প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫ । ৫:২০ পিএম প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

পেকুয়ার রাজাখালীতে ৪০ দুস্থ নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিল এলজি বাংলাদেশ

এইচএম শহিদ.

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালীতে ৪০ জন দুস্থ ও অসহায় নারীকে প্রশিক্ষণোত্তর সেলাই মেশিন বিতরণ করেছে এলজি বাংলাদেশ। “রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগার” ও “সামাজিক বিপ্লব” নামক দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই মানবিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

২৭ আগস্ট, বুধবার দুপুর ১২টায় রাজাখালী ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেলাই মেশিনগুলো উপকার ভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।

এলজি এম্বাসেডর চ্যালেঞ্জ ২০২৫-এর আওতায় জাতীয় উন্মুক্ত পাঠাগারের গ্রন্থাগার সম্পাদক আরফাতুল ইসলাম চলতি বছর এম্বাসেডর নির্বাচিত হলে তারই পরিকল্পনায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলজি বাংলাদেশের অ্যাকাউন্ট ও ট্যাক্স বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক রেহান উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন “সামাজিক বিপ্লব”-এর উপদেষ্ঠা মুহাম্মদ আলী জাফর সাদেক।

স্বাগত বক্তব্যে রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগারের সভাপতি ম. ফ. ম. জাহিদু ইসলাম বলেন,“এই সেলাই মেশিনগুলো সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এলজি বাংলাদেশের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। আমরা চাই এই নারীরা যেন স্বাবলম্বী হয়ে তাদের পরিবারে অর্থনৈতিক স্থিতি ফিরিয়ে আনতে পারেন।”

তিনি আরও বলেন,
“রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগার ও সামাজিক বিপ্লবের এ যাত্রা এখানেই থেমে থাকবে না। আমরা বিশ্বাস করি, এই ৪০ জন নারীর সাফল্য আরও অনেককে অনুপ্রাণিত করবে।
ভবিষ্যতেও সমাজের প্রতিটি প্রান্তে শিক্ষার আলো ও স্বনির্ভরতার বার্তা পৌঁছে দিতে আমরা এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, পেকুয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন,ফৈজুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৈয়দুল আলম,প্রথম আলোর চকরিয়া প্রতিনিধি এস. এম. হানিফ,পেকুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আনসারী,
ফৈজুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছরওয়ার আলম,পেকুয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. দিদারুল করিম,রাজাখালী সিপিপি টিম লিডার মোহাম্মদ কবির আজাদ।
বক্তারা বলেন, উন্মুক্ত পাঠাগার ও সামাজিক বিপ্লবের এ উদ্যোগ প্রান্তিক অর্থনীতিকে স্ববল করে পারিবারিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। এধরণের জনহিতৈষী কাজে সবাইকে এগিয়ে আসলে সামাজিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
বক্তারা আরো বলেন, রাজাখালী উন্মুক্ত পাঠাগার ও সামাজিক বিপ্লবের বিভিন্ন স্তরের সদস্যবৃন্দের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাই প্রমান করে সামনে আরো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সমাজহিতৈষীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এ প্রসঙ্গে এলজি এম্বাসেডর আরফাতুল ইসলাম বলেন,“এলজি বাংলাদেশের সহযোগিতায় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত। সারা দেশ থেকে নির্বাচিত পাঁচজন এম্বাসেডরের একজন হতে পারাও আমার জন্য একটি বড় অর্জন। ভবিষ্যতে আরও ভালো প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রত্যয় নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

প্রিন্ট করুন