| ১১ এপ্রিল ২০২৬

মাতামুহুরি নদীর দুই তীরজুড়ে শীতকালীন সবজির হাসি

মাতামুহুরি নদীর দুই তীরজুড়ে শীতকালীন সবজির হাসি

মনিরুল আমিন.চকরিয়া

বাংলাদেশের শস্য উৎপাদনে উর্বর ভূমি কক্সবাজার জেলা। এ কক্সবাজারের মাতামুহুরি নদীর তীর এখন নয়নাভিরাম সবুজের সমারোহ। নদীর তীরের উর্বর পলি মাটিতে বিভিন্ন জাতের শাক-সবজি চাষে ভরে উঠেছে। এসব ফসলের মাঠ এখন নানা রকম পাখ-পাখালির কলতানে মুখর।

জেলার চকরিয়ার ভেতর দিয়ে বয়ে চলা মাতামুহুরি নদীর বুকচিরে এক সময় বড় বড় নৌকার চলাচল ছিল। সেই নদী ভরাট হয়ে ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। নদীর তীরে তাকালে শুধুই সবুজের সমারোহ। নদীর পলি মাটিতে চাষ হচ্ছে ধান,গম,ভুট্টা,বাদাম, সরিষা,আলু,পেঁয়াজ,রসুন,মিষ্টি আলু,মিষ্টি কুমড়া,মুলা,কাঁচা মরিচ,বাঁধাকপি,ফুলকপিসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। নদীর দুই পাড়ে এখন কৃষকের নিবিড় পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা সতেজ ফসল বাতাসে দোল খাচ্ছে।

নদীর যে সকল স্থান আগেই শুকিয়ে গেছে সে সকল স্থানে ফসলের চাষ হচ্ছে পুরোদমে। কয়েক বছর আগে নদীতে প্রচুর পরিমাণে বালি ছিল। কিন্তু এখন পলি পরে কিছু কিছু স্থানে বালি না থাকায় নদীর মাঝে ইরি-বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের চাষও হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক সৈয়দ আলম কালবেলাকে জানান,এ বছর এক একর জমিতে রবিশস্য লাগিয়েছেন। আছে টমেটো,বেগুন,বাঁধাকপি, ফুলকপি,বেগুন,আলু,মুলা ও সরিষা। সৈয়দ আলমের আশা , ফসল বিক্রি করে সব খরচ বাদেও দেড় লাখ টাকার মতো আয় হবে।

স্হায়ীরা জানান,মাতামুহুরি নদীর পাড়ে সবজি চাষ করে উপজেলার বমুবিলছড়ি,সুরাজপুর-মানিকপু,কাকারা,লক্ষ্যারচর,কৈয়ারবিল,বরইতলী ইউনিয়নে মাতামুহুরি নদীর দুই পাড়ের অসংখ্য কৃষক নিজেদের অভাব গুছিয়েছেন।
এমনকি অনেক কৃষক ছেলে সন্তানকে বিদেশে পাঠানো, ঘরবাড়ি তৈরি ও জমি জমা কিনেছেন।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন,নদীর চরের জমি খুবই উর্বর। ফলে ফসল উৎপাদনও বেশি হয়। এতে সবজি চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কৃষকেরা যাতে ভালো ফসল ফলাতে পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া ও মৌসুম ভালো থাকায় কৃষকেরা ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো মূল্যও পাচ্ছে।

স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১

মাতামুহুরি নদীর দুই তীরজুড়ে শীতকালীন সবজির হাসি

এইচ, এম শহীদুল ইসলাম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে স্কুলে যাওয়ার পথে গলায় ছুরি ধরে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে। একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পেকুয়া থানা সূত্রে জানাযায় সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় সালাউদ্দিন ব্রিজের সামনে থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শীলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ির জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় অভিযুক্ত যুবক মোহাম্মদ আবিদ (১৯) ও তার দুই সহযোগী গলায় ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে একটি টমটম অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার চেষ্টা করছে। পরে পেকুয়া চৌমুহনী এলাকায় একটি পরিবহণ কাউন্টারের সামনে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
পরে খবর পেয়ে পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সায়েদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবিদকে আটক করেন। অভিযুক্ত আবিদের বাড়ি পেকুয়া সদর গোয়াখালী বলে জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরুল হাসান বলেছেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ওই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবিদকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।’

মহেশখালীতে বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস পালন

মাতামুহুরি নদীর দুই তীরজুড়ে শীতকালীন সবজির হাসি

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হউক সবার” – এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মহেশখালীতে বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস পালন করা হয়েছে। ৮ই এপ্রিল সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়।
র‌্যালী শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ স্কাউটস মহেশখালী উপজেলার সভাপতি ইমরান মাহমুদ ডালিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে স্কাউটস অপরিহার্য। শিক্ষার্থীর সুন্দর জীবন গড়তে স্কাউটিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।
এসময় উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উপজেলা স্কাউটস সম্পাদক এম গিয়াস উদ্দিন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রে চিকিৎসা না পেয়ে রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যূ অভিযোগ

মাতামুহুরি নদীর দুই তীরজুড়ে শীতকালীন সবজির হাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনে মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র (জিকে)-এর বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলায় এক রোহিঙ্গা নারীর মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে এবার এক রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, যা ক্যাম্পজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) অসুস্থ্য সুমাইয়া আক্তারকে নিয়ে তার বাবা মোহাম্মদ সেলিম গণস্বাস্থ্য পরিচালিত হাসপাতালে যান। সেখানে প্রথমেই গেটের নিরাপত্তাকর্মী তাদের প্রবেশে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অনেক অনুরোধের পর হাসপাতালে ঢুকতে পারলেও তাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রোগীকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও চিকিৎসা না পাওয়ায় সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই অচেতন হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি গুরুতর দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে নিকটবর্তী এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সুমাইয়ার মৃত্যু হয়—একটি মৃত্যু, যা এখন প্রশ্ন তুলছে মানবিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা নিয়ে।

অভিযোগের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল, তবে তারা চিকিৎসককে না জানিয়েই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ফলে তাদের পক্ষে আর কিছু করার ছিল না।

তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও অন্যান্য উপকারভোগীরা এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় অবহেলার কারণেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে এবং বাধ্য হয়েই তারা অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

উল্লেখ্য, এর আগেও একই হাসপাতালে আলিশা নামের ১০ মাস বয়সী এক শিশুর জরুরি চিকিৎসার জন্য গেলে তাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।পরে অন্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেয় তারাও।এছাড়া ডিউটি চিকিৎসক শিমুলের বিরুদ্ধে উপকারভোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি রোগীদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব বিষয়ে তারা ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনের সিআইসি অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া পাননি।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার এবং ক্যাম্পবাসীদের দাবি, এমন অমানবিক আচরণকারী চিকিৎসকদের দ্রুত অপসারণ করে মানবিক ও দায়িত্বশীল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তারা চান, ভবিষ্যতে যেন কোনো মা-বাবাকে চিকিৎসার অভাবে সন্তানের প্রাণ হারানোর বেদনা সহ্য করতে না হয়।

মানবিক সংকটে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা শুধু একটি সেবা নয়, বরং বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। সেই ভরসা যদি বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়—বরং একটি বড় মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।