পাহাড়-সমুদ্র ও সমতল বেষ্টিত মনোমুগ্ধকর পেকুয়া
বাহার উদ্দিন.
কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়া যেন প্রকৃতির এক অপৃর্ব উপহার। মহান সৃষ্টিকর্তা তার রহমতের ভান্ডার থেকে দুহাতে দিয়েছেন পেকুয়ায়। তৎকালীন বৃহত্তর চকরিয়া উপজেলা থেকে ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় পেকুয়া উপজেলা। ২০০২ সালের ২৩ এপ্রিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ চকরিয়া উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন থেকে ৭টি ইউনিয়ন ও ১৩৯.৬৮ বর্গ কিলোমিটারের আয়তন নিয়ে পেকুয়া উপজেলার কার্যক্রম শুরু করেন, ঐ দিনেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করেন। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বারবাকিয়া,টইটং,শিলখালীতে পাহাড় ও রাজাখালী,মগনামা,উজানটিয়া জুঁড়েই সমুদ্র উপকূল। অন্যদিকে পেকুয়া সদরে চলে প্রশাসনিক কার্যক্রম। সেই সময় থেকে ১১টি মৌজায় উপজেলায় ভূমি সেবা শুরু হয়। একদিকে সবুজ পাহাড় অন্যদিকে উত্তাল বঙ্গোপসাগরেরে ঢেউ-এই বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতির কারণে পেকুয়া আলাদা সৌন্দর্যে সমৃদ্ব। বান্দরবানের আলীকদম পাহাড় থেকে সৃষ্ট মাতামুহুরী নদী পেকুয়া দিয়ে বয়ে গেছে,যা কৃষি ,মৎস্য ও মানুষের জীবিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীর দু’পাড়ে বিস্তৃত ধানক্ষেত, সদরের মেহেরেনামা,টইটং,বারবাকিয়া, শিলখালী ইউনিয়নে শাকসবজি ও নানা ফলের বাগান পেকুয়াকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। উপকূলীয় এই অঞ্চল লবণ,চিংড়ি ও কাঁকাড়া উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। সমুদ্রেরে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করে এখানে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে লবণ উৎপাদন করা হয়, যা স্থানীয় ও দেশর অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেকুয়া সমুদ্র উপকূল হওয়ায় গভীর সমুদ্রে জেলেরা প্রচুর পরিমাণে মাছ আহরণ করে ,এবং দেশের বাজারে সামুদ্রিক মাছের বেশ চাহিদা রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের মানুষেরে আমিষের চাহিদাও মিটিয়ে যায়। উপজেলার পাশ দিয়ে কহলখালী খাল, ভোলা খাল, রূপায় খাল এই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে।
তিন ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা জুঁড়ে বাণিজ্যিক ভাবে বাঁশ, বেত, দেশিয় মাল্টা, বরই, আম, কাঠাল, কলা, লিচুসহ মৌসুমী সবজির চাষ শুরু হয়েছে যা দেশিয় অর্থনীতিতে অবদান রেখে যাচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্পদের পাশাপাশি ঝুকিও কম নয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিলখালী,বারবাকিয়া ও টইটং পাহাড়ি এলাকায় অতি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধস সেই সাথে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি নষ্ট হয়ে বন্যা দেখা দেয়। অপর দিকে সমুদ্র উপকূলীয় ইউনিয়ন উজানটিয়া,মগনামা ও রাজাখালীর অতি ঝুকিপূর্ণ অরক্ষিত বেড়িবাঁধ। এই ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ একপ্রকারের গলার কাটা। সেই সাথে জলোচ্ছাস,ঘূর্ণিঝড় ও নদী ভাঙন পেকুয়া মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও পাহাড় সমুদ্র বেষ্টিত এই জনপদে মানুষ লড়াই করে বাঁচেন, গড়ে তোলেন জীবন ও জীবিকার নতুন দিগন্ত। ঝুকি ও হতাশার মাঝে পেকুয়া উপকূলের মানুষের বিনোদনের দর্শনীয় অনেক স্থান রয়েছে । সন্ধাকালীন সময়ে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে মগনামা ঘাট, সাবমেরিন কেন্দ্র,গ্রীন পার্ক, উপজেলা শহীদ মিনার,টইটং বনকানন ,বারবাকিয়া রেঞ্জ অফিস, রাজাখালী বকশিয়া ঘোনা সানসেট পয়েন্ট, শিলখালী জারুলবনিয়া,বারবাকিয়া রাখাইন পাড়া,উজানটিয়া করিমদাদ মিয়ার ঘাট। সব মিলিয়ে এক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই পেকুয়া।














