ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় স্থাপন
মহাসমারোহে শুরু কুতুবদিয়ায় মালেক শাহ হুজুরের বার্ষিক ওরশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় প্রখ্যাত সূফী সাধক
শাহ আব্দুল মালেক আল কুতুবী’র ২৬তম বার্ষিক ফাতিহা ও ওরশ শরীফ (২৯ ও ৩০জানুয়ারী ২৬ইং) দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের মূল আনুষ্ঠানিকতা মহাসমারোহে শুরু হয়েছে। আধ্যাত্মিক এই মিলনমেলায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো ভক্ত-আশেকানরা আসতে শুরু করেছে দরবারে।

প্রধান দিবস (৩০ জানুয়ারি ২৬)শুক্রবার আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে ওরশের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, শৃঙ্খলা, কল্যাণ ও মুক্তি কামনা করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে মোনাজাত পরিচালনা করবেন কুতুব শরীফ দরবারের সাজ্জাদানশীন হযরত মওলানা শাহাজাদা শেখ ফরিদ (ম.)।
ওরস সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে কুতুব শরীফ দরবারের এন্তেজামিয়া কমিটির তত্ত্বাবধানে এবং স্থানীয় প্রসাশনের উদ্যোগে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে পুরো এলাকা। স্থাপন করা হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা এবং ভিডিও চিত্র ধারণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা। এদিকে,ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেচ্ছাসেবী, ভোলান্টিয়ার সহ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আগত মেহমানদের সুবিধার্থে খাবার, তবুরুক,আবাসন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ওষুধসহ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
বার্ষিক ফাতিহা উপলক্ষে পবিত্র খতমে কোরআন, হামদ, নাত ও ক্বিরাত প্রতিযোগিতা, মালেক শাহ হুজুরের জীবন ও কর্ম, এবং তাসাউফ ভিত্তিক আলোচনা ও সিরাত মাহফিল মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
১৯১১ সালের জুলাই মাসে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া দ্বীপের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে অতিধর্ম পরায়ন হাফেজ শামসুদ্দীন (রহ.) ও বদিউজ্জামালের উরসে জন্মগ্রহণ করেন।
২০০০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের মাঝিরঘাটে তাঁর এক ভক্তের বাসয় পরলোকগমন করেন।
চট্টগ্রামের প্যারেড ময়দানে তাঁর জনাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হলেও এনামাজের পরিধি দক্ষিণে নবাব সিরাজুদ্দৌলা সড়কের আন্দরকিল্লা মোড় উত্তরে চকবাজার গোলজার মোড় বাদুরতলা পেরিয়ে বহদ্দারহাট পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছিল।
লক্ষ লক্ষ ভক্তকের ধারণা তিনি শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও তাঁর আদর্শ, আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং সৃজনশীল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে এক জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে আছেন।
শিক্ষা জীবনে তিনি চট্টগ্রামের চন্দনপুরার বিখ্যাত প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুলউলুম আলীয়া মাদরাসা থেকে ফাজিল ডিগ্রী ও দেওবন্দ আলীয়া মাদরাসা থেকে গোল্ড মেড লিস্টে টাইটেল ডিগ্রী (কামিল) অর্জন করেন। তাফসীর হাদিস ইলমে ফিকাহে পারদর্শিতার জন্য তাকে বাহারুল উলুম উপাধী দেয়া হয়েছিল।














