| ২৭ মে ২০২৬

পেকুয়ায় ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব, খোলা আকাশের নিচে ৪ পরিবার

পেকুয়ায় ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব, খোলা আকাশের নিচে ৪ পরিবার
  • বাহার উদ্দিন.

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টিতে অন্তত চারটি বসতঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের মালেকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপনের আশঙ্কায় পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় তীব্র ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি। ঝড়ের তীব্রতায় কয়েকটি বসতঘরের টিনের চাল উড়ে যায় এবং ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। এতে অন্তত চারটি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, উজানটিয়া ইউনিয়নের মালেক পাড়া এলাকার কবির আহমদের পুত্র আব্দু শুক্কর, হাসান, আসহাব মিয়ার পুত্র আজমগীর বাদশা, দলিল আহমদের পুত্র রহমত আলী।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কয়েকজন জানান, ঝড় শুরু হওয়ার পরপরই ঘরের চাল কাঁপতে থাকে। একপর্যায়ে প্রবল বাতাসে পুরো চাল উড়ে গিয়ে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক মিনিটের ঝড়েই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঝড়ের সময় অনেক গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং কয়েকটি এলাকায় চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ হোসেন টিটু বলেন,
হঠাৎ হওয়া ঝড় ও বজ্রবৃষ্টিতে কয়েকটি পরিবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেকের ঘরের চাল উড়ে গেছে এবং ঘরের ভেতরের মালামাল নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো খুবই জরুরি। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।

চলছিল টার্গেট ডাকাতি

চকরিয়ায় পুলিশের অভিযানে অস্ত্রসহ ৫ ডাকাত গ্রেপ্তার

পেকুয়ায় ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব, খোলা আকাশের নিচে ৪ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক চকরিয়া
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ সংঘবদ্ধ স্বশস্ত্র পাঁচ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে চকরিয়া থানা পুলিশ।

সোমবার (২৫ মে) রাত সাড়ে ৭টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা এলাকার চকরিয়া-বেতুয়া বাজার সড়কের আমান্যার চর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আইয়ুব আলী (৪২), ইব্রাহিম সোহেল (২৭), আবু হানিফ (২৯), সাইফুল ইসলাম (২০) ও নাজিম উদ্দিন (৪৮)।

মঙ্গলবার বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে পুলিশি অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, একটি কোড়াবাড়ি, একটি লোহার খন্তি, একটি ধারালো ছোরা ও একটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।

তিনি গোপন তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে- আমান্যার চর ব্রিজ এলাকায় একদল ডাকাত সংঘবদ্ধ হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরে সেখানে অভিযান চালানো হলে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ধাওয়া দিয়ে একটি সিএনজিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের টার্গেট করে ডাকাতি করে আসছিল বলে স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি মো. মনির হোসেন।

তিনি অবগত করেন, “চকরিয়া থানা এলাকায় ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কক্সবাজার জেলা পুলিশ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে।”

পেকুয়ায় বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু

পেকুয়ায় ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব, খোলা আকাশের নিচে ৪ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ায় বজ্রপাতে রাকিবা জান্নাত মুন্নি (১৯) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের টেক পড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুন্নি টেকপাড়া গ্রামের সাদেক হোসেনের স্ত্রী। এক বছর আগে সাদেক হোসেনের সাথে বিয়ে হয় মুন্নির।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজ বাড়ির রান্নাঘরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত ছিলেন মুন্নি। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে উজানটিয়া ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার শরিফ উদ্দিন বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যূর ঘটনায় পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

ঈদ ঘনিয়ে আসতেই ব্যস্ততা তুঙ্গে,দিন-রাত একাকার কামার শিল্পীদের

পেকুয়ায় ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব, খোলা আকাশের নিচে ৪ পরিবার

 

মনিরুল আমিন.চকরিয়া

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ। কুরবানির ঈদ মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব। সে সুবাদে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার কামার শিল্পীরা।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আগুনের তাপ,হাতুড়ির শব্দ আর লোহা পেটানোর আওয়াজে মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কামারশালা।

গরু,ছাগল,মহিষ,উট কোরবানির পশু হিসেবে জবাই করা হয়। ঈদের দিন সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত কুরবানির পশু জবাই হয়। এসব পশু জবাই ও মাংস কাটার প্রয়োজনীয় দা,ছুরি,চাপাতি,বঁটি ও হাঁসুয়া তৈরিতে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই কামার শিল্পীদের।দিন যতই যাচ্ছে,ততই বাড়ছে কামার শিল্পীদের ব্যস্ততা।

সরেজমিনে দেখা যায়,চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা বাজারের প্রতিটি কামারশালায় চলছে ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। কোথাও পুরোনো দা-ছুরিতে শান দেওয়া হচ্ছে,কোথাও আবার তৈরি হচ্ছে নতুন চাপাতি। কয়লার চুলার দগদগে আগুনে লোহা গরম করে দক্ষ হাতে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের কোরবানির সরঞ্জাম। কেউ হাঁপর টানছেন,কেউ আগুনে লোহা পুড়িয়ে নিচ্ছেন,আবার কেউ নিখুঁতভাবে ধার দিচ্ছেন পুরোনো অস্ত্রপাতিতে। দম ফেলারও যেন সময় নেই তাদের। নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করছেন শিল্পীরা।

কামার শিল্পীরা জানান,সারা বছর কাজের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের কর্মব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরোনো দা-ছুরিতে শান দিতে ক্রেতাদের ভিড়ও বাড়ছে প্রতিদিন।

কামার শিল্পী রিপন কর্মকার জানান,একটি ভালো মানের ছুরি তৈরি করতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। প্রথমে লোহা আগুনে গরম করে পানিতে ঠান্ডা করা হয়। এরপর হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে কাঙ্ক্ষিত আকার দেওয়া হয়। পরে ঘষামাজা ও বিশেষ প্রক্রিয়ায় ধারালো করে প্রস্তুত করা হয় দা কিংবা ছুরি।

তিনি বলেন,বছরের এই সময়টাই আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। সারা বছর তেমন কাজ থাকে না। কোরবানির ঈদ এলেই একটু বেশি আয় হয়। তখন পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে চলতে পারি।

এদিকে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন সরঞ্জামের দামও বেড়েছে। ফলে অনেকেই নতুন দা বা ছুরি না কিনে পুরোনো সরঞ্জাম মেরামত করাতে আগ্রহী হচ্ছেন।

কামারের দোকানে চাপাতি বানাতে আসা এমরান সালেহ বলেন,আর কয়দিন পর কোরবানি ঈদ। তাই চাপাতি বানাতে কামারের দোকানে আসছি। আগে যে চাপাতি কিনতাম ৪১০ থেকে ৫৪০ টাকা। সেই চাপাতি এখন নিজে লোহা দিয়ে বানিয়ে নিলাম ৭০০ টাকা করে।

কামারের দোকানে আসা গোলাম কাদের বলেন,গত বছরের তুলনায় এবার সবকিছুর দাম অনেক বেশি। তাই নতুন দা না কিনে পুরোনো দাটাই মেরামত করিয়েছি। সংসারের বাড়তি খরচ সামলাতে নতুন সরঞ্জাম কেনা এখন কঠিন।

চিরিংগা ওয়াপদা রোডের কামার শিল্পী সুভাষ কর্মকার জানান,বর্তমানে বিভিন্ন ওজনের চাপাতি প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংস কাটার চাকু প্রকারভেদে ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, ছোট,বড় ও মাঝারি ধরনের হাঁসুয়া ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাকা লোহার বঁটি ৬৫০ টাকা এবং কাঁচা লোহার বঁটি ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

ঈদকে ঘিরে কামার শিল্পীদের এই কর্মচাঞ্চল্য শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের গল্প নয়,বরং গ্রামীণ ঐতিহ্য,শ্রম আর জীবনসংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আগুন,ঘাম আর হাতুড়ির শব্দে তৈরি হচ্ছে কোরবানির প্রস্তুতি,আর সেই শ্রমেই প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ঈদের আমেজ।