| ২৯ মে ২০২৬

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

ঢাকা (২৭ মে, ২০২৬ খ্রি.):

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে নিজ নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন সহ সমগ্র দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

শুভেচ্ছা বার্তায় মন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা আমাদের ত্যাগ, সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুমহান শিক্ষা দেয়। একইসঙ্গে ব্যক্তিজীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের প্রেরণা জোগায়। তিনি বলেন, ঈদের আনন্দ তখনই পরিপূর্ণতা লাভ করে যখন সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সেই আনন্দে সমভাবে অংশ নিতে পারে। পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে তিনি বিত্তশালী ও সামর্থ্যবানদের প্রতি সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নিরাপদ, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনে প্রশাসন, পুলিশ সহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে কোরবানি সম্পন্ন করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আরো বলেন, শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শিক্ষা আমাদের সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ। তিনি দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেন এবং সবাই যেন নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারে- সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

চলছিল টার্গেট ডাকাতি

চকরিয়ায় পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ ৫ ডাকাত গ্রেপ্তার

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক চকরিয়া
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ সংঘবদ্ধ স্বশস্ত্র পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ।

সোমবার (২৫ মে) রাত সাড়ে ৭টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা এলাকার চকরিয়া-বেতুয়া বাজার সড়কের আমান্যার চর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আইয়ুব আলী (৪২), ইব্রাহিম সোহেল (২৭), আবু হানিফ (২৯), সাইফুল ইসলাম (২০) ও নাজিম উদ্দিন (৪৮)।

মঙ্গলবার বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে পুলিশি অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, একটি কোড়াবাড়ি, একটি লোহার খন্তি, একটি ধারালো ছোরা ও একটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।

তিনি গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে- আমান্যার চর ব্রিজ এলাকায় একদল ডাকাত সংঘবদ্ধ হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে সেখানে অভিযান চালানো হলে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ধাওয়া দিয়ে একটি সিএনজিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের টার্গেট করে ডাকাতি করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি মো. মনির হোসেন।

তিনি অবগত করেন, “চকরিয়া থানা এলাকায় ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।”

পেকুয়ায় বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ায় বজ্রপাতে রাকিবা জান্নাত মুন্নি (১৯) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের টেক পড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুন্নি টেকপাড়া গ্রামের সাদেক হোসেনের স্ত্রী। এক বছর আগে সাদেক হোসেনের সাথে বিয়ে হয় মুন্নির।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন মুন্নি। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে উজানটিয়া ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার শরিফ উদ্দিন বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যূর ঘটনায় পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

ঈদ ঘনিয়ে আসতেই ব্যস্ততা তুঙ্গে,দিন-রাত একাকার কামার শিল্পীদের

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

মনিরুল আমিন.চকরিয়া

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ। কুরবানির ঈদ মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব। সে সুবাদে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার কামার শিল্পীরা।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের তাপ,হাতুড়ির শব্দ আর লোহা পেটানোর আওয়াজে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কামারশালা।

গরু,ছাগল,মহিষ,উট কোরবানির পশু হিসেবে জবাই করা হয়। ঈদের দিন সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত কুরবানির পশু জবাই হয়। এসব পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রয়োজনীয় দা,ছুরি,চাপাতি,বঁটি ও হাঁসুয়া তৈরিতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই কামার শিল্পীদের।দিন যতই যাচ্ছে,ততই বাড়ছে কামার শিল্পীদের ব্যস্ততা।

সরেজমিনে দেখা যায়,চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বাজারের প্রতিটি কামারশালায় চলছে ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। কোথাও পুরোনো দা-ছুরিতে শান দেওয়া হচ্ছে,কোথাও আবার তৈরি হচ্ছে নতুন চাপাতি। কয়লার চুলার দগদগে আগুনে লোহা গরম করে দক্ষ হাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কোরবানির সরঞ্জাম। কেউ হাঁপর টানছেন,কেউ আগুনে লোহা পুড়িয়ে নিচ্ছেন,আবার কেউ নিখুঁতভাবে ধার দিচ্ছেন পুরোনো অস্ত্রপাতিতে। দম ফেলারও যেন সময় নেই তাদের। নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করছেন শিল্পীরা।

কামার শিল্পীরা জানান,সারা বছর কাজের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের কর্মব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-ছুরিতে শান দিতে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে প্রতিদিন।

কামার শিল্পী রিপন কর্মকার জানান,একটি ভালো মানের ছুরি তৈরি করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। প্রথমে লোহা আগুনে গরম করে পানিতে ঠান্ডা করা হয়। এরপর হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত আকার দেওয়া হয়। পরে ঘষামাজা ও বিশেষ প্রক্রিয়ায় ধারালো করে প্রস্তুত করা হয় দা কিংবা ছুরি।

তিনি বলেন,বছরের এই সময়টাই আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। কোরবানির ঈদ এলেই একটু বেশি আয় হয়। তখন পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে চলতে পারি।

এদিকে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন সরঞ্জামের দামও বেড়েছে। ফলে অনেকেই নতুন দা বা ছুরি না কিনে পুরোনো সরঞ্জাম মেরামত করাতে আগ্রহী হচ্ছেন।

কামারের দোকানে চাপাতি বানাতে আসা এমরান সালেহ বলেন,আর কয়দিন পর কোরবানি ঈদ। তাই চাপাতি বানাতে কামারের দোকানে আসছি। আগে যে চাপাতি কিনতাম ৪১০ থেকে ৫৪০ টাকা। সেই চাপাতি এখন নিজে লোহা দিয়ে বানিয়ে নিলাম ৭০০ টাকা করে।

কামারের দোকানে আসা গোলাম কাদের বলেন,গত বছরের তুলনায় এবার সবকিছুর দাম অনেক বেশি। তাই নতুন দা না কিনে পুরোনো দাটাই মেরামত করিয়েছি। সংসারের বাড়তি খরচ সামলাতে নতুন সরঞ্জাম কেনা এখন কঠিন।

চিরিংগা ওয়াপদা রোডের কামার শিল্পী সুভাষ কর্মকার জানান,বর্তমানে বিভিন্ন ওজনের চাপাতি প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংস কাটার চাকু প্রকারভেদে ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, ছোট,বড় ও মাঝারি ধরনের হাঁসুয়া ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাকা লোহার বঁটি ৬৫০ টাকা এবং কাঁচা লোহার বঁটি ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

ঈদকে ঘিরে কামার শিল্পীদের এই কর্মচাঞ্চল্য শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের গল্প নয়,বরং গ্রামীণ ঐতিহ্য,শ্রম আর জীবনসংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আগুন,ঘাম আর হাতুড়ির শব্দে তৈরি হচ্ছে কোরবানির প্রস্তুতি,আর সেই শ্রমেই প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ঈদের আমেজ।