| ২৬ জুন ২০২৬

চকরিয়ায় গর্তে পড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

চকরিয়ায় গর্তে পড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

 

মনিরুল আমিন চকরিয়া 

কক্সবাজরের চকরিয়ায় বাড়ির উঠানের পানি ভর্তি গর্তে পড়ে মোহাম্মদ নোমান ও জান্নাতুল ফেরদৌস নামের দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু মোহাম্মদ নোমান উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়ার আবদুল মাবুদের ছেলে ও একই এলাকার বেলাল উদ্দিনের শিশু মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস। তাদের উভয়ের বয়স পাঁচ বছর ।

নিহত শিশু নোমানের দাদা নুরুচ্ছফা বলেন,গত কয়েকদিন আগে বাড়ির পাশে উঠান থেকে মাটি কাটা হয়। এতে বড় এক গর্তের সৃষ্টি হয়। এই গর্তে পানি জমে ছোট্ট পুকুরের মতো সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন,বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টার দিকে নোমান ও জান্নাতুল ফোরদৌস ওই গর্তের পাশে খেলা করছিলো। খেলার চলে হঠাৎ করে দুইজন ওই পানি ভর্তি গর্তে পড়ে যায়। দূর থেকে ঘটনাটি কন্যা শিশু জন্নাতুল ফেরদৌসের মা দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে।

পরে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষনা করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল হক প্রকাশ সোনা মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ঘটনাটি শোনার পরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি চকরিয়া থানার ওসিকে জানানো হয়েছে। দুই শিশু পানি ভর্তি গর্তে পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাদের দাফনের প্রস্ততি চলছে।

কোনাখালীতে মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

চকরিয়ায় গর্তে পড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

 

নিজস্ব প্রতিবেদক 

কক্সবাজারের মাতামুহুরি উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে মাদক, গাঁজা, ইয়াবা, অনলাইন জুয়া, পতিতাবৃত্তি ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টার দিকে উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় যুব সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, যুবক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ বিস্তারে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। এতে পরিবার, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবুল কালাম, স্থানীয় আমির হোছাইন, মোজাদ্দিস, জামাল হোছাইন, আতা উদ্দিন ও হাকিম আলী প্রমুখ। বক্তারা বলেন, মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজ ও পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে স্থানীয় জনগণকে আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। ব্যানারে লেখা ছিল, মাদক নয়, জীবন চাই, সুস্থ সুন্দর আগামী চাই। এছাড়া মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপ নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি সমাজ থেকে মাদক ও অপরাধ দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার

চকরিয়ায় গর্তে পড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন  সহকারী কমিশনার ভূমি এস এম নুরুল আকতার নিলয়, অফিসার ইর্নচাজ মেহেদী হাসান, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান, রেঞ্জ কর্মকতা খালেকুজ্জামান, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন, মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী, বারবাকিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা বদিউল আলম, শিলখালী ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন, সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ আজাদ, পেকুয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আনসারী, জিএমসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মারুফা দিদা, সাংবাদিক সোহেল আজিম প্রমুখ। এসময় উপস্থিত ছিলেন
মাষ্টার রবিউল আলম, সাংবাদিক দেলোয়ার হোছাইন, সাংবাদিক বাহার উদ্দিন, সাংবাদিক মো.ইউনুস প্রমুখ।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, চুরি-ডাকাতি, কিশোর গ্যাং, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, যানজট নিরসন এবং জননিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সভায় বাজার এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, অবৈধ দখল উচ্ছেদাভিযান, দখল বেদখল প্রতিরোধ
এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা এবং একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদা আন্তরিক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। যে কোনো অপরাধ বা অনিয়মের তথ্য প্রশাসনকে জানাতে জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।
সভা শেষে উপজেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমন্বয় সভা অব্যাহত থাকবে বলে সভায় জানানো হয়।

৬ মাস যাবত ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই নারী!

পেকুয়ায় ভুয়া ডিজিএফআই পরিচয়দানকারী নারী আটক

চকরিয়ায় গর্তে পড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় নিজেকে ডিজিএফআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই নারীকে আটক করে পেকুয়া থানা পুলিশ। আটককৃত নারীর নাম হাছিনা আক্তার। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের গাছবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আবুল হাসেম ও বুলু আরার মেয়ে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাছিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে মগনামা এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী ও পরিষদের সকল সদস্য সচিবকে ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। দুজন ইউপি সদস্যকে ৫ মিনিটের ভিতর তার বাসায় গিয়ে দেখা করা চাল বিতরণের সময় বিভিন্ন অযুহাত দাড় করিয়ে চাল হাতিয়ে নেয়া বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যক্তিগত দূর্বলতা খুঁজে হয়রানি করা অভিযোগ রয়েছে ওই নারীর বিরুদ্ধে।
ওই নারী চন্দনাইশ থেকে পেকুয়ার মগনামা লঞ্চ ঘাটের পাশে রিদুয়ান নামক এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় ৬ মাস পূর্ব থেকে দুটি বাচ্চা সহ বসবাস করে আসছেন। তার স্বামী সেনা কর্মকর্তা দুবাই মিশনে আছেন তিনি এখানে ডিজিএফআইয়ের দায়িত্বে আছেন এমন পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, ওই নারীর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে ওই নারী ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছেন বলে নিশ্চিত হন তিনি। পরে মঙ্গলবার রাতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে আটক করে পেকুয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অধিকাংশ ইউপি সদস্যদের এই নারী কোনো এক দূরভী মিশন বাস্তবায়নের হীন প্রচেষ্টারত ছিলেন কিনা খতিয়ে দেখা দরকার। তাকে দিয়ে এখানে কোন দূষ্ঠ চক্র খেলছে কিনা তাও তদন্ত করার প্রয়োজন আছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “নিজেকে ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়দানকারী এক নারীকে মগনামা থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”