| ৪ মে ২০২৬

চকরিয়া পৌরসভার গ্রামীণ সড়কের  বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে

চকরিয়া পৌরসভার গ্রামীণ সড়কের  বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক চকরিয়া 

অলি উল্লাহ রনি, নিজস্ব প্রতিবেদক চকরিয়া: কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড উত্তর কাহারিয়াঘোনা ঘাটপাড়া ও খোন্দকারপাড়া থেকে মগবাজার পর্যন্ত গ্রামীণ রাস্তার বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় চলাচল নিয়ে বর্ষা মৌসুমে এক ফুটের অধিক পানি রাস্তার উপরে জমে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় ভাঙা সড়ক, খানাখন্দ, কাদা ও জলাবদ্ধতা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, খোন্দকারপাড়া পুরাতন জামেমসজিদ থেকে বাইতুল নুর জামে মসজিদ পর্যন্ত রোড, বাটাখালী ব্রিজ হয়ে কাহারিয়া ঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাজুড়ে রয়েছে বড় বড় গর্ত ও কাদার স্তূপ।

এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া, কৃষক, দিনমজুর থেকে শুরু করে হাজারো মানুষ যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু রাস্তাটির এ দুরবস্থা যান চলাচলকে প্রায় অচল করে তুলেছে। ভ্যান, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকরা কোনোভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুকনো মৌসুমেও রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী থাকে। যানবাহনের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প রুটে যেতে হয়, এতে সময় ও খরচ দুটিই বাড়ছে।
ঘাটপাড়া – খোন্দকারপাড়া ও করাইয়াঘোনা এলাকার কৃষকরা বলছেন, ফসল নিয়ে বাজারে যেতে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয়। ধান, চাল বা সবজি বিক্রি করেও লাভ থাকে না।

উত্তর কাহারিয়া ঘোনা – ঘাট পাড়া রোডের পাশের থানা সেন্টারের ইজিবাইক চালক করিম বলেন, খানাখন্দ আর কাদার কারণে প্রায় দীর্ঘ পথ ঘুরে বাড়ি ফিরতে হয়। গাড়ির কন্ট্রোল বক্স ও মোটর বারবার নষ্ট হয়ে যায়।’
স্থানীয় দোকানদার প্রতিবন্ধী মো: মোবারক  ও জামাল উদ্দিন বলেন, রাস্তার বিভিন্ন এস্থানে খুড়ে যাওয়ায় মালামাল আনতে অতিরিক্ত ভাড়া লাগছে, এতে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বারবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কাজ হচ্ছে না। তারা দ্রুত রাস্তাটি পাকা করাসহ স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

মোবাইল নং ০১৮১৯-৯১৩৯৪৯
তারিখ ৩০-০১-২০২৬

অপহরণ চক্রের নারী সদস্য আটক

চকরিয়ার অপহৃত ছাত্রী কক্সবাজার থেকে উদ্ধার

চকরিয়া পৌরসভার গ্রামীণ সড়কের  বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের চকরিয়ায় অপহৃত শিক্ষার্থী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণ চক্রের নারী সদস্যকে আটক করা হয়।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মনির হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত এক অপ্রাপ্তবয়স্কা মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার ও জড়িত এক মহিলাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া সাহারবিল এলাকার প্রবাসী শাহা আলমের মাদ্রাসা পড়ুয়া কন্যা জন্নাতুল নাঈম (১৩), গত ২৮/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা হতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। ওই ছাত্রীর পরিবার তাকে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার ভাই শিহাব চকরিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী নং-১৫২৯, তারিখ-২৯/০৪/২০২৬ খ্রিঃ দায়ের করে। উক্ত ডায়েরীর আলোকে সন্দেহভাজন লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ফরেস্টর জামাল উদ্দিনের কন্যা তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমাকে কক্সবাজার পর্যটন এলাকায় হতে আটক করে। তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা প্রথমে ভিকটিম তার হেফাজতে থাকার কথা অস্বীকার করলেও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ের পুলিশের অভিযান টিমের সন্দেহ হওয়ায় কক্সবাজার কলাতলী লাইট হাউস এলাকায় শিমার ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ভিকটিম জন্নাতুল নাঈম (১৩)কে উদ্ধার করে। এসময় উক্ত ঘরে থাকা দুজন রাখাইন মেয়ে পালিয়ে যায়।

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, চকরিয়ার লক্ষ্যারচরের মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমা (২৫) পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরবর্তীতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়ানো এবং স্বর্ণের চেইন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ঘটনার দিন ভিকটিমকে অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় চকরিয়া থানাধীন সাহারবিল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মিজবাউল উলুম মাদ্রাসার গেইটের সামন থেকে কৌশলে মানব পাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে এবং কক্সবাজার সদর থানাধীন লাইট হাউজ পাড়া এলাকায় নিয়ে তানজিমা তাবাচ্ছুম শিমার ভাড়া বাসায় আটক করে রাখে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ নারী পাচার চক্রের সাথে জড়িত, যারা অপ্রাপ্তবয়স্কা ছাত্রীদের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে যৌন শোষণ ও পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা বিক্রয় করে থাকে।
উদ্ধার অভিযানে ১নং আসামীকে আটক করা হয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে চকরিয়া থানার এফআইআর নং-৪৪, তারিখ- ৩০ এপ্রিল, ২০২৬; জি আর নং-১৬৬, ধারা-মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২ এর ৭/৮/১০/১১ মামলা রুজু করা হয়।

পেকুয়ার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক

চকরিয়া পৌরসভার গ্রামীণ সড়কের  বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের পেকুয়ার আলোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার আসামী সোহেল চট্টগ্রামে আটক হয়েছে।
৩০ এপ্রিল দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে পেকুয়া থানার একদল পুলিশ মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোয়াখালীর নুরুল কাইয়ুমের ছেলে সোহেল ও তার সহযোগীদের হামলায় ৫জন গুরুতর আহত হয়। আহত পক্ষের মুজাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় সোহেল ও তার সহযোগী ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মামলা নং জিআর ৬৫/২৬ তাং ২৯/০৪/২৬। এমামলার ২ নং আসামী সোহেলকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
মামলার বাদী মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই চক্রটি এলাকায় দখলবাজি ও চাঁদাবাজি করে আসছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
আহতদের প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত সোহেলের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে। পেকুয়া থানা ও আদালতে বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য মামলা গুলো হল এদিকে আটক সোহেলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলার তথ্য পাওয়া গেছে যার নং সি আর-৪৫১/১৯, জি আর- ৭৯/২০২৪,জি আর-২০২/২৪, জি আর- ২২২/১৮,সি আর-২০৪/২৩, সি আর-১৪৯০/২১।
তিনি পূর্বেও কয়েকবার গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই প্রভাবশালী আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় তিনি দ্রুত আইনের আওতা থেকে বেরিয়ে এসে পূণরায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আলম বলেন, এঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে আটকও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ফের সংঘর্ষেরও আশংকা করে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের স্মরণে ‎স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ‎

চকরিয়া পৌরসভার গ্রামীণ সড়কের  বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরমে


‎ডেস্ক রিপোর্ট

‎১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূল অঞ্চলে নিহতের স্মরণে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পেকুয়া উপজেলা লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এ স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

‎এ সময় নিহতদের স্মরণে স্মৃতিচারণ করেন, লবণ মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির যুগ্ন আহবায়ক এম আজম উদ্দিন, সদস্য সচিব দেলওয়ার হোসাইন, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক বারবাকিয়া উপশাখার ক্যাশ ইনচার্জ জিল্লুল করিম।

‎নিহতদের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ভোলাইয়াঘোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।

‎এসময় স্থানীয় মুসল্লী ও নানান শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘ম্যারি এন’ লণ্ডভণ্ড করে দেয় দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় পুরো উপকূল। স্মরণকালের ভয়াবহ এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৬ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। মারা যায় ২০ লাখ গবাদি পশু। প্রায় এক কোটি মানুষ তাদের সর্বস্ব হারায়। ক্ষতি হয়েছিল ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।