| ২১ জুন ২০২৬

১৭ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় পায়ে হাটা বিপদজনক

পেকুয়ার রাজাখালীতে সড়ক সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন

পেকুয়ার রাজাখালীতে সড়ক সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ার রাজাখালী লালজান পাড়া থেকে সবুজ বাজার সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য দুই কিলোমিটার। সড়কটি দীর্ঘ ১৭ বছর কোন প্রকারসংস্কার হয়নি। বর্তমানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পায়ে হেঁটে চলাচলের অযোগ্য সড়কটি সংস্কারের জন্য এলাকার লোকজন প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে মানববন্ধন করেছে।

২৫ নভেম্বর বিকাল ৪ টায় স্থানীয় লোকজন ক্ষতবিক্ষত সড়কে জড়ো হয়ে মানব বন্ধন করেছে। এসময় স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন বিগত ১০ বছর ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সড়কের পুরো অংশই খানা খন্দকে একাকার। শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা হাটতে পারেনা। রোগীকে হাসপাতালে নিতে গেলে দোলনা ছাড়া উপায় নেই।এসড়ক দিয়ে ৫ স্কুল মাদরাসার শিক্ষার্থী ছাড়াও রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের, সবুজ বাজার সহ পার্শ্ববর্তী টইটং বারবাকিয়া ইউনিয়নের এবং উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ করতে গিয়ে দৈনিক ৪ থেকে পাচঁ হাজার লোকজনের যাতায়াত হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এলাকার লোকজন চরম দূর্ভোগের শিকার হয়ে আসছে। স্থানীয় আনোয়ার হোছাইন বলেন এরাস্তায় ৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১০ মসজিদ দুটি বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সেবা প্রার্থী ছাড়াও লবন চিংড়ি চাষাবাদের লোকজন নিয়মিত চলাচল করতে গিয়ে পায়ে হেঁটে ব্যাঘাতের সম্মুখীন হচ্ছে।
মানব বন্ধনে উপস্থিত হয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রূত সংস্কারের দাবী করেন, রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হোছাইন শহীদ সাইফুল্লাহ, ৪ নং ইউপি সদস্য ও রাজাখালী ইউনিয়ন তাঁতীদলের আহবায়ক গোলাম রহমান, পেকুয়া উপজেলা তাঁতীদলের যুগ্ম আহবায়ক সাহাদত হোসেন আরিয়ান, স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম প্রমূখ। প্রতিক্রিয়ায় বক্তারা বলেন অতি গুরুত্বপূর্ণ লালজান পাড়া- রকবত আলী পাড়া সড়কটি চরম ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে গেছে। সাধারণ জনগণের ভোগান্তির দূর করতে ঠেকসই মেরামত করা একান্ত জরুরি হয়েছে। তারা জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলজিইডি সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা করে অবিলম্বে এসড়কটি সংস্কারের কার্যকর প্রক্ষেপ গ।রহনের দাবী করেন।
পেকুয়া উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার সৌরভ দাস বলেন, এসড়কি এখনো পর্যন্ত এলজিইডির তালিকাভূক্ত সড়ক। সড়কটি সংস্কারের জন্য এখন পর্যন্ত কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মইনুল হোসেন চৌধুরী বলেন, সড়কটি সংস্কারের ব্যপারে স্থানীয় লোকজনের চাহিদা রয়েছে। এলজিইডির তালিকাভূক্ত হওয়ার কারনে আমার করার কিছুই নেই। এলজিইডির সাথে কথা বলে আপাতত মাটির দ্বারা সংস্কার করা যায় কিনা চেষ্টা করছি।

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পেকুয়ার রাজাখালীতে সড়ক সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

পেকুয়ার রাজাখালীতে সড়ক সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

​মহেশখালীতে বন বিভাগের অভিযানে মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, ৭বনকর্মী আহত

পেকুয়ার রাজাখালীতে সড়ক সংস্কারের দাবীতে মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন ৭জন বন কর্মী। অবৈধ দখলদারদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয়ভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে উসকানিমূলকভাবে এই হামলা চালায়। এতে কয়েকজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, বন প্রহরী তুষার সাহা, বন পাহারা দলের সদস্য আক্তার হোসেন, কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, বন কর্মী নজরুল হুদা, বন কর্মী মো: আনোয়ার হোসেন, বন কর্মী নবায়ন চাকমা

 

​১৬ জুন সকাল ১১ টায় শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএমঘাট এলাকায় মহেশখালী রেঞ্জ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করতে গেলে অবৈধ দখলদার চক্রটি বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা উচ্ছেদ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করতে স্থানীয় মাইকে ঘোষণা দেয়। মাইকিং শুনে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে বন কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

​মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

​”সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে আমরা সকালে জেএমঘাট এলাকায় অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি পরিকল্পিতভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেয় এবং বন কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোলতান জানান হামলার ঘটনায় বন বিভাগ ও পুলিম কাজ করছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।