস্থরা পায়, তা তদারকি করা।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা: মাদক নির্মূল এবং স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করা। সফল উন্নয়নের জন্য আপনার কাছে অনুরোধ স্থানীয় জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
পেকুয়ার টেকসই উন্নয়নে আরও যেসব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারেন:
৫। লবণ শিল্পের আধুনিকায়ন ও চাষীদের সুরক্ষাঃ পেকুয়াসহ কক্সবাজারের ৯৫% লবণ উৎপাদিত হয় এবং এ খাতে বিপুল মানুষ নিয়োজিত।
সংরক্ষণাগার নির্মাণ: চট্টগ্রামে ১ লাখ মেট্রিক টন লবণ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে এবং পেকুয়ায় স্থানীয় স্টোরেজ সুবিধা বাড়াতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কাজ করা।
মধ্যস্বত্বভোগী নির্মূল: সরাসরি চাষীদের কাছ থেকে লবণ ক্রয়ের ব্যবস্থা করে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বাজার স্থিতিশীল রাখা।
প্রযুক্তিগত সহায়তা: বিসিক (BSCIC)-এর মাধ্যমে আধুনিক পলিথিন পদ্ধতি ও কারিগরি জ্ঞান প্রসারে তদারকি করা।
৬। পর্যটন ও ব্লু-ইকোনমি (নীল অর্থনীতি)
পেকুয়ার উপকূলীয় সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতি শক্তিশালী করা সম্ভব:
ইকো-ট্যুরিজম: উপকূলীয় বনাঞ্চল ও সৈকত এলাকায় পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা।
ব্লু-ইকোনমি প্রকল্প: সমুদ্র সম্পদ আহরণ, গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকার এবং সামুদ্রিক শৈবাল চাষের মতো প্রকল্পে সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।
জেটি নির্মাণ: যোগাযোগ ও বাণিজ্যের সুবিধার্থে বিভিন্ন ঘাটে (যেমন আকবর বলী ঘাট বা ধুরুং ঘাট) আধুনিক জেটি নির্মাণ তদারকি করা।
৭. জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
উপকূলীয় এলাকা হিসেবে পেকুয়া ঘূর্ণিঝড় ও লোনা পানির ঝুঁকিতে থাকে।
বনায়ন কর্মসূচি: চরাঞ্চল ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ বা ম্যানগ্রোভ বনায়ন নিশ্চিত করা।
জলবদ্ধতা নিরসন: নদী ও খাল পুনঃখনন (Restoration of low flowing rivers) করে কৃষিজমির লোনা পানি নিষ্কাশন ও সেচ সুবিধা বাড়ানো।
৮। বৃহৎ অবকাঠামো ও যাতায়াত
৯। লেন মহাসড়ক: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার দাবিতে জোরালো ভূমিকা রাখা, যা পেকুয়াকে বাণিজ্যিক হাবে পরিণত করবে।
মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন: কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (CoxDA)-এর মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী পেকুয়াকে একটি পরিকল্পিত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বয় করা।
১০।সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি
যুব ও নারী উন্নয়ন: আইএলও (ILO) ও অন্যান্য সংস্থার সহায়তায় নারী ও যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
ডিজিটাল সেবা: উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে হাই-স্পিড ইন্টারনেট ও আইসিটি ল্যাব স্থাপন করে ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া।
এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে আপনি একজন পেকুয়াকে ২০২৬ সাল ও পরবর্তী সময়ের জন্য একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন সেই প্রত্যাশা সর্বসাধারণের।
পেকুয়ার উন্নয়নে আপনার প্রথাগত কাজের বাইরে আরও যে চমৎকার ও আধুনিক পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন, তা নিচে দেওয়া হলো:
স্মার্ট এগ্রিকালচার ও লবণ চাষের যান্ত্রিকীকরণ:
পেকুয়ায় চাষাবাদের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে লবণ ও চিংড়ি। এমপি এখানে ‘স্মার্ট সল্ট ফার্মিং’ প্রবর্তন করতে পারেন, যেখানে আবহাওয়ার আগাম তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষীদের কাছে পৌঁছাবে। এছাড়া ড্রায়ার মেশিন স্থাপনের মাধ্যমে বর্ষাকালেও লবণ উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব।
ব্লু-ট্যুরিজম ও রিভারক্রুজ কেন্দ্র:
পেকুয়ার বুক চিরে বয়ে যাওয়া মাতামুহুরী নদী এবং উপকূলীয় মোহনাকে কেন্দ্র করে ‘রিভারক্রুজ পর্যটন’ বা ওয়াটার স্পোর্টসের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এটি স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য আয়ের নতুন পথ খুলে দেবে।
লেখক
মুহাম্মদ ইউছুপ
প্রধান শিক্ষক / সদস্য সচিব
কর্ণফুলী এ জে চৌধুরী বহুমুখী (কৃষি) উচ্চ বিদ্যালয়।
কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম।














