| ১১ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাসন থেকে সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদ

নির্বাসন থেকে সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদ

 

বাহার উদ্দিন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অভিযাত্রা,দীর্ঘ নির্বাসন, আইনি লড়াই ও অনিশ্চয়তার সময় পেরিয়ে অবশেষে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজার-১ চকরিয়া-পেকুয়া আসনে প্রায় লক্ষাধিক ভোটে নির্বাচিত সংসদ সালাহউদ্দিন আহমদ।

রাজপথ থেকে সংসদ এই যাত্রা শুধু বিরোধী রাজনীতির দৃঢ়তা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও মামলার জটিলতায় সালাহউদ্দিন আহমদ এক সময় ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে গুম হয়ে দীর্ঘদিন ভারতের মেঘালয়ে অবস্থানকালে তাকে নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, রাজনৈতিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ সব মিলিয়ে সময়টি ছিল চরম দুঃসময়। তবু রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আদর্শে অবিচল থেকে তিনি লড়াই চালিয়ে যান।

দেশে প্রত্যাবর্তনের পর শুরু হয় আরেক দফা সংগ্রাম। একাধিক মামলার শুনানি, আদালতে হাজিরা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ সবকিছু সামলাতে হয়েছে দৃঢ় মনোবল নিয়ে। পর্যায়ক্রমে আইনি জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পর তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব বাধা পেরিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়াকে অনেকেই দেখছেন ‘রাজনৈতিক পুনর্জন্ম’ হিসেবে। সংসদে তার উপস্থিতি বিরোধী কণ্ঠকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের প্রশ্নে তিনি সংসদে সোচ্চার ভূমিকা রাখবেন এমন প্রত্যাশা দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের।
নেতাকর্মীরা এটিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের বিজয় হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যাবর্তন সংসদীয় রাজনীতিতে ভারসাম্য আনতে সহায়ক হবে এবং গণতান্ত্রিক বিতর্ককে আরও প্রাণবন্ত করবে।

যদিও প্রত্যাবর্তন হয়েছে, চ্যালেঞ্জ কম নয়। সংসদে কার্যকর ভূমিকা, দলীয় ঐক্য রক্ষা, এবং জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন সবকিছুই নির্ভর করবে তার রাজনৈতিক কৌশল ও নেতৃত্বের ওপর। তবু নির্বাসনের কঠিন সময় পেরিয়ে আসা এই নেতা যে সংগ্রামের রাজনীতিতে অভিজ্ঞ, তা তার সমর্থকদের আস্থা জোগাচ্ছে।

পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদের দীর্ঘপথ ছিল সংগ্রাম ও ত্যাগ তিতিক্ষার ফল। পেকুয়া চকরিয়ার আপামর জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষকে বিজয় করে সংসদে পাঠিয়েছে। তবে আমাদের আশা দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীত্ব লাভ করে তিনি দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারের হাল ধরবেন।

কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশারফ হোসেন টিটু বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদের মতো মেধাবী নেতাকে কক্সবাজার জেলার মানুষ ধারণ করে। নির্বাসন থেকে সংসদে যাওয়াকে এখানকার মানুষ উন্নয়নের স্বর্ণযুগ বলে মনে করছেন।

স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১

নির্বাসন থেকে সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদ

এইচ, এম শহীদুল ইসলাম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে স্কুলে যাওয়ার পথে গলায় ছুরি ধরে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে। একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পেকুয়া থানা সূত্রে জানাযায় সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় সালাউদ্দিন ব্রিজের সামনে থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শীলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ির জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় অভিযুক্ত যুবক মোহাম্মদ আবিদ (১৯) ও তার দুই সহযোগী গলায় ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে একটি টমটম অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার চেষ্টা করছে। পরে পেকুয়া চৌমুহনী এলাকায় একটি পরিবহণ কাউন্টারের সামনে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
পরে খবর পেয়ে পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সায়েদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবিদকে আটক করেন। অভিযুক্ত আবিদের বাড়ি পেকুয়া সদর গোয়াখালী বলে জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরুল হাসান বলেছেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ওই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবিদকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।’

মহেশখালীতে বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস পালন

নির্বাসন থেকে সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদ

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হউক সবার” – এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মহেশখালীতে বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস পালন করা হয়েছে। ৮ই এপ্রিল সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়।
র‌্যালী শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ স্কাউটস মহেশখালী উপজেলার সভাপতি ইমরান মাহমুদ ডালিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে স্কাউটস অপরিহার্য। শিক্ষার্থীর সুন্দর জীবন গড়তে স্কাউটিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।
এসময় উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উপজেলা স্কাউটস সম্পাদক এম গিয়াস উদ্দিন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রে চিকিৎসা না পেয়ে রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যূ অভিযোগ

নির্বাসন থেকে সংসদে সালাহউদ্দিন আহমদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনে মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র (জিকে)-এর বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলায় এক রোহিঙ্গা নারীর মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে এবার এক রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, যা ক্যাম্পজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) অসুস্থ্য সুমাইয়া আক্তারকে নিয়ে তার বাবা মোহাম্মদ সেলিম গণস্বাস্থ্য পরিচালিত হাসপাতালে যান। সেখানে প্রথমেই গেটের নিরাপত্তাকর্মী তাদের প্রবেশে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অনেক অনুরোধের পর হাসপাতালে ঢুকতে পারলেও তাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রোগীকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও চিকিৎসা না পাওয়ায় সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই অচেতন হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি গুরুতর দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে নিকটবর্তী এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সুমাইয়ার মৃত্যু হয়—একটি মৃত্যু, যা এখন প্রশ্ন তুলছে মানবিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা নিয়ে।

অভিযোগের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল, তবে তারা চিকিৎসককে না জানিয়েই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ফলে তাদের পক্ষে আর কিছু করার ছিল না।

তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও অন্যান্য উপকারভোগীরা এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় অবহেলার কারণেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে এবং বাধ্য হয়েই তারা অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

উল্লেখ্য, এর আগেও একই হাসপাতালে আলিশা নামের ১০ মাস বয়সী এক শিশুর জরুরি চিকিৎসার জন্য গেলে তাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।পরে অন্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেয় তারাও।এছাড়া ডিউটি চিকিৎসক শিমুলের বিরুদ্ধে উপকারভোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি রোগীদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব বিষয়ে তারা ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনের সিআইসি অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া পাননি।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার এবং ক্যাম্পবাসীদের দাবি, এমন অমানবিক আচরণকারী চিকিৎসকদের দ্রুত অপসারণ করে মানবিক ও দায়িত্বশীল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তারা চান, ভবিষ্যতে যেন কোনো মা-বাবাকে চিকিৎসার অভাবে সন্তানের প্রাণ হারানোর বেদনা সহ্য করতে না হয়।

মানবিক সংকটে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা শুধু একটি সেবা নয়, বরং বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। সেই ভরসা যদি বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়—বরং একটি বড় মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।