| ২১ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিলেন ১০ সাঁতারু

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিলেন ১০ সাঁতারু

কুতুদিয়া চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী যুবকসহ ১০ সদস্যের সাঁতারু। তাদের মধ্যে ১০জনেরই বাংলা চ্যানেল পাড়িসহ বিভিন্ন সাঁতার অভিযানে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা।
বেলা ১১টায় দেশের দক্ষিণ- সীমান্ত পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাটের উত্তর পাশ থেকে এ সাঁতার শুরু করেন। এর আগে  সকাল পৌনে ১১টায় কুতুবদিয়া চ্যানেল সুইমিং উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এসএম নুরুল আকতার নিলয়, বাংলাদেশ ওপেন ওয়াটার সুইমিং (বোয়াস)-এর উপদেষ্টা মোহাম্মদ শিমুল চৌধুরী। এছাড়া উক্ত ইভেন্টটির টাইটেল স্পনসর হিসেবে ছিলেন “পাহাড় থেকে ডট কম”। ১০ জনের মধ্যে ৪ জন পুরো দূরত্ব সফলভাবে সাঁতরাতে পেরেছেন। খরস্রোতা কুতুবদিয়া চ্যানেল জয় করলেন দেশের বিভিন্ন জেলার ১০ জন কৃতি সাঁতারু। তাদের মধ্য সবার আগে টানা একঘন্টা ৪ মিনিট সাঁতার কেটে দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে গন্তব্য স্থান  দ্বীপাঞ্চল কুতুবদিয়ার দরবার জেটিতে পৌঁছান ১৮ বছর বয়সী রাব্বি রহমান। প্রথমবারের মতো চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার এটাই তাঁর দ্রুততম সময়। এক ঘন্টা ৬মিনিটে সাঁতার কেটে দ্বিতীয় হন নাজমুল হক।
এ টিমের তৃতীয় সাঁতারু হিসেবে শ্বাসরুদ্ধকর মুহুর্তে  এক  ঘন্টা ৭ মিনিটে কুতুবদিয়া গিয়ে মাটি ছুঁয়ে নেন এস আই এম ফেরদৌস আলম। সাড়ে ৫ কি: মি: এই চ্যানেলটি পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল এক ঘন্টায়।  গণমাধ্যম কর্মীদের এমনটাই জানালেন সাঁতারু কোর্স এস আই এম ফেরদৌস আলম। তিনি আরও বলেন, চ্যানেলের প্রথমে অর্ধেক পাড়ি দেওয়াটা খুব একটা সহজভাবে ছিল। বাকী অংশটা ছিল অনেকটাই কঠিন। কুতুবদিয়া চ্যানেল এ প্রথমে গাইড পাড়ি দিলাম। আসলে এগুলি দুঃসাহসিক অভিযান। আমি এ পর্যন্ত সাতবার বাংলা চ্যানেলে পাড়ি দিয়েছি। আমাদের এই চ্যানেল সুইমিং এর মূল লক্ষ্য হল পানিতে ডুবে মৃত্যু হার কমাতে সচেতনতা তৈরি করা, সুইমিং প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো, পানি দূষণ রোধ করা ও নদী ভিত্তিক পর্যটনকে উৎসাহীত করা।

এদিকে অভিযানকে সার্বিক তদারকি ও সাগর পাড়ি দিতে যেকোন ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ ওপেন ওয়াটার সুইমিং এর পক্ষ থেকে কুতুবদিয়া চ্যানেলে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। ইঞ্জিন চালিত ৪টি বোট এ সাঁতার অভিযানে সার্বক্ষণিক  পর্যবক্ষণে নিয়োজিত ছিল। বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মী, দক্ষ স্কাউট টিমও এ অভিযানকে সহায়তা করতে কুতুবদিয়া চ্যানেলে অবস্থান সুসংহত করে।
১০ জনের মধ্যে সাঁতার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ফাহিম আহমেদ খান, নাছির আহমেদ, খন্দকার শওকত ওসমান, মোঃ নাজমুল হক, এস আই এম ফেরদৌস আলম, আব্দুল্লাহ আল সাবিত, রাব্বি রহমান, মোঃ মোজ্জিম হোসেন, মোহামদ তাইএয়ার ও মোঃ আল আমিন।
বোয়াপের সমন্বয় নাসির উদ্দিন আহমদ সৌরভ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাঁতারু টীমের একটি প্রশিক্ষিত গাইড ও সেইফটি টীম ছাড়া কারো অংশ গ্রহনে বিধান না থাকলেও চরম ঝুঁকি পূর্ণ অভিযানে স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়ে তাদের অজান্তেই ঢুকে পড়ায় শংকিত হয়ে পড়েছেন। এরপরও প্রবল স্রোতের বিপরীতে সফল চ্যানেল পাড়ি দেয়া স্বস্তির।
প্রধান অতিথি এএসএম নুরুল আকতার নিলয় বলেন, সাতার একটি লাইফ স্টাইল হলেও উন্নত দেশের মত আমাদের দেশে সাঁতার শিখানোর কোন ব্যবস্থা নেই। প্রান্তিক পর্যায়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতা সত্যিই প্রসংশনীয়।

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিলেন ১০ সাঁতারু

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিলেন ১০ সাঁতারু

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

​মহেশখালীতে বন বিভাগের অভিযানে মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, ৭বনকর্মী আহত

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিলেন ১০ সাঁতারু

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন ৭জন বন কর্মী। অবৈধ দখলদারদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয়ভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে উসকানিমূলকভাবে এই হামলা চালায়। এতে কয়েকজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, বন প্রহরী তুষার সাহা, বন পাহারা দলের সদস্য আক্তার হোসেন, কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, বন কর্মী নজরুল হুদা, বন কর্মী মো: আনোয়ার হোসেন, বন কর্মী নবায়ন চাকমা

 

​১৬ জুন সকাল ১১ টায় শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএমঘাট এলাকায় মহেশখালী রেঞ্জ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করতে গেলে অবৈধ দখলদার চক্রটি বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা উচ্ছেদ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করতে স্থানীয় মাইকে ঘোষণা দেয়। মাইকিং শুনে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে বন কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

​মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

​”সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে আমরা সকালে জেএমঘাট এলাকায় অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি পরিকল্পিতভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেয় এবং বন কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোলতান জানান হামলার ঘটনায় বন বিভাগ ও পুলিম কাজ করছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।