কক্সবাজারের কুতুবদিয়া চ্যানেল পাড়ি দিলেন ১০ সাঁতারু
কুতুদিয়া চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী যুবকসহ ১০ সদস্যের সাঁতারু। তাদের মধ্যে ১০জনেরই বাংলা চ্যানেল পাড়িসহ বিভিন্ন সাঁতার অভিযানে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা।
বেলা ১১টায় দেশের দক্ষিণ- সীমান্ত পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাটের উত্তর পাশ থেকে এ সাঁতার শুরু করেন। এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় কুতুবদিয়া চ্যানেল সুইমিং উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এসএম নুরুল আকতার নিলয়, বাংলাদেশ ওপেন ওয়াটার সুইমিং (বোয়াস)-এর উপদেষ্টা মোহাম্মদ শিমুল চৌধুরী। এছাড়া উক্ত ইভেন্টটির টাইটেল স্পনসর হিসেবে ছিলেন “পাহাড় থেকে ডট কম”। ১০ জনের মধ্যে ৪ জন পুরো দূরত্ব সফলভাবে সাঁতরাতে পেরেছেন। খরস্রোতা কুতুবদিয়া চ্যানেল জয় করলেন দেশের বিভিন্ন জেলার ১০ জন কৃতি সাঁতারু। তাদের মধ্য সবার আগে টানা একঘন্টা ৪ মিনিট সাঁতার কেটে দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে গন্তব্য স্থান দ্বীপাঞ্চল কুতুবদিয়ার দরবার জেটিতে পৌঁছান ১৮ বছর বয়সী রাব্বি রহমান। প্রথমবারের মতো চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার এটাই তাঁর দ্রুততম সময়। এক ঘন্টা ৬মিনিটে সাঁতার কেটে দ্বিতীয় হন নাজমুল হক।
এ টিমের তৃতীয় সাঁতারু হিসেবে শ্বাসরুদ্ধকর মুহুর্তে এক ঘন্টা ৭ মিনিটে কুতুবদিয়া গিয়ে মাটি ছুঁয়ে নেন এস আই এম ফেরদৌস আলম। সাড়ে ৫ কি: মি: এই চ্যানেলটি পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল এক ঘন্টায়। গণমাধ্যম কর্মীদের এমনটাই জানালেন সাঁতারু কোর্স এস আই এম ফেরদৌস আলম। তিনি আরও বলেন, চ্যানেলের প্রথমে অর্ধেক পাড়ি দেওয়াটা খুব একটা সহজভাবে ছিল। বাকী অংশটা ছিল অনেকটাই কঠিন। কুতুবদিয়া চ্যানেল এ প্রথমে গাইড পাড়ি দিলাম। আসলে এগুলি দুঃসাহসিক অভিযান। আমি এ পর্যন্ত সাতবার বাংলা চ্যানেলে পাড়ি দিয়েছি। আমাদের এই চ্যানেল সুইমিং এর মূল লক্ষ্য হল পানিতে ডুবে মৃত্যু হার কমাতে সচেতনতা তৈরি করা, সুইমিং প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো, পানি দূষণ রোধ করা ও নদী ভিত্তিক পর্যটনকে উৎসাহীত করা।

এদিকে অভিযানকে সার্বিক তদারকি ও সাগর পাড়ি দিতে যেকোন ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাংলাদেশ ওপেন ওয়াটার সুইমিং এর পক্ষ থেকে কুতুবদিয়া চ্যানেলে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। ইঞ্জিন চালিত ৪টি বোট এ সাঁতার অভিযানে সার্বক্ষণিক পর্যবক্ষণে নিয়োজিত ছিল। বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মী, দক্ষ স্কাউট টিমও এ অভিযানকে সহায়তা করতে কুতুবদিয়া চ্যানেলে অবস্থান সুসংহত করে।
১০ জনের মধ্যে সাঁতার অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ফাহিম আহমেদ খান, নাছির আহমেদ, খন্দকার শওকত ওসমান, মোঃ নাজমুল হক, এস আই এম ফেরদৌস আলম, আব্দুল্লাহ আল সাবিত, রাব্বি রহমান, মোঃ মোজ্জিম হোসেন, মোহামদ তাইএয়ার ও মোঃ আল আমিন।
বোয়াপের সমন্বয় নাসির উদ্দিন আহমদ সৌরভ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাঁতারু টীমের একটি প্রশিক্ষিত গাইড ও সেইফটি টীম ছাড়া কারো অংশ গ্রহনে বিধান না থাকলেও চরম ঝুঁকি পূর্ণ অভিযানে স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়ে তাদের অজান্তেই ঢুকে পড়ায় শংকিত হয়ে পড়েছেন। এরপরও প্রবল স্রোতের বিপরীতে সফল চ্যানেল পাড়ি দেয়া স্বস্তির।
প্রধান অতিথি এএসএম নুরুল আকতার নিলয় বলেন, সাতার একটি লাইফ স্টাইল হলেও উন্নত দেশের মত আমাদের দেশে সাঁতার শিখানোর কোন ব্যবস্থা নেই। প্রান্তিক পর্যায়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতা সত্যিই প্রসংশনীয়।














