ওসতাজুল আসাতেজা হক্কুল উলামা অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ এলাহদাদ আলভী (রহঃ) এর ৫ম ওফাত বার্ষিকী আজ
এম. আবদুল্লাহ আনসারী
…………………………………………………..
আজ (০৪ এপ্রিল ২০২৬) দক্ষিণ চট্টগ্রামের খ্যাতিমান আলেমে দীন রাজাখালী বি ইউ আই কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ হাজারো আলেমের উস্তাজ (ওসতাজুল আসাতেজা) তরীকতের শিক্ষক পীরে কামেল শাহছুফী আল্লামা মুহাম্মদ এলাহদাদ আলভী (রহঃ) এর ৫ম ওফাত বার্ষিকী।
তিনি বিগত ২০২১ সালের আজকের দিনে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটাস্থ নিজ বাস ভবন আলভী মঞ্জিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে পরজগতে পাড়ি দেন।
বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী প্রতিতযশা এই ইসলামী ব্যক্তিত্ব ১৯৩৮ সালে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের পালাকাটা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি রাজাখালী বেশারতুল উলুম মাদ্রাসা হতে প্রাথমিক শিক্ষা, পুঁইছড়ি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা হতে ফাযিল ডিগ্রী এবং চট্টগ্রামের প্রাচীনতম দীনি মারকায ওয়াজেদিয়া কামিল মাদ্রাসা হতে কামিল ডিগ্রী অর্জন করে ১৯৭৪ সালেই রাজাখালী বেশারতুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় সহকারী সুপার পদে যোগদান করেন। অবসরের আগ পর্যন্ত অধ্যক্ষ হিসেবে সুনামের সাথে নিয়োজিত ছিলেন। একই মাদ্রাসায় প্রায় চার দশক ধরে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে অগনিত আলেমে দীন গড়ে তুলেন যারা বর্তমানে সমাজ ও দেশের সর্বস্তরে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। এছাড়া তিনি এলাকার বিভিন্ন জামে মসজিদে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অবৈতনিক খতিবের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষকতা থেকে অবসরপ্রাপ্ত জীবনে কিছু দিন পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম আলিম মাদরাসায় দরস দিয়েছিলেন।
তাঁর ছাত্র হবার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তাঁর ছাত্রদের অনেকে আমার শিক্ষাগুরু ছিলেন। হুজুরের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছিল পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় আমার শিক্ষকতার সময়ে যদিও সহকর্মী হিসেবে। সে সময়ে আল কোরান আল হাদিস ইলমে ফিকাহ আরবী সাহিত্য ছাড়াও ইতিহাস ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানে হুজুরের পান্ডিত্য আমাকে মুগ্ধ করত। প্রকৃত ইসলামি ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ায় অনেক সময় হুজুর হতাশা প্রকাশ এখনো ভাবিয়ে তোলে। আমার মরহুম পিতা মাওলানা আবদুল জব্বার( রঃ) সম্পর্কে হুজুরের নিকট অনেক শিক্ষনীয় স্মৃতি শুনেছি যা আমার অজানা ছিল।
কর্ম জীবনে হক্কুল উলামার আইডল ছিলেন তিনি। ভালো শিক্ষক ভালো প্রশাসক ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বের স্বীকৃতজন ছিলেন আলভী হুজুর।
তরিকতের সিলসিলায় যতটুকু জানাযায় তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিশিষ্ট বুজুর্গ মাওলানা শাহ এলাহী বখস (রহঃ) ও মাওলানা শাহ শফিকুর রহমান (রহঃ) এর খলিফা ছিলেন। তিনি মোজাদ্দেদিয়া তরীকার নীতিমালা অনুসারে দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ আনজাম দিয়ে তরিকতের শিক্ষকের ভূমিকা পালন করতেন। তাঁর বুদ্ধি-পরামর্শে অসংখ্য মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন সর্বজন শ্রদ্ধাভাজন আলেমেদ্বীনের শূণ্যতা সমাজে পূরণ হবার নয়। মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে হুজুরের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করছি।














