| ৮ এপ্রিল ২০২৬

রেলপথ নির্মাণে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি: তমা কনস্ট্রাকশন কর্তৃক প্রতিশ্রুত বিকল্প সড়কের দাবিতে মানববন্ধন

রেলপথ নির্মাণে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি: তমা কনস্ট্রাকশন কর্তৃক প্রতিশ্রুত বিকল্প সড়কের দাবিতে মানববন্ধন

 

মনিরুল আমিন.চকরিয়া

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের প্রতারণার কারণে চকরিয়ার সাহারবিল রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী দুইটি গ্রামের ৫ শতাধিক পরিবার যোগাযোগের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে কয়েকশ’ নারী-পুরুষ মানববন্ধন করে অবিলম্বে প্রতিশ্রুত রাস্তা নির্মাণের আবেদন জানিয়েছেন।

অভিযোগে প্রকাশ,২০১৯ সালে এই রেলপথ নির্মাণের সময় রেলওয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কয়েকজন কর্মকর্তা পার্শ্ববর্তী রেললাইনের আন্ডারপাস সংযোগ করে প্রায় ৩ শত মিটার চলাচল সড়ক তৈরি করে দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

মানববন্ধনে বিএনপি নেতা জায়েদুল ইসলাম বলেন,তমা কনস্ট্রাকশন এর প্রজেক্ট ম্যানেজার কথা দিয়েছিলেন পার্শ্ববর্তী সড়কের সাথে একটি সংযোগ সড়ক ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। কথা মতো একটি নকশাও তৈরি করে আমাদের দেখিয়েছিলেন। প্রতিশ্রুতি মতো একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও এখনো সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি।

এ বিষটি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবগত আছেন।

পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন,তমা কনস্ট্রাকশন এর লোকজন চলাচল সড়ক তৈরি না করে, রেলওয়ের জায়গা স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে ইজারা দিয়ে সেখানে ভাড়া ঘর ও মাছ চাষ করছে।

মানববন্ধনে এলাকাবাসী’র পক্ষে কলেজ ছাত্র দিদারুল ইসলাম বলেন,এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শতশত মানুষ, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থী,গরু-ছাগলসহ ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে কাঁদা যুক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষাকালে কোমর পর্যন্ত পানি জমে থাকে এই রাস্তায়।

তিনি আরও বলেন,তমা কনস্ট্রাকশনের ইঞ্জিনিয়ারের নকশা অনুযায়ী চলাচল সড়কের উপর রেললাইন নির্মাণ কাজের জন্য একটি অস্থায়ী নির্মাণ শেড তৈরি করা হয়েছিল। কাজ শেষ হলে ক্যাম্পটি ভেঙে ফেলার শর্তে ইজারা দেন এলাকার কয়েকজন ব্যক্তিকে। রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হলেও অদ্যবদি অস্থায়ী শেডটি ভাঙা হয়নি। এ জন্যে বিকল্প সড়কটি নির্মাণ করা যাচ্ছে না। দখলবাজদের উচ্ছেদ করে বিকল্প সড়কটি নির্মাণে রেলওয়ে সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

 

 

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রে চিকিৎসা না পেয়ে রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যূ অভিযোগ

রেলপথ নির্মাণে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি: তমা কনস্ট্রাকশন কর্তৃক প্রতিশ্রুত বিকল্প সড়কের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনে মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র (জিকে)-এর বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলায় এক রোহিঙ্গা নারীর মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে এবার এক রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, যা ক্যাম্পজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) অসুস্থ্য সুমাইয়া আক্তারকে নিয়ে তার বাবা মোহাম্মদ সেলিম গণস্বাস্থ্য পরিচালিত হাসপাতালে যান। সেখানে প্রথমেই গেটের নিরাপত্তাকর্মী তাদের প্রবেশে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অনেক অনুরোধের পর হাসপাতালে ঢুকতে পারলেও তাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রোগীকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও চিকিৎসা না পাওয়ায় সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই অচেতন হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি গুরুতর দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে নিকটবর্তী এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সুমাইয়ার মৃত্যু হয়—একটি মৃত্যু, যা এখন প্রশ্ন তুলছে মানবিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা নিয়ে।

অভিযোগের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল, তবে তারা চিকিৎসককে না জানিয়েই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ফলে তাদের পক্ষে আর কিছু করার ছিল না।

তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও অন্যান্য উপকারভোগীরা এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় অবহেলার কারণেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে এবং বাধ্য হয়েই তারা অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

উল্লেখ্য, এর আগেও একই হাসপাতালে আলিশা নামের ১০ মাস বয়সী এক শিশুর জরুরি চিকিৎসার জন্য গেলে তাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।পরে অন্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেয় তারাও।এছাড়া ডিউটি চিকিৎসক শিমুলের বিরুদ্ধে উপকারভোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি রোগীদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব বিষয়ে তারা ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনের সিআইসি অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া পাননি।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার এবং ক্যাম্পবাসীদের দাবি, এমন অমানবিক আচরণকারী চিকিৎসকদের দ্রুত অপসারণ করে মানবিক ও দায়িত্বশীল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তারা চান, ভবিষ্যতে যেন কোনো মা-বাবাকে চিকিৎসার অভাবে সন্তানের প্রাণ হারানোর বেদনা সহ্য করতে না হয়।

মানবিক সংকটে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা শুধু একটি সেবা নয়, বরং বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। সেই ভরসা যদি বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়—বরং একটি বড় মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।

মহেশখালীতে বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় জরিমানা

রেলপথ নির্মাণে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি: তমা কনস্ট্রাকশন কর্তৃক প্রতিশ্রুত বিকল্প সড়কের দাবিতে মানববন্ধন

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে মহেশখালী উপজেলার গোরাকঘাটা বাজার ও বড় মহেশখালী নতুন বাজারে বাজার মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর থেকে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন মহেশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু জাফর মজুমদার। এসময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে অবৈধভাবে তেল মজুদ রয়েছে কিনা তা তদারকি করা হয়।
অভিযানকালে ফুটপাত দখল, দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয়ের অভিযোগে ১ (এক) ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫১ ধারায় ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এ অভিযানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বার্থে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চকরিয়ায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে প্রবাসীর জমি জবরদখলের অভিযোগ

রেলপথ নির্মাণে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি: তমা কনস্ট্রাকশন কর্তৃক প্রতিশ্রুত বিকল্প সড়কের দাবিতে মানববন্ধন

 

মনিরুল আমিন চকরিয়া

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভায় এক প্রবাসীর ক্রয়সুত্রে মালিকানাধীন জমি জবরদখল ও ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) সকালে চকরিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড বিনামারা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলা উদ্দিন বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কাহারিয়া ঘোনার বাসিন্দা আলা উদ্দিন ও তার অংশীদাররা ভরামুহুরী মৌজার বিএস ২৫৭নং খতিয়ানের ৭৫৮ দাগের ৬ শতক জমি খরিদা সূত্রে মালিক হয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু গত শনিবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে একই এলাকার মো. আনাছ (৩৫), মিজানুর রহমান (৪০), তৌহিদ (৩০) ও শহিদুল ইসলামসহ (২২) অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে উক্ত জমিতে অতর্কিত প্রবেশ করে। তারা গায়ের জোরে জমিতে পাকা বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ শুরু করে।
জমির মালিক পক্ষ বাধা দিলে বিবাদী ও তাদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মালিক পক্ষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং দেশীয় অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমনকি বাধা দিলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনেরও হুমকি দেয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন, কারণ বিবাদী পক্ষ তাদের জবরদখল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
এ ঘটনায় জমি মালিক পক্ষ রবিবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী আবদুল আজিজ, বলেন, ‘স্থানীয় আলা উদ্দিন, রিদুয়ান, হুমায়ুন, রাজু, কাজল, মুছা, আবুল কালাম, সাইফুল, সেলিম, জহির, বাপ্পি, সুমন, আমান, রেজাউল, ফরিদ, আবদুল করিমসহ ১২ জনের মালিকানাধীন ৬ শতক জমি আমি ক্রয় করে ২০২৪ সাল থেকে ভোগদখলে আছি। আমার মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে অবস্থান করে বাউন্ডারি নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’, যার ফলে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুনরায় বাধা দিতে গেলে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান,বিনামারা এলাকায় জবরদখল সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।