গনির জালের এক পোয়া মাছের দাম ১০ লাখ টাকা
কক্সবাজার অফিস
প্রতিবছর নভেম্বর মাস এলেই যেন ভাগ্যের চাকা ঘুরে টেকনাফ সেন্ট মার্টিনের জেলে আব্দুল গণির। সাগরে তার জালে আটকা পড়া পোয়া মাছই তার ভাগ্য পরিবর্তনের উৎস। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে পোয়া মাছ একটি স্বাদহীন মাছ হিসেবে পরিচিত। তবে বায়ুথলীর কারণে বড় পোয়া মাছ অনেক বেশি দামে বিক্রি করতে পারেন জেলেরা।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা জেলে আব্দুল গণির জালে এবছরও ৩৩ কেজি ওজনের একটি পোয়া মাছ ধরা পড়েছে। গতকাল শনিবার সকালে সাগরে মাছ ধরতে গেলে তার জালে বড় পোয়া মাছটি ধরা পড়ে। প্রথমে তিনি মাছটির দাম ১২ লাখ টাকা হাঁকালেও স্থানীয় বাসিন্দা নুর আহমদ মাছটি ৭ লাখ টাকায় কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে জেলে আব্দুল গণি মাছটি দশ লাখ টাকার দামে বিক্রি করতে রাজি হননি। তাই মাছটি কক্সবাজার মৎস অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে বিক্রির জন্য কোল্ডস্টোরে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।
জেলে আব্দুল গণি বলেন, আমার নৌকায় সেন্টমার্টিনের অদূরে সাগরে জাল ফেলে আজ (শনিবার) সকালে পোয়া মাছটি আটকা পড়ে। স্থানীয় ভাষায় মাছটি ‘কালা পোয়া’ নামে পরিচিত। ৩২ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের মাছটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি। তাই স্থানীয়ভাবে অনেকে কম দামে কিনতে চাইলেও বিক্রি করিনি। রবিবার কক্সবাজার নিয়ে গিয়ে মাছটি বিক্রি করবো।
জেলে আব্দুল গণি আরো বলেন, গত সাত বছর থেকে প্রতিবছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আমার জালে পোয়া মাছ পেয়ে আসছি। পোয়া মাছ বিক্রি করে আমি এখন আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা পেয়েছি। অন্য জেলেরাও এভাবে মাছ পেলে আরো খুশি হতাম।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর আহমদ বলেন, সেন্ট মার্টিন পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা আবদুল গণির মালিকানাধীন ‘এফবি গণি’ ফিশিং ট্রলারের জালে শনিবার একটি পোয়া মাছ ধরা পড়ে। প্রায় প্রতিবছর তার জালে এভাবে পোয়া মাছ ধরা পড়ে। শনিবার পাওয়া মাছটি আমি ৭ লাখ টাকায় কেনার আগ্রহ দেখিয়েছি। কিন্তু তিনি ১০ লাখ টাকা দাম চাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম মিকটেরোপারকা বোনাসি (গুপঃবৎড়ঢ়বৎপধ নড়হধপর)। “এই মাছের বায়ুথলি দিয়ে বিশেষ ধরনের সার্জিক্যাল সুতা তৈরি করা যায় বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই মাছের চাহিদা আছে। পোয়া মাছের বায়ুথলি বেশ মূল্যবান বলে এই মাছের দাম অনেক বেশি।”
প্রসঙ্গত, গত ২০২৩ সালের অক্টোবরে জেলে আব্দুল গণির জালে ১০ টি বড় পোয়া মাছ ধরা পড়ে। ১১৫ কেজে ওজনের পোয়া মাছ দশটি বিক্রি করেন ৮ লাখ টাকায়। এর আগে গত ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তার জালে পাওয়া ৬০ কেজি ওজনের দুটি পোয়া মাছ বিক্রি করেছিলেন ৯ লাখ টাকায়। তিনি ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে ৩০ কেজি ওজনের একটি পোয়া মাছ বিক্রি করে পেয়েছিলেন ৬ লাখ টাকা। এছাড়া ২০১৮ সালের ৩৪ কেজি ওজনের একটি পোয়া মাছ বিক্রি করে পেয়েছিলেন ১০ লাখ টাকা। সবমিলে গত সাত বছরে শুধু পোয়া মাছ বিক্রি করে জেলে আব্দুল গণির আয় ৪২ লাখ টাকা।















