পেকুয়ায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে ডিসি কক্সবাজার জেলা

সিনিয়র প্রতিবেদক, বেলাভূমি :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দূর্গোৎসবের মহা নবমীতে কেন্দ্রীয় সার্বজনীন দূর্গা মন্দির পরিদর্শন করলেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আবদুল মান্নান।
বুধবার ( ১ অক্টোবর) সন্ধা ৬ টায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিশ্বাস বাড়ি কেন্দ্রীয় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরে তিনি শীলপাড়া ও বারবাকিয়া নাথপাড়া শিলখালী কাছারি মুড়া পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
এ সময় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইদুজ্জামান চৌধুরী, পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মঈনুল হোসেন চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুর রহমান, পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুর পেয়ারা বেগম, পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সিরাজুল মোস্তফা,পেকুয়া কেন্দ্রীয় দুর্গা উৎসবের সভাপতি শিমুল বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক গৌতম বিশ্বাসসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এসময় জেলা প্রশাসক দূর্গা পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনে আগত দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে খোঁজ খবর নেন। তিনি নিরাপত্তার বিষয়ে যেন কোন বিঘ্ন না ঘটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন।
এবারে শারদীয় দূর্গোৎসবে পেকুয়া উপজেলায় ৬ টি প্রতিমা পূজা এবং ৩ টি ঘট পূজার মাধ্যমে ৯ টি মণ্ডপে পূর্জা উদযাপন হচ্ছে।

উল্লেখ্য , সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার চতুর্থ দিন মহানবমী। আগামীকাল বিজয়াদশমী। সপ্তমী পেরিয়ে মহানবমীতে দেবীর বিদায় ঘণ্টা শুরু। দশমীতে কৈলাশে (স্বামীর বাড়ি) ফিরে যাবেন দেবী দুর্গা। এদিন বিশেষ কোনও পর্ব না থাকলেও সকালে তর্পণে দুর্গার মহাস্নান হবে, ষোড়শ উপচারে পূজা করা হবে। নবমীর সন্ধ্যায় দেবীদুর্গার ‘মহাআরতি’ করা হয়। মহানবমীতে বলিদান ও নবমী হোমের রীতি রয়েছে। এদিন ১০৮টি নীলপদ্মে পূজা হবে দেবীদুর্গার। পূজা শেষে যথারীতি থাকবে অঞ্জলি নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ।
নবমী তিথি শুরুই হয় সন্ধিপূজা দিয়ে। সন্ধিপূজা হয় অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমীর সূচনার প্রথম ২৪ মিনিটজুড়ে। মূলত দেবী চামুন্ডার পূজা হয় এই সময়ে। ১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে ও ১০৮টি পদ্মফুল নিবেদন করা হয় দেবীর চরণে। আর ঠিক এই কারণে পূজার মন্ত্রেও সেই বিশেষত্ব উল্লেখ করা হয়েছে।
মহানবরাত্রিতে দেবীদুর্গার আরাধনার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যদিও সারা বছর ধরে যে উৎসবের জন্য অপেক্ষা করা হয়, তার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেয় এই নবমী নিশি। তাই নবমী নিশিকে সবাই ধরে রাখতে আকুতি জানায়। বাজতে থাকে একটাই সুর ‘ওরে নবমী-নিশি, না হইও রে অবসান’।
পুরোহিতদের মতে, মহানবমীতে ভক্তদের দেওয়া ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্মে পূজা হবে দেবীদুর্গার। এছাড়া আজ নীলকণ্ঠ, নীল অপরাজিতা ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে মহানবমীর বিহিতপূজা হবে।
জানা যায়, মহানবমীর দিনে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবীদুর্গার কাছে আহুতি দেওয়া হবে। ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে এই যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীদুর্গাকে বিদায় জানাবেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।












