| ২৪ জুন ২০২৬

৩৮ লাক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেও মুক্তি মেলেনি

পেকুয়ায় মানবপাচারকারীর হাত থেকে ছেলেকে ফিরে পেতে  সংবাদ সম্মেলনে মায়ের আকুতি

পেকুয়ায় মানবপাচারকারীর হাত থেকে ছেলেকে ফিরে পেতে  সংবাদ সম্মেলনে মায়ের আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
পেকুয়ায় মানবপাচারকারীর হাত থেকে নিজ ছেলেকে ফেরত প্রদানের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজিয়া সোলতানা (কল্পনা) নামের এক অসহায় মা। সংঘবদ্ধ দালাল চক্র লিবিয়ায় আটকে রেখে মুক্তি পণ আদায় করে একটি চক্র আরেক চক্রের কাছে হস্তান্তর করে ৩৮ লক্ষ টাকা মুক্তি পণ আদায় করার পরও জিম্মি দশা থেকে এখনো মুক্তি পায়নি পেকুয়ার নাবিদুল। এদিকে সর্বশেষ ছেলেকে মুক্ত করতে না পেরে অপহরণ করে মুক্তি পণ আদায়ের সাথে জড়িত ১২ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত -৩ অসহায় মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। শনিবার বিকেলে পেকুয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে  রাজিয়া সোলতানা কল্পনা বলেন, আমার ছেলে নাবিদুল ইসলাম ফাহিম (বাপ্পুকে) ইতালী নেওয়ার কথা বলে পেকুয়া সদরের উত্তর মেহেরনামা কাসিম আলীর ছেলে বাদশাহ ঢাকার ফকিরাপুলস্থ জোনাকী হোটেলে ১৫ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। ওই ১৫ লক্ষ টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা ডলার করে বিমানবন্দরে নিয়ে যায়। এরপর আমার ছেলে এক সপ্তাহ পর ফোন করে আমাকে ইতালি পাঠায়নি, লিবিয়া নিয়ে এসেছে। মামলার অপর আসামী আলফাজ জানায়, ছেলে ফাহিমের মা রাজিয়া সোলতানার দেওয়া ১৫ লক্ষ টাকা দালালেরা খেয়ে ফেলেছে। ইতালীতে পাঠাতে হলে আরও দশ লক্ষ টাকা দিতে হবে। এরপর ৩ নং আসামী মহিউদ্দিনের ভাবী শারমিন ও ফারুককে পেকুয়া বাজারে ১০ লক্ষ প্রদান করা হয়। ফের ৫ নং আসামী কাসেম মোবাইলে ফোন করে জানায়, আপনার ছেলেকে লিাবয়ার দালালচক্র আটক করে ফেলে। তাকে উদ্ধারের জন্য মো: ইউনুছ, কাসেম ও নুরুল হোছাইনের স্ত্রীকে ৩ লক্ষসহ মোট ১৩ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। ৩ নং আসামী মহিউদ্দিন ফের ১২ লক্ষ টাকা দাবী করছে। উক্ত টাকা না দিলে ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেন এমনকি এ ঘটনায় মামলা করলে ওই ছেলের মা, পিতা, পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে হত্যা করে গুম করার হুমকি ধমকি প্রদান করছে। ছেলের মা কল্পনা আরো জানান, আসামীরা ছেলেকে লিবিয়া আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করছে। এ ঘটনায় পেকুয়া সদরের সিকদারপাড়ার এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া সোলতানা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-০৩ এ মামলা রুজু করে। যার সি.পি. মামলা নং ৩১১/২৫ ইং। উক্ত মামলা এফেয়ার হিসেবে গ্রহণ করার জন্য পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন। পেকুয়া থানার ওসি মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ এর ৬-৭-৮-৯ ধারা মতে পেকুয়া থানায় মামলা নং ১৭ গত ২৭ নভেম্বর রুজু করা হয়। মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়। ইতিমধ্যে আবদুর রহিম, নুর আহমদের ছেলে মো: ফারুক, বদি আলমের ছেলে মো: ইউনুছ, আবুল খাইয়েরের পুত্র আমির হোসেন, নুর হোছাইনের স্ত্রী শামু, মো: কাসেমের স্ত্রী রুমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার বাদী রাজিয়া সোলতানা কল্পনা জানান, তার ছেলে ফাহিমকে অপহরণকারী ও দালালচক্রের হাত থেকে ফেরত চান এবং মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিস্ট প্রশাসনের সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

৬ মাস যাবত ধাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই নারী!

পেকুয়ায় ভুয়া ডিজিএফআই পরিচয়দানকারী নারী আটক

পেকুয়ায় মানবপাচারকারীর হাত থেকে ছেলেকে ফিরে পেতে  সংবাদ সম্মেলনে মায়ের আকুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের পেকুয়ায় নিজেকে ডিজিএফআই কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে উপজেলার মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওই নারীকে আটক করে পেকুয়া থানা পুলিশ। আটককৃত নারীর নাম হাছিনা আক্তার। তিনি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের গাছবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মৃত আবুল হাসেম ও বুলু আরার মেয়ে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাছিনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডিজিএফআই সদস্য পরিচয় দিয়ে মগনামা এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী ও পরিষদের সকল সদস্য সচিবকে ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। দুজন ইউপি সদস্যকে ৫ মিনিটের ভিতর তার বাসায় গিয়ে দেখা করা চাল বিতরণের সময় বিভিন্ন অযুহাত দাড় করিয়ে চাল হাতিয়ে নেয়া বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যক্তিগত দূর্বলতা খুঁজে হয়রানি করা অভিযোগ রয়েছে ওই নারীর বিরুদ্ধে।
ওই নারী চন্দনাইশ থেকে পেকুয়ার মগনামা লঞ্চ ঘাটের পাশে রিদুয়ান নামক এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় ৬ মাস পূর্ব থেকে দুটি বাচ্চা সহ বসবাস করে আসছেন। তার স্বামী সেনা কর্মকর্তা দুবাই মিশনে আছেন তিনি এখানে ডিজিএফআইয়ের দায়িত্বে আছেন এমন পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, ওই নারীর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক মনে হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে ওই নারী ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছেন বলে নিশ্চিত হন তিনি। পরে মঙ্গলবার রাতে তাকে ইউনিয়ন পরিষদে আটক করে পেকুয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অধিকাংশ ইউপি সদস্যদের এই নারী কোনো এক দূরভী মিশন বাস্তবায়নের হীন প্রচেষ্টারত ছিলেন কিনা খতিয়ে দেখা দরকার। তাকে দিয়ে এখানে কোন দূষ্ঠ চক্র খেলছে কিনা তাও তদন্ত করার প্রয়োজন আছে।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “নিজেকে ডিজিএফআই সদস্য পরিচয়দানকারী এক নারীকে মগনামা থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পোকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি

পেকুয়ায় মানবপাচারকারীর হাত থেকে ছেলেকে ফিরে পেতে  সংবাদ সম্মেলনে মায়ের আকুতি

মনিরুল আমিন.চকরিয়া

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নের পোকখালী রেড ক্রিসেন্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ২ টার দিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের তালা ভেঙে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান শিক্ষা উপকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

প্রধান শিক্ষক মোঃ মিনহাজ উদ্দিন জানান,চোরেরা শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ,প্রজেক্টর, সিসিটিভি ক্যামেরা,ইন্টারনেট রাউটার,ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার সরঞ্জামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে। আজ সকালে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে এসে তিনি দেখতে পান চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ চুরির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক বলেন,এ বিষয়ে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান,একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এতে শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়নি,বরং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আম-কাঁঠাল নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ফেরার পরদিন নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পেকুয়ায় মানবপাচারকারীর হাত থেকে ছেলেকে ফিরে পেতে  সংবাদ সম্মেলনে মায়ের আকুতি

বাহার উদ্দিন

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় কাজল রেখা (১৯) নামে এক নববধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত কাজল রেখা পেকুয়া পৌরসভার উত্তর গোয়াখালী এলাকার গ্রাম পুলিশ জসিম উদ্দিনের মেয়ে। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি উপজেলার মুরাপাড়া এলাকার রাজু ইসলাম রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিশেষ করে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে প্রায় ১৫ দিন আগে কাজল রেখা বাবার বাড়িতে চলে যান।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে বাবার বাড়ি থেকে আম ও কাঁঠাল নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। পরদিন শনিবার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।

নিহতের ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আমার বোনকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে গেছে।

পেকুয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।