| ২১ জুন ২০২৬

চকরিয়ায় ভুয়া সমন্বয়ক-সাংবাদিক পরিচয়ে বিএনপি নেতাদের চরিত্র হননে মরিয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি কানন

চকরিয়ায় ভুয়া সমন্বয়ক-সাংবাদিক পরিচয়ে বিএনপি নেতাদের চরিত্র হননে মরিয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি কানন

 

 

কক্সবাজারের চকরিয়ার মাতামুহুরী (সাংগঠনিক) উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বিভ্রান্তিমুলক তথ্য ছড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি ও জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ কাননের বিরুদ্ধে। কানন পশ্চিম কোনাখালী টেকপাড়া এলাকার মৎস্যজীবি মোঃ জাকারিয়ার ছেলে।

জানা গেছে,উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন মোহাম্মদ কানন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান। তবে সম্প্রতি সে এলাকায় ফিরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ছাড়াও সমন্বয়ক হিসেবে জাহির করে সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি শুরু করেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার জন্য অখ্যাত মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের নামে তৈরি করেন ভুয়া পরিচয় পত্র। এতেও তার শেষ রক্ষা হয়নি;সাম্প্রতিক কথিত সেই সমন্বয়ক ও ভুয়া সাংবাদিক কাননকে ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চাঁদাবাজির সময় হাতেনাতে আটক হয়ে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন চকরিয়া থানা পুলিশ। দীর্ঘ দেড় মাস কারাভোগের পর গত কয়েকদিন আগে জেল থেকে ফিরে এসে সাংবাদিক সেজে আবারও চরমভাবে শুরু করেন চাঁদাবাজি। তার বেপরোয়া চাঁদাবাজির বিষয়ে মাতামুহুরি (সাংগঠনিক) উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ায় তাদের চরিত্র হননের অভিযোগও উঠছে কাননের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে কোনাখালী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মোঃ আবুল কালাম ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইউনুস বেলাভূমিকে বলেন,ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা কানন বিএনপি নেতাদের মান ক্ষুণ্ণ করতে ফেসবুকে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার করে পোস্ট দিচ্ছে। গত ১৭ অক্টোবর ছাত্রদলের কর্মীসভায় কোন ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সেখানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলা করেছে বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে আপন বাংলা ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেছে। এতে ছাত্রদলসহ বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ছাড়াও গত কয়েকদিন আগে মাতামুহুরি (সাংগঠনিক) উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক, কোনাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে ইতোপূর্বে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা দলের ক্লীন ইমেজের প্রার্থী ইমরুল হাসান হান্নান সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দলের মান ক্ষুন্নের অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। এমন অপপ্রচার বন্ধের দাবি জানান তারা।

মাতামুহুরি (সাংগঠনিক) উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল হাসান হান্নান বেলাভুমিকে বলেন,কানন নামের ছেলেটি এক সময় ছাত্রলীগ করতো। বিগত সরকার পতনের পরে সে সমন্বয়ক পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করেছে,এমনকি ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা খেয়ে চাঁদাবাজি মামলায় দীর্ঘদিন জেল খেটে এসে পূনরায় এলাকায় চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। তার এসব কর্মকান্ড জনসম্মুখে প্রকাশ পাওয়ায় আমাদের দলের বিরুদ্ধে সে অবস্থান নিয়েছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করেছি।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বেলাভূমিকে বলেন,কানন নামের ছেলেটি জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও চাঁদাবাজি কিংবা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চকরিয়ায় ভুয়া সমন্বয়ক-সাংবাদিক পরিচয়ে বিএনপি নেতাদের চরিত্র হননে মরিয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি কানন

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

চকরিয়ায় ভুয়া সমন্বয়ক-সাংবাদিক পরিচয়ে বিএনপি নেতাদের চরিত্র হননে মরিয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি কানন

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

​মহেশখালীতে বন বিভাগের অভিযানে মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, ৭বনকর্মী আহত

চকরিয়ায় ভুয়া সমন্বয়ক-সাংবাদিক পরিচয়ে বিএনপি নেতাদের চরিত্র হননে মরিয়া নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি কানন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন ৭জন বন কর্মী। অবৈধ দখলদারদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয়ভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে উসকানিমূলকভাবে এই হামলা চালায়। এতে কয়েকজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, বন প্রহরী তুষার সাহা, বন পাহারা দলের সদস্য আক্তার হোসেন, কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, বন কর্মী নজরুল হুদা, বন কর্মী মো: আনোয়ার হোসেন, বন কর্মী নবায়ন চাকমা

 

​১৬ জুন সকাল ১১ টায় শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএমঘাট এলাকায় মহেশখালী রেঞ্জ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করতে গেলে অবৈধ দখলদার চক্রটি বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা উচ্ছেদ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করতে স্থানীয় মাইকে ঘোষণা দেয়। মাইকিং শুনে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে বন কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

​মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

​”সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে আমরা সকালে জেএমঘাট এলাকায় অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি পরিকল্পিতভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেয় এবং বন কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোলতান জানান হামলার ঘটনায় বন বিভাগ ও পুলিম কাজ করছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।