| ২৪ জুন ২০২৬

পেকুয়ার রাজাখালীতে ৪০ দুস্থ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিল এলজি বাংলাদেশ

পেকুয়ার রাজাখালীতে ৪০ দুস্থ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিল এলজি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালীতে ৪০ জন দুস্থ ও অসহায় নারীকে প্রশিক্ষণোত্তর সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে এলজি বাংলাদেশ। “রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগার” ও “সামাজিক বিপ্লব” নামক দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই মানবিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

২৭ আগস্ট, বুধবার দুপুর ১২টায় রাজাখালী ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেলাই মেশিনগুলো উপকার ভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এলজি এম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ ২০২৫-এর আওতায় জাতীয় উন্মুক্ত পাঠাগারের গ্রন্থাগার সম্পাদক আরফাতুল ইসলাম চলতি বছর এম্বাসেডর নির্বাচিত হলে তারই পরিকল্পনায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলজি বাংলাদেশের অ্যাকাউন্ট ও ট্যাক্স বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক রেহান উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন “সামাজিক বিপ্লব”-এর উপদেষ্ঠা মুহাম্মদ আলী জাফর সাদেক।

স্বাগত বক্তব্যে রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগারের সভাপতি ম. ফ. ম. জাহিদু ইসলাম বলেন,“এই সেলাই মেশিনগুলো সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এলজি বাংলাদেশের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। আমরা চাই এই নারীরা যেন স্বাবলম্বী হয়ে তাদের পরিবারে অর্থনৈতিক স্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন,
“রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগার ও সামাজিক বিপ্লবের এ যাত্রা এখানেই থেমে থাকবে না। আমরা বিশ্বাস করি, এই ৪০ জন নারীর সাফল্য আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করবে।
ভবিষ্যতেও সমাজের প্রতিটি প্রান্তে শিক্ষার আলো ও স্বনির্ভরতার বার্তা পৌঁছে দিতে আমরা এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, পেকুয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন,ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৈয়দুল আলম,প্রথম আলোর চকরিয়া প্রতিনিধি এস. এম. হানিফ,পেকুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আনসারী,
ফৈজুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছরওয়ার আলম,পেকুয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. দিদারুল করিম,রাজাখালী সিপিপি টিম লিডার মোহাম্মদ কবির আজাদ।
বক্তারা বলেন, উন্মুক্ত পাঠাগার ও সামাজিক বিপ্লবের এ উদ্যোগ প্রান্তিক অর্থনীতিকে স্ববল করে পারিবারিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। এধরণের জনহিতৈষী কাজে সবাইকে এগিয়ে আসলে সামাজিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
বক্তারা আরো বলেন, রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগার ও সামাজিক বিপ্লবের বিভিন্ন স্তরের সদস্যবৃন্দের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাই প্রমান করে সামনে আরো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমাজহিতৈষীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এ প্রসঙ্গে এলজি এম্বাসেডর আরফাতুল ইসলাম বলেন,“এলজি বাংলাদেশের সহযোগিতায় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত। সারা দেশ থেকে নির্বাচিত পাঁচজন এম্বাসেডরের একজন হতে পারাও আমার জন্য একটি বড় অর্জন। ভবিষ্যতে আরও ভালো প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রত্যয় নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

৬ মাস যাবত ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই নারী!

পেকুয়ায় ভুয়া ডিজিএফআই পরিচয়দানকারী নারী আটক

পেকুয়ার রাজাখালীতে ৪০ দুস্থ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিল এলজি বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় নিজেকে ডিজিএফআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই নারীকে আটক করে পেকুয়া থানা পুলিশ। আটককৃত নারীর নাম হাছিনা আক্তার। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের গাছবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আবুল হাসেম ও বুলু আরার মেয়ে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাছিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে মগনামা এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী ও পরিষদের সকল সদস্য সচিবকে ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। দুজন ইউপি সদস্যকে ৫ মিনিটের ভিতর তার বাসায় গিয়ে দেখা করা চাল বিতরণের সময় বিভিন্ন অযুহাত দাড় করিয়ে চাল হাতিয়ে নেয়া বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যক্তিগত দূর্বলতা খুঁজে হয়রানি করা অভিযোগ রয়েছে ওই নারীর বিরুদ্ধে।
ওই নারী চন্দনাইশ থেকে পেকুয়ার মগনামা লঞ্চ ঘাটের পাশে রিদুয়ান নামক এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় ৬ মাস পূর্ব থেকে দুটি বাচ্চা সহ বসবাস করে আসছেন। তার স্বামী সেনা কর্মকর্তা দুবাই মিশনে আছেন তিনি এখানে ডিজিএফআইয়ের দায়িত্বে আছেন এমন পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, ওই নারীর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে ওই নারী ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছেন বলে নিশ্চিত হন তিনি। পরে মঙ্গলবার রাতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে আটক করে পেকুয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অধিকাংশ ইউপি সদস্যদের এই নারী কোনো এক দূরভী মিশন বাস্তবায়নের হীন প্রচেষ্টারত ছিলেন কিনা খতিয়ে দেখা দরকার। তাকে দিয়ে এখানে কোন দূষ্ঠ চক্র খেলছে কিনা তাও তদন্ত করার প্রয়োজন আছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “নিজেকে ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়দানকারী এক নারীকে মগনামা থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পোকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি

পেকুয়ার রাজাখালীতে ৪০ দুস্থ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিল এলজি বাংলাদেশ

মনিরুল আমিন.চকরিয়া

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের পোকখালী রেড ক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ২ টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের তালা ভেঙে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান শিক্ষা উপকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন জানান,চোরেরা শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ,প্রজেক্টর, সিসিটিভি ক্যামেরা,ইন্টারনেট রাউটার,ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার সরঞ্জামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে। আজ সকালে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে এসে তিনি দেখতে পান চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ চুরির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক বলেন,এ বিষয়ে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান,একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এতে শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়নি,বরং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পেকুয়ার রাজাখালীতে ৪০ দুস্থ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিল এলজি বাংলাদেশ

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।