| ১৯ জুন ২০২৬

৭ হাজার লোকজনের চলাচল রাস্তা সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই

পেকুয়ার মগনামা  পশ্চিমকূল সড়কে ৭ হাজার মানুষের ভরসা এখন বালির বস্তা

পেকুয়ার মগনামা  পশ্চিমকূল সড়কে ৭ হাজার মানুষের ভরসা এখন বালির বস্তা

 

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের পশ্চিমকূল সড়ক ভাঙন ও নাজুক অবস্থা স্থানীয়দের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় ৭ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সড়ক এখন কাদামাটির উপরে বালির বস্তা। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটি রক্ষায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে বালির বস্তা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষসহ বড় কবরস্থান এবং মগনামা সাবমেরিন ও লঞ্চঘাটে  চলাচল করে হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় বর্ষায় পানিতে রাস্তার মাটি ধসে পড়ছে। সংস্কারের অভাবে জরুরী প্রয়োজনে এম্বুল্যান্স ও ফায়ার সার্ভিস ডুকতে পারে না।

আব্দুল হালিম নামের একজন বলেন, সড়কের বেহাল দশার কারণে ফায়ারসার্ভিস ডুকতে না পারায় গত শুক্রবারে এই এলাকার ৭ টি পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। উপজেলা ও জেলা পরিষদের প্রতি অনুরোধ এই সড়কটি সংস্কার করা হোক।

পশ্চিমকূল ইউনিয়নের বাসিন্দারা দ্রুত স্থায়ী মেরামত ও টেকসই সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, সাময়িক বালির বস্তা দিয়ে সড়কে চলাচল করা সম্ভব নয়। বর্ষা বাড়লেই চলাচলের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।

মগনামা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ন-আহবায়ক আবু তাহের হেলালি বলেন, স্থানীয় বিএনপির নেতা নুরুল ইসলাম ও বদিউল আলমের নিজস্ব অর্থায়নে সাময়িকের জন্য বালির বস্তা দেওয়ায় মুটামুটি হাটাচলা করা যাচ্ছে কিন্তু এই সড়কে ইট বসানো না হলে পরবর্তী বছরে চলাফেরা করা মুশকিল হয়ে যাবে। দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার করা এই এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানায়, জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্থায়ী সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বালি বস্তা থাকবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মহি উদ্দিন বলেন, এই সড়কটি অনেক বড়। মানুষের চলাচলের সংখ্যাও বেশি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জেলায় প্রকল্প দিয়েছি।

ওয়াহিদুলের আসামিদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল চকরিয়ার আদালত চত্বর, এলাকাবাসীর বিশাল মানববন্ধন

পেকুয়ার মগনামা  পশ্চিমকূল সড়কে ৭ হাজার মানুষের ভরসা এখন বালির বস্তা

রাকিবুল হাসান
মাতামুহুরীতে ৭ বছরের নিষ্পাপ শিশু ওয়াহিদুল ইসলামকে বলাৎকারের পর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের ফাঁসির দাবিতে আজ বুধবার (১৭ জুন) উত্তাল হয়ে উঠেছে চকরিয়ার আদালত চত্বর । দুপুরে আসামিদের আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ জনতা ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ওয়াহিদুল ইসলামের সহপাঠী আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন।
এ সময় সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। খুনিদের ফাঁসি চাই ওয়াহিদুলের রক্ত বৃথা যেতে দেব না এমন হাজারো স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো আদালত চত্বর।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, একটি ৭ বছরের অবুঝ শিশুকে যেভাবে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমরা এই খুনিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই। সন্তানহারা বাবা-মায়ের আহাজারিতে এ সময় উপস্থিত অনেকের চোখেই পানি চলে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন বিকেলে নানার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে ওয়াহিদুল ইসলাম (৭)। নিখোঁজের দুই দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি খাল থেকে তার হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্মমভাবে বলাৎকারের পর হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
গতকালই স্থানীয় জনতা তিনজন লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সেখসন থেকে একজন স্বীকার করে তারা তাতে বলাৎকার করে তারপর মেরে ফেলে। আজ পুলিশি পাহারায় আসামিদের আদালতে তোলা হলে জনরোষ এড়াতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চকরিয়া থানা পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও সংগৃহীত আলামত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।

​মহেশখালীতে বন বিভাগের অভিযানে মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, ৭বনকর্মী আহত

পেকুয়ার মগনামা  পশ্চিমকূল সড়কে ৭ হাজার মানুষের ভরসা এখন বালির বস্তা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়নে সরকারি বনভূমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন ৭জন বন কর্মী। অবৈধ দখলদারদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয়ভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে উসকানিমূলকভাবে এই হামলা চালায়। এতে কয়েকজন বনকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতরা হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, বন প্রহরী তুষার সাহা, বন পাহারা দলের সদস্য আক্তার হোসেন, কেরুনতলী বিট কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, বন কর্মী নজরুল হুদা, বন কর্মী মো: আনোয়ার হোসেন, বন কর্মী নবায়ন চাকমা

 

​১৬ জুন সকাল ১১ টায় শাপলাপুর ইউনিয়নের জেএমঘাট এলাকায় মহেশখালী রেঞ্জ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সরকারি ভূমি দখলমুক্ত করতে গেলে অবৈধ দখলদার চক্রটি বাধা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা উচ্ছেদ ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করতে স্থানীয় মাইকে ঘোষণা দেয়। মাইকিং শুনে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে বন কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

​মহেশখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন:

​”সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে আমরা সকালে জেএমঘাট এলাকায় অভিযানে যাই। কিন্তু দখলদার চক্রটি পরিকল্পিতভাবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাধারণ মানুষকে উসকানি দেয় এবং বন কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। হামলায় আমাদের কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা ও বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।”

মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস সোলতান জানান হামলার ঘটনায় বন বিভাগ ও পুলিম কাজ করছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোভারদের দীক্ষাদানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৩ দিনব্যাপী বার্ষিক তাঁবুবাস

পেকুয়ার মগনামা  পশ্চিমকূল সড়কে ৭ হাজার মানুষের ভরসা এখন বালির বস্তা

 

তাওহিদুল ইসলাম

কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপকূলীয় মুক্ত রোভার স্কাউট গ্রুপ ও শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের যৌথ আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী “বার্ষিক তাঁবুবাস ও দীক্ষা অনুষ্ঠান-২০২৬” সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৬ জুন) রোভারদের দীক্ষাদানের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
গত ১৪ জুন শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এই তাঁবুবাসে মোট ১২০ জন রোভার ও স্কাউট অংশগ্রহণ করেন। তিন দিনের এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ক্যাম্প চলাকালে ভোরের পাখি, তাঁবুকলা, অবস্ট্যাকল, বনকলা ও তাঁবু জলসাসহ পাঁচটি চ্যালেঞ্জভিত্তিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রোভার ও স্কাউটরা দলগত নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা এবং সেবামূলক মানসিকতার বাস্তব প্রশিক্ষণ লাভ করে।
সমাপনী ও দীক্ষা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটস পেকুয়া উপজেলার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা রোভার স্কাউটের সম্পাদক আব্দুল হামিদ, পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী হাসান, পেকুয়া উপজেলা স্কাউটসের কমিশনার নাছির উদ্দীন এবং নূর আয়েশা খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ঈসমাঈল খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহযোগী সদস্য ও কলেজ রোভার স্কাউট লিডার ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
বক্তারা বলেন, রোভার স্কাউটিং তরুণদের মানবিক, দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁবুবাস ও দীক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে উপকূলীয় মুক্ত রোভার স্কাউট গ্রুপের রোভারমেটসহ বিভিন্ন পর্যায়ের স্কাউট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নতুন রোভাররা স্কাউট আদর্শ ও নীতির প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।