| ৮ এপ্রিল ২০২৬

ওসতাজুল আসাতেজা হক্কুল উলামা অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ এলাহদাদ আলভী (রহঃ) এর ৫ম ওফাত বার্ষিকী আজ

ওসতাজুল আসাতেজা হক্কুল উলামা অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ এলাহদাদ আলভী (রহঃ) এর ৫ম ওফাত বার্ষিকী আজ

এম. আবদুল্লাহ আনসারী
…………………………………………………..
আজ (০৪ এপ্রিল ২০২৬) দক্ষিণ চট্টগ্রামের খ্যাতিমান আলেমে দীন রাজাখালী বি ইউ আই কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ হাজারো আলেমের উস্তাজ (ওসতাজুল আসাতেজা) তরীকতের শিক্ষক পীরে কামেল শাহছুফী আল্লামা মুহাম্মদ এলাহদাদ আলভী (রহঃ) এর ৫ম ওফাত বার্ষিকী।
তিনি বিগত ২০২১ সালের আজকের দিনে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটাস্থ নিজ বাস ভবন আলভী মঞ্জিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে পরজগতে পাড়ি দেন।

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী প্রতিতযশা এই ইসলামী ব্যক্তিত্ব ১৯৩৮ সালে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি রাজাখালী বেশারতুল উলুম মাদ্রাসা হতে প্রাথমিক শিক্ষা, পুঁইছড়ি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা হতে ফাযিল ডিগ্রী এবং চট্টগ্রামের প্রাচীনতম দীনি মারকায ওয়াজেদিয়া কামিল মাদ্রাসা হতে কামিল ডিগ্রী অর্জন করে ১৯৭৪ সালেই রাজাখালী বেশারতুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় সহকারী সুপার পদে যোগদান করেন। অবসরের আগ পর্যন্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সুনামের সাথে নিয়োজিত ছিলেন। একই মাদ্রাসায় প্রায় চার দশক ধরে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে অগনিত আলেমে দীন গড়ে তুলেন যারা বর্তমানে সমাজ ও দেশের সর্বস্তরে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। এছাড়া তিনি এলাকার বিভিন্ন জামে মসজিদে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অবৈতনিক খতিবের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকতা থেকে অবসরপ্রাপ্ত জীবনে কিছু দিন পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম আলিম মাদরাসায় দরস দিয়েছিলেন।
তাঁর ছাত্র হবার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তাঁর ছাত্রদের অনেকে আমার শিক্ষাগুরু ছিলেন। হুজুরের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় আমার শিক্ষকতার সময়ে যদিও সহকর্মী হিসেবে। সে সময়ে আল কোরান আল হাদিস ইলমে ফিকাহ আরবী সাহিত্য ছাড়াও ইতিহাস ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানে হুজুরের পান্ডিত্য আমাকে মুগ্ধ করত। প্রকৃত ইসলামি ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ায় অনেক সময় হুজুর হতাশা প্রকাশ এখনো ভাবিয়ে তোলে। আমার মরহুম পিতা মাওলানা আবদুল জব্বার( রঃ) সম্পর্কে হুজুরের নিকট অনেক শিক্ষনীয় স্মৃতি শুনেছি যা আমার অজানা ছিল।
কর্ম জীবনে হক্কুল উলামার আইডল ছিলেন তিনি। ভালো শিক্ষক ভালো প্রশাসক ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতজন ছিলেন আলভী হুজুর।
তরিকতের সিলসিলায় যতটুকু জানাযায় তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিশিষ্ট বুজুর্গ মাওলানা শাহ এলাহী বখস (রহঃ) ও মাওলানা শাহ শফিকুর রহমান (রহঃ) এর খলিফা ছিলেন। তিনি মোজাদ্দেদিয়া তরীকার নীতিমালা অনুসারে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ আনজাম দিয়ে তরিকতের শিক্ষকের ভূমিকা পালন করতেন। তাঁর বুদ্ধি-পরামর্শে অসংখ্য মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন সর্বজন শ্রদ্ধাভাজন আলেমেদ্বীনের শূণ্যতা সমাজে পূরণ হবার নয়। মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে হুজুরের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করছি।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রে চিকিৎসা না পেয়ে রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যূ অভিযোগ

ওসতাজুল আসাতেজা হক্কুল উলামা অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ এলাহদাদ আলভী (রহঃ) এর ৫ম ওফাত বার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনে মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র (জিকে)-এর বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলায় এক রোহিঙ্গা নারীর মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে এবার এক রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, যা ক্যাম্পজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) অসুস্থ্য সুমাইয়া আক্তারকে নিয়ে তার বাবা মোহাম্মদ সেলিম গণস্বাস্থ্য পরিচালিত হাসপাতালে যান। সেখানে প্রথমেই গেটের নিরাপত্তাকর্মী তাদের প্রবেশে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অনেক অনুরোধের পর হাসপাতালে ঢুকতে পারলেও তাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রোগীকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও চিকিৎসা না পাওয়ায় সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই অচেতন হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি গুরুতর দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে নিকটবর্তী এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সুমাইয়ার মৃত্যু হয়—একটি মৃত্যু, যা এখন প্রশ্ন তুলছে মানবিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা নিয়ে।

অভিযোগের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল, তবে তারা চিকিৎসককে না জানিয়েই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ফলে তাদের পক্ষে আর কিছু করার ছিল না।

তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও অন্যান্য উপকারভোগীরা এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় অবহেলার কারণেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে এবং বাধ্য হয়েই তারা অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

উল্লেখ্য, এর আগেও একই হাসপাতালে আলিশা নামের ১০ মাস বয়সী এক শিশুর জরুরি চিকিৎসার জন্য গেলে তাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।পরে অন্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেয় তারাও।এছাড়া ডিউটি চিকিৎসক শিমুলের বিরুদ্ধে উপকারভোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি রোগীদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব বিষয়ে তারা ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনের সিআইসি অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া পাননি।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার এবং ক্যাম্পবাসীদের দাবি, এমন অমানবিক আচরণকারী চিকিৎসকদের দ্রুত অপসারণ করে মানবিক ও দায়িত্বশীল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তারা চান, ভবিষ্যতে যেন কোনো মা-বাবাকে চিকিৎসার অভাবে সন্তানের প্রাণ হারানোর বেদনা সহ্য করতে না হয়।

মানবিক সংকটে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা শুধু একটি সেবা নয়, বরং বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। সেই ভরসা যদি বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়—বরং একটি বড় মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।

মহেশখালীতে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় জরিমানা

ওসতাজুল আসাতেজা হক্কুল উলামা অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ এলাহদাদ আলভী (রহঃ) এর ৫ম ওফাত বার্ষিকী আজ

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে মহেশখালী উপজেলার গোরাকঘাটা বাজার ও বড় মহেশখালী নতুন বাজারে বাজার মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর থেকে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মহেশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু জাফর মজুমদার। এসময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে অবৈধভাবে তেল মজুদ রয়েছে কিনা তা তদারকি করা হয়।
অভিযানকালে ফুটপাত দখল, দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয়ের অভিযোগে ১ (এক) ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫১ ধারায় ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ অভিযানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বার্থে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চকরিয়ায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে প্রবাসীর জমি জবরদখলের অভিযোগ

ওসতাজুল আসাতেজা হক্কুল উলামা অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ এলাহদাদ আলভী (রহঃ) এর ৫ম ওফাত বার্ষিকী আজ

 

মনিরুল আমিন চকরিয়া

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভায় এক প্রবাসীর ক্রয়সুত্রে মালিকানাধীন জমি জবরদখল ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) সকালে চকরিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড বিনামারা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলা উদ্দিন বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাহারিয়া ঘোনার বাসিন্দা আলা উদ্দিন ও তার অংশীদাররা ভরামুহুরী মৌজার বিএস ২৫৭নং খতিয়ানের ৭৫৮ দাগের ৬ শতক জমি খরিদা সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু গত শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে একই এলাকার মো. আনাছ (৩৫), মিজানুর রহমান (৪০), তৌহিদ (৩০) ও শহিদুল ইসলামসহ (২২) অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে উক্ত জমিতে অতর্কিত প্রবেশ করে। তারা গায়ের জোরে জমিতে পাকা বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ শুরু করে।
জমির মালিক পক্ষ বাধা দিলে বিবাদী ও তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মালিক পক্ষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমনকি বাধা দিলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনেরও হুমকি দেয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন, কারণ বিবাদী পক্ষ তাদের জবরদখল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এ ঘটনায় জমি মালিক পক্ষ রবিবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী আবদুল আজিজ, বলেন, ‘স্থানীয় আলা উদ্দিন, রিদুয়ান, হুমায়ুন, রাজু, কাজল, মুছা, আবুল কালাম, সাইফুল, সেলিম, জহির, বাপ্পি, সুমন, আমান, রেজাউল, ফরিদ, আবদুল করিমসহ ১২ জনের মালিকানাধীন ৬ শতক জমি আমি ক্রয় করে ২০২৪ সাল থেকে ভোগদখলে আছি। আমার মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে অবস্থান করে বাউন্ডারি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’, যার ফলে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুনরায় বাধা দিতে গেলে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান,বিনামারা এলাকায় জবরদখল সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।