৩৮ লাক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেও মুক্তি মেলেনি
পেকুয়ায় মানবপাচারকারীর হাত থেকে ছেলেকে ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলনে মায়ের আকুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
পেকুয়ায় মানবপাচারকারীর হাত থেকে নিজ ছেলেকে ফেরত প্রদানের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজিয়া সোলতানা (কল্পনা) নামের এক অসহায় মা। সংঘবদ্ধ দালাল চক্র লিবিয়ায় আটকে রেখে মুক্তি পণ আদায় করে একটি চক্র আরেক চক্রের কাছে হস্তান্তর করে ৩৮ লক্ষ টাকা মুক্তি পণ আদায় করার পরও জিম্মি দশা থেকে এখনো মুক্তি পায়নি পেকুয়ার নাবিদুল। এদিকে সর্বশেষ ছেলেকে মুক্ত করতে না পেরে অপহরণ করে মুক্তি পণ আদায়ের সাথে জড়িত ১২ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত -৩ অসহায় মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। শনিবার বিকেলে পেকুয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে রাজিয়া সোলতানা কল্পনা বলেন, আমার ছেলে নাবিদুল ইসলাম ফাহিম (বাপ্পুকে) ইতালী নেওয়ার কথা বলে পেকুয়া সদরের উত্তর মেহেরনামা কাসিম আলীর ছেলে বাদশাহ ঢাকার ফকিরাপুলস্থ জোনাকী হোটেলে ১৫ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। ওই ১৫ লক্ষ টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা ডলার করে বিমানবন্দরে নিয়ে যায়। এরপর আমার ছেলে এক সপ্তাহ পর ফোন করে আমাকে ইতালি পাঠায়নি, লিবিয়া নিয়ে এসেছে। মামলার অপর আসামী আলফাজ জানায়, ছেলে ফাহিমের মা রাজিয়া সোলতানার দেওয়া ১৫ লক্ষ টাকা দালালেরা খেয়ে ফেলেছে। ইতালীতে পাঠাতে হলে আরও দশ লক্ষ টাকা দিতে হবে। এরপর ৩ নং আসামী মহিউদ্দিনের ভাবী শারমিন ও ফারুককে পেকুয়া বাজারে ১০ লক্ষ প্রদান করা হয়। ফের ৫ নং আসামী কাসেম মোবাইলে ফোন করে জানায়, আপনার ছেলেকে লিাবয়ার দালালচক্র আটক করে ফেলে। তাকে উদ্ধারের জন্য মো: ইউনুছ, কাসেম ও নুরুল হোছাইনের স্ত্রীকে ৩ লক্ষসহ মোট ১৩ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। ৩ নং আসামী মহিউদ্দিন ফের ১২ লক্ষ টাকা দাবী করছে। উক্ত টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেন এমনকি এ ঘটনায় মামলা করলে ওই ছেলের মা, পিতা, পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে হত্যা করে গুম করার হুমকি ধমকি প্রদান করছে। ছেলের মা কল্পনা আরো জানান, আসামীরা ছেলেকে লিবিয়া আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করছে। এ ঘটনায় পেকুয়া সদরের সিকদারপাড়ার এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া সোলতানা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-০৩ এ মামলা রুজু করে। যার সি.পি. মামলা নং ৩১১/২৫ ইং। উক্ত মামলা এফেয়ার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন। পেকুয়া থানার ওসি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৬-৭-৮-৯ ধারা মতে পেকুয়া থানায় মামলা নং ১৭ গত ২৭ নভেম্বর রুজু করা হয়। মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়। ইতিমধ্যে আবদুর রহিম, নুর আহমদের ছেলে মো: ফারুক, বদি আলমের ছেলে মো: ইউনুছ, আবুল খাইয়েরের পুত্র আমির হোসেন, নুর হোছাইনের স্ত্রী শামু, মো: কাসেমের স্ত্রী রুমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বাদী রাজিয়া সোলতানা কল্পনা জানান, তার ছেলে ফাহিমকে অপহরণকারী ও দালালচক্রের হাত থেকে ফেরত চান এবং মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিস্ট প্রশাসনের সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।













