মাতামুহুরি নদীর দুই তীরজুড়ে শীতকালীন সবজির হাসি
মনিরুল আমিন.চকরিয়া
বাংলাদেশের শস্য উৎপাদনে উর্বর ভূমি কক্সবাজার জেলা। এ কক্সবাজারের মাতামুহুরি নদীর তীর এখন নয়নাভিরাম সবুজের সমারোহ। নদীর তীরের উর্বর পলি মাটিতে বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি চাষে ভরে উঠেছে। এসব ফসলের মাঠ এখন নানা রকম পাখ-পাখালির কলতানে মুখর।
জেলার চকরিয়ার ভেতর দিয়ে বয়ে চলা মাতামুহুরি নদীর বুকচিরে এক সময় বড় বড় নৌকার চলাচল ছিল। সেই নদী ভরাট হয়ে ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরে তাকালে শুধুই সবুজের সমারোহ। নদীর পলি মাটিতে চাষ হচ্ছে ধান,গম,ভুট্টা,বাদাম, সরিষা,আলু,পেঁয়াজ,রসুন,মিষ্টি আলু,মিষ্টি কুমড়া,মুলা,কাঁচা মরিচ,বাঁধাকপি,ফুলকপিসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। নদীর দুই পাড়ে এখন কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা সতেজ ফসল বাতাসে দোল খাচ্ছে।
নদীর যে সকল স্থান আগেই শুকিয়ে গেছে সে সকল স্থানে ফসলের চাষ হচ্ছে পুরোদমে। কয়েক বছর আগে নদীতে প্রচুর পরিমাণে বালি ছিল। কিন্তু এখন পলি পরে কিছু কিছু স্থানে বালি না থাকায় নদীর মাঝে ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের চাষও হচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক সৈয়দ আলম কালবেলাকে জানান,এ বছর এক একর জমিতে রবিশস্য লাগিয়েছেন। আছে টমেটো,বেগুন,বাঁধাকপি, ফুলকপি,বেগুন,আলু,মুলা ও সরিষা। সৈয়দ আলমের আশা , ফসল বিক্রি করে সব খরচ বাদেও দেড় লাখ টাকার মতো আয় হবে।
স্হায়ীরা জানান,মাতামুহুরি নদীর পাড়ে সবজি চাষ করে উপজেলার বমুবিলছড়ি,সুরাজপুর-মানিকপু,কাকারা,লক্ষ্যারচর,কৈয়ারবিল,বরইতলী ইউনিয়নে মাতামুহুরি নদীর দুই পাড়ের অসংখ্য কৃষক নিজেদের অভাব গুছিয়েছেন।
এমনকি অনেক কৃষক ছেলে সন্তানকে বিদেশে পাঠানো, ঘরবাড়ি তৈরি ও জমি জমা কিনেছেন।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন,নদীর চরের জমি খুবই উর্বর। ফলে ফসল উৎপাদনও বেশি হয়। এতে সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কৃষকেরা যাতে ভালো ফসল ফলাতে পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া ও মৌসুম ভালো থাকায় কৃষকেরা ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো মূল্যও পাচ্ছে।














