| ১১ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭% জামায়াত ৩১.৭৬% এনসিপি ৩.০৩% ভোট পেয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭% জামায়াত ৩১.৭৬% এনসিপি ৩.০৩% ভোট পেয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ২৯০ আসনে দলীয় প্রার্থী ছিল।
    ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। তাদের প্রার্থী ছিল ২২৭টি আসনে।
  • আজ রোববার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার সাংবাদিকদের জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের হারে তৃতীয় অবস্থানে আছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ৩২ আসনে প্রার্থী দিয়ে তারা পেয়েছে ৩ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোট। এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করেছে।
    গত তিন সংসদে বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টি (জাপা) ১৯৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তারা লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট।
    এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৭ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। হাতপাখা প্রতীকে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
    ১১-দলীয় ঐক্যে থাকা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।
    অন্য দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের হার ১ শতাংশের নিচে। এসব দলের মধ্যে আছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণসংহতি আন্দোলন, বাসদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী), গণফোরাম ও নাগরিক ঐক্য।

স্কুলছাত্রী অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭% জামায়াত ৩১.৭৬% এনসিপি ৩.০৩% ভোট পেয়েছে

এইচ, এম শহীদুল ইসলাম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে স্কুলে যাওয়ার পথে গলায় ছুরি ধরে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে। একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পেকুয়া থানা সূত্রে জানাযায় সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা এলাকায় সালাউদ্দিন ব্রিজের সামনে থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শীলখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়ির জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় অভিযুক্ত যুবক মোহাম্মদ আবিদ (১৯) ও তার দুই সহযোগী গলায় ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে একটি টমটম অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ার চেষ্টা করছে। পরে পেকুয়া চৌমুহনী এলাকায় একটি পরিবহণ কাউন্টারের সামনে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।
পরে খবর পেয়ে পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সায়েদুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবিদকে আটক করেন। অভিযুক্ত আবিদের বাড়ি পেকুয়া সদর গোয়াখালী বলে জানা যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরুল হাসান বলেছেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষে একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে ওই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবিদকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।’

মহেশখালীতে বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস পালন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭% জামায়াত ৩১.৭৬% এনসিপি ৩.০৩% ভোট পেয়েছে

 

সরওয়ার কামাল মহেশখালী

নতুন দিনের অঙ্গীকার, স্কাউটিং হউক সবার” – এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মহেশখালীতে বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস পালন করা হয়েছে। ৮ই এপ্রিল সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়।
র‌্যালী শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ স্কাউটস মহেশখালী উপজেলার সভাপতি ইমরান মাহমুদ ডালিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে স্কাউটস অপরিহার্য। শিক্ষার্থীর সুন্দর জীবন গড়তে স্কাউটিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।
এসময় উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক, উপজেলা স্কাউটস সম্পাদক এম গিয়াস উদ্দিন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রে চিকিৎসা না পেয়ে রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যূ অভিযোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭% জামায়াত ৩১.৭৬% এনসিপি ৩.০৩% ভোট পেয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনে মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র (জিকে)-এর বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলায় এক রোহিঙ্গা নারীর মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে এবার এক রোহিঙ্গা তরুণীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, যা ক্যাম্পজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) অসুস্থ্য সুমাইয়া আক্তারকে নিয়ে তার বাবা মোহাম্মদ সেলিম গণস্বাস্থ্য পরিচালিত হাসপাতালে যান। সেখানে প্রথমেই গেটের নিরাপত্তাকর্মী তাদের প্রবেশে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে অনেক অনুরোধের পর হাসপাতালে ঢুকতে পারলেও তাদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক রোগীকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও চিকিৎসা না পাওয়ায় সুমাইয়ার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই অচেতন হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি গুরুতর দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে নিকটবর্তী এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সুমাইয়ার মৃত্যু হয়—একটি মৃত্যু, যা এখন প্রশ্ন তুলছে মানবিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা নিয়ে।

অভিযোগের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল, তবে তারা চিকিৎসককে না জানিয়েই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। ফলে তাদের পক্ষে আর কিছু করার ছিল না।

তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও অন্যান্য উপকারভোগীরা এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় অবহেলার কারণেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে এবং বাধ্য হয়েই তারা অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

উল্লেখ্য, এর আগেও একই হাসপাতালে আলিশা নামের ১০ মাস বয়সী এক শিশুর জরুরি চিকিৎসার জন্য গেলে তাদের অপেক্ষা করিয়ে রাখে এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে।পরে অন্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেয় তারাও।এছাড়া ডিউটি চিকিৎসক শিমুলের বিরুদ্ধে উপকারভোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি রোগীদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এসব বিষয়ে তারা ক্যাম্প ৪ এক্সটেনশনের সিআইসি অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া পাননি।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী পরিবার এবং ক্যাম্পবাসীদের দাবি, এমন অমানবিক আচরণকারী চিকিৎসকদের দ্রুত অপসারণ করে মানবিক ও দায়িত্বশীল সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তারা চান, ভবিষ্যতে যেন কোনো মা-বাবাকে চিকিৎসার অভাবে সন্তানের প্রাণ হারানোর বেদনা সহ্য করতে না হয়।

মানবিক সংকটে থাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা শুধু একটি সেবা নয়, বরং বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। সেই ভরসা যদি বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়—বরং একটি বড় মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।