| ১৯ জুন ২০২৬

৩০ টাকায় খান এক খিলি ‘আগুন পান’

মহেশখালীর মিষ্টি পানকে নানা মসলায় সাজিয়ে আগুন ধরিয়ে মুখে দেওয়ার দৃশ্য দেখতে পর্যটকদের ভিড়

মহেশখালীর মিষ্টি পানকে নানা মসলায় সাজিয়ে আগুন ধরিয়ে মুখে দেওয়ার দৃশ্য দেখতে পর্যটকদের ভিড়

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

কক্সবাজারের ৬নং জেটি ঘাট থেকে সি ট্রাক কিংবা স্পিডবোটে চড়ে মহেশখালী জেটি ঘাটে পা রাখতেই কানে ভেসে আসে একসাথে বেশ ক’জনের কন্ঠে ‘মহেশখালীর মিষ্টি পান, আগুন পান খেয়ে যান’ বলে সুরেলা আহ্বান। শুনতেও বেশ ভালো লাগে। আগুন পান বিক্রেতারা এমনভাবে পর্যটকদের আহ্বান জানান– যেন কোনো মতেই এক খিলি আগুন পান বা মিষ্টি পান না খেয়ে দ্বীপে পা বাড়ানো যেন শুরুতেই গলদ হবে। তাই দেশ–বিদেশের পর্যটকরা মহেশখালী দ্বীপে ঢুকতেই মুখে নেন মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত মিষ্টি পানের খিলি। এই পানের সুখ্যাতি রয়েছে দেশ ছেড়ে বিদেশেও।

জানা যায়, বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড় সমৃদ্ধ দ্বীপ মহেশখালীতেই উৎপাদন হয় মিষ্টি পান। মহেশখালীর মিষ্টি পানের সুখ্যাতি শুধু দেশজুড়েই নয়, এর কদর রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ সুদূর লন্ডন পর্যন্ত। সিলেটে যেমন সাত রঙের চা বিখ্যাত তেমনি মহেশখালী দ্বীপে আসা পর্যটকদের প্রথম এবং প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে এক খিলি আগুন পান খাওয়া। এরপরের অবস্থানে রয়েছে এই দ্বীপের শুটকি।

কী আছে আগুন পানে

সৌখিন পান খাদকদের কাছে মিষ্টি পানকে আরো লোভনীয় ও আকর্ষণীয় করে তুলতে এর সাথে ২০ থেকে ৩০ রকমের রং–বেরঙের বাহারি মসলা দিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘আগুন’ পান। মসলাগুলোর মধ্যে রয়েছে নারকেল গুঁড়া, সুপারি গুঁড়া, খেজুর, কিশমিশ, মোরব্বা, নকুল দানা, কালোজিরা, পান পরাগ, এলাচ, সেমাই, চেমনবাহারসহ আরো নানা ফ্লেভারের সুগন্ধিযুক্ত মসলা। আগুন পানের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে নিজেদের তৈরি করা একধরনের স্প্রে। যেটি ব্যবহার করে এতে আগুন ধরিয়ে খাদকের মুখে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

আগুন পান বিক্রেতারা জানালেন, গ্লিসারিন, পটাশিয়াম ও পানির মিশ্রণে ওই স্প্রে তৈরি করা হয়। প্রতি খিলি আগুন পান বিক্রি হয় ২০–৩০ টাকা। বিক্রেতাদের সুরে সুরে ক্রেতা ডাকার আহ্বান ও আগুন সমৃদ্ধ পানের খিলি খাওয়ার এই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে পর্যটকদের যেন হুমড়ি খাওয়া অবস্থা।

মহেশখালী জেটি ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে আগুন পান বিক্রি করেন উপজেলার ছোট মহেশখালীর পান ব্যবসায়ী মো. রাসেল। তিনি জানান, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মহেশখালী জেটি ঘাটে মিষ্টি পান ও আগুন পান বিক্রি করে আসছেন। পর্যটন মৌসুমে অধিক হারে পর্যটকদের আগমন ঘটলে তাদের ব্যবসা ভালো চলে। এ সময় তারা প্রতি খিলি পান বিক্রি করেন ৩০ টাকায়। এই মিষ্টি পান মহেশখালীর ঐতিহ্য বহন করে। এই ব্যবসা করে তিনি ভালোই চলছেন।

মহেশখালীতে বেড়াতে আসা ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, আগুন পানের বিষয়টি ইউটিউবেই দেখেছিলাম। আজ মহেশখালীতে এসে বাস্তবে দেখে না খেয়ে মিস করলাম না। আগুনসহ পানটি খেতে প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম। না, পরে দেখি দারুণ অনুভূতি হলো। মহেশখালীর পানটি খেতে খুব মিষ্টি। এই পানের একটা বিশেষত্ব রয়েছে তা বুঝতে পারলাম।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল গাফফার বলেন, মহেশখালীতে বর্তমানে দেড় হাজার হেক্টর জমিতে মিষ্টি পানের চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে পান উৎপাদিত হয় ১৮ থেকে ২০ মেট্রিক টন। মহেশখালীর মিষ্টি পান চাষে আমাদের উপ–সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণসহ আমি নিজেই পান চাষিদের সার্বিক পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই পান সৌদি আরব, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, দুবাই, মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দ্বীপের লবণাক্ত আবহাওয়া ও মাটি পান চাষের জন্য উপযোগী।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

মহেশখালীর মিষ্টি পানকে নানা মসলায় সাজিয়ে আগুন ধরিয়ে মুখে দেওয়ার দৃশ্য দেখতে পর্যটকদের ভিড়

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

​মহেশখালীতে বন বিভাগের অভিযানে মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, ৭বনকর্মী আহত

মহেশখালীর মিষ্টি পানকে নানা মসলায় সাজিয়ে আগুন ধরিয়ে মুখে দেওয়ার দৃশ্য দেখতে পর্যটকদের ভিড়

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন ৭জন বন কর্মী। অবৈধ দখলদারদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয়ভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে উসকানিমূলকভাবে এই হামলা চালায়। এতে কয়েকজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, বন প্রহরী তুষার সাহা, বন পাহারা দলের সদস্য আক্তার হোসেন, কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, বন কর্মী নজরুল হুদা, বন কর্মী মো: আনোয়ার হোসেন, বন কর্মী নবায়ন চাকমা

 

​১৬ জুন সকাল ১১ টায় শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএমঘাট এলাকায় মহেশখালী রেঞ্জ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করতে গেলে অবৈধ দখলদার চক্রটি বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা উচ্ছেদ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করতে স্থানীয় মাইকে ঘোষণা দেয়। মাইকিং শুনে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে বন কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

​মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

​”সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে আমরা সকালে জেএমঘাট এলাকায় অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি পরিকল্পিতভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেয় এবং বন কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোলতান জানান হামলার ঘটনায় বন বিভাগ ও পুলিম কাজ করছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোভারদের দীক্ষাদানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক তাঁবুবাস

মহেশখালীর মিষ্টি পানকে নানা মসলায় সাজিয়ে আগুন ধরিয়ে মুখে দেওয়ার দৃশ্য দেখতে পর্যটকদের ভিড়

 

তাওহিদুল ইসলাম

কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপকূলীয় মুক্ত রোভার স্কাউট গ্রুপ ও শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের যৌথ আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী “বার্ষিক তাঁবুবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান-২০২৬” সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৬ জুন) রোভারদের দীক্ষাদানের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গত ১৪ জুন শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এই তাঁবুবাসে মোট ১২০ জন রোভার ও স্কাউট অংশগ্রহণ করেন। তিন দিনের এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ক্যাম্প চলাকালে ভোরের পাখি, তাঁবুকলা, অবস্ট্যাকল, বনকলা ও তাঁবু জলসাসহ পাঁচটি চ্যালেঞ্জভিত্তিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রোভার ও স্কাউটরা দলগত নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা এবং সেবামূলক মানসিকতার বাস্তব প্রশিক্ষণ লাভ করে।
সমাপনী ও দীক্ষা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস পেকুয়া উপজেলার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা রোভার স্কাউটের সম্পাদক আব্দুল হামিদ, পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসান, পেকুয়া উপজেলা স্কাউটসের কমিশনার নাছির উদ্দীন এবং নূর আয়েশা খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ঈসমাঈল খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহযোগী সদস্য ও কলেজ রোভার স্কাউট লিডার ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
বক্তারা বলেন, রোভার স্কাউটিং তরুণদের মানবিক, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁবুবাস ও দীক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে উপকূলীয় মুক্ত রোভার স্কাউট গ্রুপের রোভারমেটসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্কাউট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নতুন রোভাররা স্কাউট আদর্শ ও নীতির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।