| ১৭ মার্চ ২০২৬

চকরিয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চকরিয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

 

মনিরুল আমিন. চকরিয়া 

কক্সবাজারের চকরিয়ায় অবৈধভাবে ছড়াখাল থেকে সেলো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অস্ত্রধারী বালু খেকো সন্ত্রাসীদের হামলায় তিন সাংবাদিক আহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫ জনের অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) থানায় মামলাটি করেছেন আহত সাংবাদিক দৈনিক আমার দেশ চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি এ.কে.এম ইকবাল ফারুক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন।

মামলার আসামিরা হলেন- নাজিম উদ্দিন (৪৬),শাহাব উদ্দিন (৪৪),নুরুল আলম (৩৫), আবদুল নুর (৫০),মহি উদ্দিন (৩৮),মোঃ মানিক (৩২), সাইফুল ইসলাম (৫৫),হুবাইব (২৫), জুনাইদ (২২),মোঃ হাসান (৩৫),মোহাম্মদ (৪৮) সহ অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আহত তিন সংবাদকর্মী হলেন-দৈনিক কালের কন্ঠ চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ,দৈনিক আমার দেশ চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ইকবাল ফারুক ও দৈনিক সংবাদ চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জিয়াবুল হক।

জানা যায়,গত রোববার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারির ডেবা এলাকার ছড়াখালে সেলো মেশিন বসিয়ে রাতদিন বালু উত্তোলন করছে নাজেম উদ্দিন নামের এক বালু খেকো। এসব বালু রাতের আধারে ট্রাকে করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে নাজেম উদ্দিন। স্থানীয়রা এসব নিয়ে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে। ট্রাকে করে বালু পাচারের কারণে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা- সেতু। নাজেম উদ্দিন ওই ছড়াখাল থেকে সরকারিভাবে বালু তোলার অনুমতি পায়। কিন্তু সে সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে সেলো মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছে। যা সরাসরি ইজারা শর্ত লঙ্গন করেছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আহত তিন সাংবাদিক কালের কন্ঠের প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ,আমার দেশ ইকবাল ফারুক ও দৈনিক সংবাদের জিয়াবুল হক সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর বর্বরতা হামলায় চালায়। আহত অবস্থায় প্রায় তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। তাদের দেশীয় অস্ত্রের দিয়ে মারধরের আঘাতে সাংবাদিক জিয়াবুলের একটি হাতে গুরুতর জখম হয়। তার হাতে হাড্ডি ভেঙ্গে গেছে। ফারুকের হাতের তালুতে কেটে যায়। ছোটন কান্তি নাথের মাথায় ও হাতে-পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ছোটন কান্তি নাথ ও জিয়াবুলের অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে চকরিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বেলাভূমিকে বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে,তবে এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

 

চকরিয়ায় অপহৃত দোকান কর্মচারী উদ্ধার, অপহরণকারী চক্রের প্রধান গ্রেফতার

চকরিয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাং থেকে অপহৃত দোকান কর্মচারী মোহাম্মদ পারভেজকে (১৭) অবশেষে উদ্ধার করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ। দীর্ঘ ১৬ ঘন্টার বিরতিহীন অভিযানে রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকা থেকে অপহরণের প্রধান হোতা নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মতে অপহৃত পারভেজকে বুধবার (১১ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং ছাগীর শাহ কাটা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার (এসআই) ফরিদ হোসেন বলেন, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ স্টেশন হতে বাড়িতে আসার পথে চকরিয়া উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকা থেকে মো.পারভেজ নামের ছেলেটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ৬-৭ জন দুবৃর্ত্ত। পরে একটি নাম্বার থেকে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই মোবাইল নাম্বারের সুত্র ধরে রামু উপজেলার দূর্গম পাহাড়ি এলাকা ঈদগড়ে ১৬ ঘন্টার রুদ্ধদার অভিযান শেষে অপহরণের প্রধান হোতা
রামুর ইদগড়ের বাসিন্দা
নুরুল ইসলামকে আটক করা হয় ও পরে তার স্বীকারোক্তি মতে ভিকটিম পারভেজকে চকরিয়ার ডুলহাজারা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মোহাম্মদ পারভেজ চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের কোরবানিয়া ঘোনা এলাকার মনজুর আলমের ছেলে।
পারভেজের বাবা মঞ্জুর আলম জানান, তার ছেলে পারভেজ লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ একটি দোকানে চাকরি করতেন। দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে দুষ্কৃতিকারীরা অপহরণ করে নিয়ে যায়।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র পারভেজ কে অপহরণ করে নিয়ে যায়। টানা ১৬ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে রাত ১০ টার দিকে ডুলাহাজারার ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপহরণকারী দলের একজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই ।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপহরণের সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার করতে অভিযানে রয়েছে পুলিশ।

২ শতাধিক হাফেজকে পোশাক প্রদান

পেকুয়ায় মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

চকরিয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রেজাউল করিম. স্টাফ রিপোর্টার

কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বারবাকিয়া ফাঁশিয়াখালী ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার ২ শতাধিক এতিম শিক্ষার্থীর হাতে জোব্বা তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের সম্মানে ইফতারের আয়োজন করা হয়।
বারবাকিয়া মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুল আবছারের সভাপতিত্বে উজানটিয়া এএস আলিম মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আবুল কালামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের লালখান বাজার অফিসার্স কলোনি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব আলহাজ্ব মাওলানা জে. এম. মনছুর আলম কুতুবী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুজ্জামান মঞ্জু, ফাঁশিয়াখালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আনছার উল্লাহ, মৌলভীবাজার ফারুকীয়া সিনিয়র মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক মাওলানা আমিনুর রশিদ এবং টইটং বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও পল্লী চিকিৎসক ডা. মোসলেম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাস্টার আমান উল্লাহ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাস্টার মো. নুরুন্নবী, মাস্টার মিজানুর রহমান, আনিছুর রহমান, আব্দুর রহিম ও রেজাউল করিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এদিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রমজান মাসের শুরুতে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় ৩ শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাসে এতিম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত মহৎ উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।

ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল – পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

চকরিয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

পার্বত্য চট্টগ্রাম বান্দরবানের লামায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল। নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য নিরসন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রতীকীভাবে পাঁচটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন।

মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলার ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ মোট ১২টি জাতিগোষ্ঠীর অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার আবদুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মিলটন মুহুরী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজা এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আমির হোসেনসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের সময় ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় সেগুলো তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক পরিবারের সদস্যরা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। কার্ডের অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর কাছে পৌঁছাবে, যা নারীর আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি এই সহায়তা দিয়ে বেকার ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারবে।

পরে দুপুরে মন্ত্রী লামা উপজেলা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত
উপজেলা পরিষদ মাঠে বান্দরবান, লামা, আলীকদমসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লোকজনের মাঝে বক্তব্য দেন।