| ২০ মার্চ ২০২৬

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা যেমন আজও নিশ্চিত হয়নি, তেমনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষাও আজও পরিকল্পিত নয়। আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। সাধারণ জনগণের চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিদেশগমন প্রবণতা এখনও উচ্চ হারে বিরাজমান। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা এখনো সর্বজনীন ও জনবান্ধব হয়ে ওঠেনি।

স্বাস্থ্যসেবা দেশের জনগণের অন্যতম মৌলিক অধিকার হলেও, এর বাস্তব প্রতিফলন এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত হয়নি। একটি পরিকল্পিত স্বাস্থ্যনীতির অনুপস্থিতি, চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ক উন্নয়নের অভাব, এবং ‘প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’—এই সত্যটি সমাজে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।

যদিও বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে পরিতাপের বিষয়, ২০২১ সালে স্বাস্থ্য সূচকে বাংলাদেশ ১০০ স্কোরের মধ্যে পেয়েছিল মাত্র ৫২। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নিচে ছিল কেবল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

এই প্রেক্ষাপটে, কক্সবাজার জেলার বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে বহু চ্যালেঞ্জ। জেলায় বসবাসরত বিশাল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী, যারা স্বাস্থ্যসেবার উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

FDMN (Forcibly Displaced Myanmar Nationals) এবং স্থানীয় জনগণের (Host Community) স্বাস্থ্যসেবায় চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

চ্যালেঞ্জ ১: স্বাস্থ্যসচেতনতার অভাব

এ অঞ্চলের স্থানীয় জনগণ ও রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত জ্ঞান খুবই সীমিত। সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে তারা প্রায়ই অবগত নয়। ফলে অসংক্রামক ব্যাধির পাশাপাশি সংক্রামক রোগ—যেমন স্ক্যাবিস, এইডস, সিফিলিস ইত্যাদি—স্থানীয় জনগণের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে।

উত্তরণের উপায়:

(ক) সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে জনপ্রতিনিধি, মাঝি-হেড মাঝি, ইমাম, ও স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা।
(খ) স্বাস্থ্যবিধি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগের ভয়াবহতা, প্রতিকার ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

চ্যালেঞ্জ ২: স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে অনীহা

ধর্মীয় কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের কারণে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণ আধুনিক চিকিৎসার চেয়ে ঝাড়ফুঁক বা লতা-পাতার ব্যবহারকে বেশি গুরুত্ব দেয়। পর্দাপ্রথা, গোপনীয়তা এবং নারীর চলাফেরায় বিধিনিষেধের কারণে অনেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে অনিচ্ছুক।

উত্তরণের উপায়:

(ক) স্থানীয়দের মাঝে প্রচলিত অপচিকিৎসার ক্ষতিকর দিক ও আধুনিক চিকিৎসার সুফল তুলনা করে উপস্থাপন করা—উঠান বৈঠক, নাটিকা, সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে।
(খ) “স্বাস্থ্যসেবা আপনার গৃহে”—এই স্লোগানে আউটরিচ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্লকভিত্তিক ও বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান। এর জন্য কমিউনিটি নার্সদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও মোতায়েন করা।

চ্যালেঞ্জ ৩: অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা

কক্সবাজারে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বসবাস করছে, যার জন্য ২৫০ শয্যার একটি মাত্র জেলা সদর হাসপাতাল রয়েছে। উখিয়া ও টেকনাফের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী আসে। জনবল সংকট প্রকট।

উত্তরণের উপায়:

(ক) ৫০০ শয্যার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা। নার্সিং কলেজ স্থাপন ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যা, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি বাড়ানো এবং সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।
(খ) শূন্যপদের বিপরীতে দ্রুত জনবল নিয়োগ, বিশেষ করে নার্স নিয়োগ।

চ্যালেঞ্জ ৪: প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব

প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করার জন্য দক্ষ জনবল প্রয়োজন, যা বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

উত্তরণের উপায়:

চলমান জনবলকে নিম্নোক্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া:

  • Basic Life Support (BLS), Advanced Life Support (ALS), Basic Emergency Care (BEC)

  • সংক্রমণ প্রতিরোধ (Infection Prevention and Control)

  • হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

  • মানসিক সহায়তা (Psychosocial Support – PSS)

  • নবজাতকের শ্বাস প্রশ্বাস সহায়তা (Helping Baby Breathe)

  • নিরাপদ ইনফিউশন থেরাপি

  • প্রবীণ ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার

  • শিশু ও মাতৃদুগ্ধ পুষ্টি (IYCF)

  • দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া (Disaster Response & Medical Emergency in Disaster)

উপসংহার

বর্তমানে অসংক্রামক ব্যাধির হার এই প্রান্তিক জেলাতেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর ৬৭% ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের মতো রোগে হয়, অথচ জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২% এই খাতে বরাদ্দ করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও আর্ক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শহরাঞ্চলে ‘ন্যাশনাল হাইপারটেনশন অ্যান্ড ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল’ চালু করা হয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কক্সবাজারেও সম্প্রসারিত করা জরুরি।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট। ২০১৯ সালে শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ২৬,২০০ জন মানুষ এতে মারা যায়। এই সংকট মোকাবেলায় ‘One Health Approach’ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমানে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ মাত্র ৫.২% এবং স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আছে মাত্র ১% মানুষ। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাশ্রয়ী ও নিয়ন্ত্রিত মূল্যের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠন অপরিহার্য।

লেখক
ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দিন
নার্স ও পুষ্টিবিদ, কক্সবাজার।

ঈদ উপলক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্সবাজার-পেকুয়া সফরসূচি

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার ও পেকুয়া সফরসূচি প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তিনি আগামী ২০ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার বিকেল ৫টায় রাজধানীর গুলশান বাসভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি। সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বিমানযোগে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে রাত ৭টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সেখানে পৌঁছে তিনি কক্সবাজার সার্কিট হাউজে অবস্থান করবেন এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। একই দিন রাতে তিনি পেকুয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন।
পরদিন ২১ মার্চ শনিবার সকাল ৯টায় পেকুয়া ঈদগাহ মাঠে পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নামাজ শেষে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পরে তিনি পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
২২ মার্চ রবিবার দুপুরে পেকুয়ায় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংযোগ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তার। বিকেলে তিনি কক্সবাজার হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং সন্ধ্যায় রাজধানীতে পৌঁছাবেন।
সফরকালীন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার সঙ্গে থাকবেন বলে জানা গেছে

পেকুয়া শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় এ্যালামনাই এসোসিয়েশন (শিউবি) র ইফতার মাহফিল ও মেজবান অনুষ্ঠিত

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পেকুয়ার অন্যতম বিদ্যাপিঠ শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় এ্যালামনাই এসোসিয়েশন (শিউবি)র ইফতার মাহফিলও মেজবান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় এই উপলক্ষে এক স্মৃতিচারণমুলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় ১৯৭৬ ব্যাচের ছাত্র মোহাম্মদ দলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ১৯৯৩ ব্যাচের ছাত্র মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং ২০০১ ব্যাচের ছাত্র সবুজের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন , স্কুলটির অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমদ।
এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক।

এতে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে আরো বক্তব্য রাখেন, স্কুলটির প্রাক্তন কৃতি ছাত্র যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড এর সাবেক জিএম ইন্জিনিয়ার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নায়েম ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড.মোস্তফা কামাল, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মুরাদ, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আজম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেড কোয়াটার মো: ইয়াছিন আরাফাত, বান্দরবানের জেলা ও দায়রা জর্জ জসিম উদ্দিন, নাহার এগ্রো গ্রুপের সিনিয়র ডিজিএম আলাউদ্দিন চৌধুরীসহ আরো অনেকে।

এতে প্রাক্তন সিনিয়র ছাত্রদের মাঝে আরো উপস্থিত ছিলেন, বনানী গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী, সাবেক অধ্যক্ষ এইচ.এম ফজলুল কাদের, শিলখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হোছাইন, স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্য মো: মোরশেদ, আয়োজক কমিটির আহবায়ক কমর উদ্দিন, হাফেজ ছলিমুল্লাহসহ আরো অনেকে।
আলোচনা শেষে উপস্থিত সবাই চাটগাঁইয়া মেজবানে অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রাচীন বিদ্যাপীঠ শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় অনেক কৃতি ছাত্রছাত্রী তৈরি করেছেন যারা আজ দেশে সফলতার সাথে শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা আরো বলেন, শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় সব সময় অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা। এই বিদ্যালয়টি এগিয়ে যাচ্ছে এবং শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে এই অঞ্চলব্যাপী। স্মৃতিচারণে স্কুলটির প্রাক্তন ছাত্ররা তারা নিজেদের স্কুল জীবনের নানান স্মৃতি তুলে ধরেন।

এদিকে প্রবীণদের উপস্থিতিতে শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়। নবীন আর প্রবীণদের মেল বন্ধনে সৌহার্দ্যপূর্ণ এক পরিবেশের সৃষ্টি হয় স্কুল আঙ্গিনায়। আয়োজকেরাও ভবিষ্যতে এইরকম আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

জনদূর্ভোগ চরমে

পেকুয়ায় ঝরাজীর্ণ ব্রিজের মরণফাঁদেই জনচলাচল

কক্সবাজারে স্বাস্থ্যসেবার চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক 

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার গোঁয়াখালী খালের উপর নির্মিত চলত মার্কেট সংলগ্ন এলজিইডি ব্রিজে দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্ট গর্তটি মরণফাঁদে পরিনত হলেও চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ৫সহস্রাধিক মানুষ। দীর্ঘ ২৫ বছর আাগে এলজিইডির নির্মিত ব্রিজের রেলিং পটাতন ভেঙে ঝরাজীর্ন হয়েপড়েছে। পটাতনের মাঝখানে ভাঙতে ভাঙতে গর্তে পরিণত হওয়ায় প্রতিদিন ছোট বড় দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যান ও পদযাত্রী।
স্থানীয় লোকজন বলেন, ১ বছর ধরে বড় ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: নুরুল আজিম জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে উক্ত ব্রিজের বিষয়ে লিখতভাবে জানানো হলেও সংস্কারের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে এলাকার ৪-৫ টি মহল্লার ৫ হাজার লোকজন চলাচলে চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন।

চলত মার্কেটের ব্যবসায়ী মো: ইউনুছ জানান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা চলাচলে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিনিয়িত।
ব্যবসায়ী রাহেদুল হায়দার চৌধুরী জানান, ব্রিজের পাশে তার মৎস্য প্রজেক্ট ও খামার রয়েছে। ওখানে যযাতায়তে ওই ব্রিজের গর্তটি চোখে পড়লে স্থানীয় কিছু লোকজনের পরামর্শ করে ওই গর্ত হওয়া ব্রিজটি মেরামতের উদ্যোগে নিলেও অপর স্থানীয়রা টেকসই ও স্থায়ী ব্রিজের দাবিতে তার নিজস্ব উদ্যোগে মেরামতে বাধার সৃষ্টি করে। তিনি এলাকার জনসাধরণের দুর্ভোগ নিরসনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্থানীয় সংবাদকর্মী এফ এম সুমন বলেন, এই ব্রিজের ঝুকিপূর্ণ গর্তের কারণে গাড়ি নিয়ে যাতায়ত করা যায়না। রাতের আধারে পথচারীরা নিয়মিত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

পেকুয়া উাপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ দাশ বলেন, বিষয়টি স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে জেনেছি। সরকারী অর্থায়ন সাপেক্ষে টেকসই ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।